ঢাকা ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সোনার বাংলার মানুষ কাকে বলা হয়, চিনবেন এদের কে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪ ৫৩ বার পড়া হয়েছে

গোল্ডেন হার্ট’ বা বাংলায় যাকে বলে ‘স্বর্ণহৃদয়’, আরও সহজভাবে বলতে গেলে ‘সোনার মানুষ’। সত্যজিৎ রায়ের ‘সোনার কেল্লা’য় ফেলুদা তোপসেকে কী বলেছিল মনে আছে? সোনার কেল্লা খুঁজতে গিয়ে তোপসে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আচ্ছা, সোনার কেল্লা কি সত্যিই আছে?’ ফেলুদা উত্তর দিয়েছিল, ‘এ রকম কেল্লা ভূ-ভারতে আছে বলে তো শুনিনি।’ তোপসে আবার জিজ্ঞেস করেছিল, ‘তাহলে?’ ফেলুদার জবাব ছিল, ‘তাহলে একটু মাথা খাটাতে হবে। সোনার ফসল মানে কি সোনা দিয়ে তৈরি ফসল? সোনার ছেলে, সোনার বাংলা—এসব কি সোনা দিয়ে তৈরি?’ ঠিক একইভাবে, স্বর্ণহৃদয় বা সোনার মানুষ মানে সোনা দিয়ে তৈরি নয়। তাহলে কী করলে বা কোন কোন গুণ থাকলে মানুষ স্বর্ণহৃদয়ের অধিকারী হয়? এমন মানুষ আশপাশে থাকলে জীবনের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হয়ে যায়। চলুন, জেনে নিই আটটি গুণের কথা, যা দেখে বুঝতে পারা যায় কে সোনার মানুষ

১. উদারতা
বিভিন্ন মুহূর্তে বা কাজের মাধ্যমে এ ধরনের মানুষের উদারচিত্তের প্রকাশ ঘটে। অনেক সময় আমাদের দৃষ্টিতে নগণ্য মনে হলেও সহানুভূতিশীল কিছু কাজের মাধ্যমে তাঁরা অন্যদের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। মন খারাপের সময় একটি মিষ্টি হাসি দিয়ে, দরকারি মুহূর্তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে, কিংবা হতাশার সময়ে উৎসাহ দিয়ে পাশে থাকেন। তাঁদের এই উদারতায় কোনো ভেজাল থাকে না।

২. সহানুভূতিশীলতা
এ ধরনের মানুষ অত্যন্ত সহানুভূতিশীল হন এবং তাঁদের বুদ্ধিমত্তা প্রখর। বুদ্ধিমত্তা হলো নিজের ও আশপাশের মানুষের অনুভূতিকে সহজেই অনুধাবন করতে পারা। স্বর্ণহৃদয়ের মানুষেরা অন্যদের বেদনা, অনুভূতি ও সংগ্রামের সঙ্গে সহজে একাত্ম হতে পারেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে অন্যের বিপদের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

৩. নিঃস্বার্থতা
এ ধরনের মানুষ কেবল নিজের কথা ভাবেন না, প্রয়োজনে অন্যকে অগ্রাধিকার দেন। অন্যের প্রয়োজন ও ভালোকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা অপরিমেয় নিঃস্বার্থতার পরিচয় দেন। বলা বাহুল্য, বিনিময়ে তাঁরা কিছুই পাওয়ার আশাও করেন না। প্রিয়জনদের ভালো করার অকৃত্রিম আকাঙ্ক্ষা থেকেই তাঁরা এমন নিঃস্বার্থ হন।

৪. সততা
স্বর্ণহৃদয়ের মানুষরা ব্যক্তিগত কিংবা পেশাগত জীবনের সব ক্ষেত্রে সততা মেনে চলেন। যত ক্ষুদ্র কাজই হোক না কেন, তাঁরা তা শতভাগ সততার সঙ্গে করেন। এমনকি অন্যদেরও সৎ থাকার পরামর্শ ও পথনির্দেশ দেন। ফলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁদের ওপর সহজেই ভরসা করা যায়।

৫. মহত্ত্ব
এ ধরনের মানুষ তাঁদের সময়, সম্পদ ও প্রতিভাকে অন্যদের সহযোগিতায় ব্যয় করেন। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, বন্ধুর বিপদ, প্রতিবেশীর সমস্যা কিংবা অপরিচিত বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে তাঁরা সবার আগে দাঁড়ান। তাঁদের সহযোগিতার হাত সর্বদা প্রসারিত থাকে। এমন মানুষরাই মূলত সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

৬. ধৈর্য
ধৈর্যও তাঁদের অন্যতম মহৎ গুণ। যেকোনো পরিস্থিতিতে তাঁরা শান্ত ও সংযত থাকতে পারেন। এর মানে এই নয় যে তাঁরা অসৌজন্যমূলক কোনো ব্যাপার মেনে নেন। বরং তাঁরা অসৌজন্যমূলক আচরণের পেছনের কারণ বোঝার চেষ্টা করেন। তাঁরা মানুষকে চট করে বিচার করেন না, বরং কীভাবে বিষয়টি ভালোভাবে সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবেন।

৭. ক্ষমা
স্বর্ণহৃদয়ের মানুষ ক্ষমাশীল হন। তাঁরা বোঝেন যে ক্ষোভ, নেতিবাচক মনোভাব ও বিরক্তি সবার জন্যই ক্ষতিকর। ভুল ও অপরাধ ক্ষমা করার ক্ষেত্রে তাঁরা উদারচিত্ত। এ ধরনের মানুষ কখনো ক্ষোভ পুষে রাখেন না, বরং ভালোবাসা ও সম্মানকে মূল্য দেন। তবে এ মানে নয় যে তাঁদের আত্মসম্মানের ঘাটতি থাকে।

৮. সহমর্মিতা
সহমর্মিতা এই ধরনের মানুষের ব্যক্তিত্বের অন্যতম উপাদান। তাঁদের মধ্যে অন্যের অনুভূতি বোঝার এবং তা ভাগ করে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা থাকে। এর মাধ্যমে মানসিকভাবে অন্যের সঙ্গে তাঁদের সংযোগ তৈরি হয়। এ কারণেই অন্যের কঠিন সময় ও পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তাঁরা সহজেই সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

সোনার বাংলার মানুষ কাকে বলা হয়, চিনবেন এদের কে

আপডেট সময় : ১১:১৪:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪

গোল্ডেন হার্ট’ বা বাংলায় যাকে বলে ‘স্বর্ণহৃদয়’, আরও সহজভাবে বলতে গেলে ‘সোনার মানুষ’। সত্যজিৎ রায়ের ‘সোনার কেল্লা’য় ফেলুদা তোপসেকে কী বলেছিল মনে আছে? সোনার কেল্লা খুঁজতে গিয়ে তোপসে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আচ্ছা, সোনার কেল্লা কি সত্যিই আছে?’ ফেলুদা উত্তর দিয়েছিল, ‘এ রকম কেল্লা ভূ-ভারতে আছে বলে তো শুনিনি।’ তোপসে আবার জিজ্ঞেস করেছিল, ‘তাহলে?’ ফেলুদার জবাব ছিল, ‘তাহলে একটু মাথা খাটাতে হবে। সোনার ফসল মানে কি সোনা দিয়ে তৈরি ফসল? সোনার ছেলে, সোনার বাংলা—এসব কি সোনা দিয়ে তৈরি?’ ঠিক একইভাবে, স্বর্ণহৃদয় বা সোনার মানুষ মানে সোনা দিয়ে তৈরি নয়। তাহলে কী করলে বা কোন কোন গুণ থাকলে মানুষ স্বর্ণহৃদয়ের অধিকারী হয়? এমন মানুষ আশপাশে থাকলে জীবনের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হয়ে যায়। চলুন, জেনে নিই আটটি গুণের কথা, যা দেখে বুঝতে পারা যায় কে সোনার মানুষ

১. উদারতা
বিভিন্ন মুহূর্তে বা কাজের মাধ্যমে এ ধরনের মানুষের উদারচিত্তের প্রকাশ ঘটে। অনেক সময় আমাদের দৃষ্টিতে নগণ্য মনে হলেও সহানুভূতিশীল কিছু কাজের মাধ্যমে তাঁরা অন্যদের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। মন খারাপের সময় একটি মিষ্টি হাসি দিয়ে, দরকারি মুহূর্তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে, কিংবা হতাশার সময়ে উৎসাহ দিয়ে পাশে থাকেন। তাঁদের এই উদারতায় কোনো ভেজাল থাকে না।

২. সহানুভূতিশীলতা
এ ধরনের মানুষ অত্যন্ত সহানুভূতিশীল হন এবং তাঁদের বুদ্ধিমত্তা প্রখর। বুদ্ধিমত্তা হলো নিজের ও আশপাশের মানুষের অনুভূতিকে সহজেই অনুধাবন করতে পারা। স্বর্ণহৃদয়ের মানুষেরা অন্যদের বেদনা, অনুভূতি ও সংগ্রামের সঙ্গে সহজে একাত্ম হতে পারেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে অন্যের বিপদের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

৩. নিঃস্বার্থতা
এ ধরনের মানুষ কেবল নিজের কথা ভাবেন না, প্রয়োজনে অন্যকে অগ্রাধিকার দেন। অন্যের প্রয়োজন ও ভালোকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা অপরিমেয় নিঃস্বার্থতার পরিচয় দেন। বলা বাহুল্য, বিনিময়ে তাঁরা কিছুই পাওয়ার আশাও করেন না। প্রিয়জনদের ভালো করার অকৃত্রিম আকাঙ্ক্ষা থেকেই তাঁরা এমন নিঃস্বার্থ হন।

৪. সততা
স্বর্ণহৃদয়ের মানুষরা ব্যক্তিগত কিংবা পেশাগত জীবনের সব ক্ষেত্রে সততা মেনে চলেন। যত ক্ষুদ্র কাজই হোক না কেন, তাঁরা তা শতভাগ সততার সঙ্গে করেন। এমনকি অন্যদেরও সৎ থাকার পরামর্শ ও পথনির্দেশ দেন। ফলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁদের ওপর সহজেই ভরসা করা যায়।

৫. মহত্ত্ব
এ ধরনের মানুষ তাঁদের সময়, সম্পদ ও প্রতিভাকে অন্যদের সহযোগিতায় ব্যয় করেন। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, বন্ধুর বিপদ, প্রতিবেশীর সমস্যা কিংবা অপরিচিত বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে তাঁরা সবার আগে দাঁড়ান। তাঁদের সহযোগিতার হাত সর্বদা প্রসারিত থাকে। এমন মানুষরাই মূলত সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

৬. ধৈর্য
ধৈর্যও তাঁদের অন্যতম মহৎ গুণ। যেকোনো পরিস্থিতিতে তাঁরা শান্ত ও সংযত থাকতে পারেন। এর মানে এই নয় যে তাঁরা অসৌজন্যমূলক কোনো ব্যাপার মেনে নেন। বরং তাঁরা অসৌজন্যমূলক আচরণের পেছনের কারণ বোঝার চেষ্টা করেন। তাঁরা মানুষকে চট করে বিচার করেন না, বরং কীভাবে বিষয়টি ভালোভাবে সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবেন।

৭. ক্ষমা
স্বর্ণহৃদয়ের মানুষ ক্ষমাশীল হন। তাঁরা বোঝেন যে ক্ষোভ, নেতিবাচক মনোভাব ও বিরক্তি সবার জন্যই ক্ষতিকর। ভুল ও অপরাধ ক্ষমা করার ক্ষেত্রে তাঁরা উদারচিত্ত। এ ধরনের মানুষ কখনো ক্ষোভ পুষে রাখেন না, বরং ভালোবাসা ও সম্মানকে মূল্য দেন। তবে এ মানে নয় যে তাঁদের আত্মসম্মানের ঘাটতি থাকে।

৮. সহমর্মিতা
সহমর্মিতা এই ধরনের মানুষের ব্যক্তিত্বের অন্যতম উপাদান। তাঁদের মধ্যে অন্যের অনুভূতি বোঝার এবং তা ভাগ করে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা থাকে। এর মাধ্যমে মানসিকভাবে অন্যের সঙ্গে তাঁদের সংযোগ তৈরি হয়। এ কারণেই অন্যের কঠিন সময় ও পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তাঁরা সহজেই সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেন।