ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সাইবার হামলার ধরন এবং প্রতিরোধের উপায়

সাইবার সিকিউরিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

সাইবার সিকিউরিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

সাইবার সিকিউরিটি, অর্থাৎ সাইবার নিরাপত্তা, হল ইন্টারনেট বা সাইবার স্পেসে আমাদের তথ্য, ডিভাইস, নেটওয়ার্ক এবং সিস্টেমগুলিকে সুরক্ষিত রাখার প্রক্রিয়া। আধুনিক যুগে সাইবার নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের সাইবার আক্রমণ হতে পারে, যা ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক তথ্য চুরি, সিস্টেম ধ্বংস এবং নেটওয়ার্ক ব্যাহত করতে পারে।

ফেসবুকে সাইবার হামলা একটি সাধারণ এবং গুরুতর সমস্যা। ফেসবুকে সাইবার হামলা মোকাবিলা করার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচে আলোচনা করা হয়েছে:

সাইবার সিকিউরিটির ধারণা

সাইবার সিকিউরিটি মূলত তিনটি প্রধান স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়:

  1. প্রতিরক্ষা (Prevention): সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যেমন অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার, ফায়ারওয়াল, এনক্রিপশন ইত্যাদি।
  2. সনাক্তকরণ (Detection): সাইবার আক্রমণ বা নিরাপত্তা লঙ্ঘন সনাক্ত করার জন্য নেটওয়ার্ক মনিটরিং, লগ অ্যানালাইসিস এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
  3. প্রতিক্রিয়া (Response): সাইবার আক্রমণের পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং সিস্টেম পুনরুদ্ধার করা হয়।

ফেসবুকে সাইবার হামলার সাধারণ ধরন

ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের সাইবার হামলা হতে পারে। কিছু সাধারণ হামলার ধরন নিম্নরূপ:

  1. ফিশিং (Phishing): ফিশিং আক্রমণে আক্রমণকারী একটি বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে আসা মেসেজ বা ইমেইলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য যেমন পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ড তথ্য ইত্যাদি চুরি করার চেষ্টা করে।
  2. ম্যালওয়্যার (Malware): ম্যালওয়্যার একটি ক্ষতিকারক সফটওয়্যার যা ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে প্রবেশ করে এবং তাদের তথ্য চুরি করে বা সিস্টেম ধ্বংস করে।
  3. ব্রুট ফোর্স আক্রমণ (Brute Force Attack): এই আক্রমণে আক্রমণকারী বারবার বিভিন্ন পাসওয়ার্ড চেষ্টা করে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার চেষ্টা করে।
  4. ফেক প্রোফাইল (Fake Profiles): আক্রমণকারী ফেসবুকে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে এবং আসল প্রোফাইলের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতারণা করার চেষ্টা করে।

ফেসবুকে সাইবার হামলা মোকাবিলার পদ্ধতি

ফেসবুকে সাইবার হামলা মোকাবিলা করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। নিম্নে এসব পদক্ষেপের আলোচনা করা হল:

  1. দৃঢ় পাসওয়ার্ড ব্যবহার:
  • আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডটি দৃঢ় এবং জটিল হওয়া উচিত। পাসওয়ার্ডে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করুন।
  • প্রতি ছয় মাসে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং একই পাসওয়ার্ড অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করবেন না।
  1. দুই-ধাপ প্রমাণীকরণ (Two-Factor Authentication):
  • ফেসবুকে দুই-ধাপ প্রমাণীকরণ সক্রিয় করুন। এটি একটি অতিরিক্ত সুরক্ষা স্তর যোগ করে যেখানে পাসওয়ার্ড ছাড়াও একটি কোড প্রয়োজন হয় যা আপনার মোবাইলে পাঠানো হয়।
  1. সন্দেহজনক লিঙ্ক এড়িয়ে চলুন:
  • ফেসবুকে সন্দেহজনক লিঙ্ক বা মেসেজে ক্লিক করবেন না। ফিশিং আক্রমণের শিকার হতে পারেন এমন লিঙ্ক থেকে দূরে থাকুন।
  • অপরিচিত বা সন্দেহজনক প্রোফাইল থেকে আসা মেসেজ এড়িয়ে চলুন।
  1. নিয়মিত অ্যাকাউন্ট চেক করুন:
  • নিয়মিত আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সেটিংস চেক করুন এবং অজানা ডিভাইস বা অবস্থান থেকে লগইন হয়েছে কিনা তা দেখুন।
  • কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপ সনাক্ত করলে সাথে সাথে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
  1. নিরাপত্তা সতর্কতা:
  • ফেসবুক নিরাপত্তা সতর্কতা সেট করুন যাতে আপনার অ্যাকাউন্টে কোন সন্দেহজনক কার্যকলাপ হলে সাথে সাথে জানতে পারেন।
  • এই সতর্কতাগুলি ইমেইল বা মোবাইল নোটিফিকেশনের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
  1. অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার:
  • আপনার ডিভাইসে সর্বদা আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করুন। এটি ম্যালওয়্যার এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক সফটওয়্যার থেকে আপনার ডিভাইসকে রক্ষা করবে।
  1. প্রাইভেসি সেটিংস আপডেট করুন:
  • ফেসবুক প্রাইভেসি সেটিংস আপডেট করুন এবং আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কারা দেখতে পাবে তা নির্ধারণ করুন।
  • প্রাইভেসি সেটিংসে আপনার পোস্ট, ছবি, এবং ব্যক্তিগত তথ্য কাদের সাথে শেয়ার করবেন তা নিয়ন্ত্রণ করুন।
  1. ফেক প্রোফাইল রিপোর্ট করুন:
  • ফেসবুকে ফেক প্রোফাইল দেখতে পেলে সাথে সাথে রিপোর্ট করুন। ফেসবুক প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং ফেক প্রোফাইল সরিয়ে দেয়।

সাইবার হামলা পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

সাইবার হামলার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে কিছু পদক্ষেপ দেয়া হলো যা সাইবার হামলার পর নেওয়া যেতে পারে:

  1. অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার:
  • সাইবার হামলার পর দ্রুত অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করুন এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
  • ফেসবুকের “Account Recovery” প্রক্রিয়া ব্যবহার করে আপনার অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করতে পারেন।
  1. নিরাপত্তা সেটিংস আপডেট:
  • হামলার পর আপনার ফেসবুক নিরাপত্তা সেটিংস আপডেট করুন এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
  • সন্দেহজনক ডিভাইস এবং অবস্থান থেকে অ্যাক্সেস বন্ধ করুন।
  1. অ্যান্টিভাইরাস স্ক্যান:
  • সাইবার হামলার পর আপনার ডিভাইসে একটি পূর্ণ অ্যান্টিভাইরাস স্ক্যান চালান এবং ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকারক সফটওয়্যার সনাক্ত করুন।
  1. প্রাইভেসি সেটিংস চেক:
  • আপনার প্রাইভেসি সেটিংস চেক করুন এবং আপডেট করুন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার সম্ভাবনা কমে যায়।
  1. ফেসবুক সাপোর্টের সাথে যোগাযোগ:
  • যদি আপনি আপনার অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করতে না পারেন, তবে ফেসবুক সাপোর্টের সাথে যোগাযোগ করুন এবং সাহায্য চেয়ে আবেদন করুন।

সাইবার নিরাপত্তার জন্য সচেতনতা

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সচেতনতা। সাইবার হামলা এবং এর প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত এবং সর্বদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলা উচিত। নিম্নে কয়েকটি সচেতনতামূলক পদক্ষেপ দেয়া হলো:

  1. সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষিত হন:
  • সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষিত হন এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার হামলা এবং এর প্রতিরোধ সম্পর্কে জানুন।
  • বিভিন্ন সাইবার নিরাপত্তা কোর্স এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন।
  1. সচেতনতা প্রচার:
  • আপনার পরিবার, বন্ধু, এবং সহকর্মীদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা প্রচার করুন।
  • সামাজিক মাধ্যম এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করুন।
  1. নিয়মিত আপডেট:
  • আপনার সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপ্লিকেশন নিয়মিত আপডেট করুন।
  • আপডেটেড সফটওয়্যার নিরাপত্তা ফাঁক কমিয়ে দেয় এবং সাইবার হামলার ঝুঁকি কমায়।

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সবারই সচেতন হতে হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে। ফেসবুকে সাইবার হামলা প্রতিরোধ এবং মোকাবিলা করার জন্য উপরের পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে পারি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

সাইবার হামলার ধরন এবং প্রতিরোধের উপায়

সাইবার সিকিউরিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট সময় : ০৯:২৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

সাইবার সিকিউরিটি, অর্থাৎ সাইবার নিরাপত্তা, হল ইন্টারনেট বা সাইবার স্পেসে আমাদের তথ্য, ডিভাইস, নেটওয়ার্ক এবং সিস্টেমগুলিকে সুরক্ষিত রাখার প্রক্রিয়া। আধুনিক যুগে সাইবার নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের সাইবার আক্রমণ হতে পারে, যা ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক তথ্য চুরি, সিস্টেম ধ্বংস এবং নেটওয়ার্ক ব্যাহত করতে পারে।

ফেসবুকে সাইবার হামলা একটি সাধারণ এবং গুরুতর সমস্যা। ফেসবুকে সাইবার হামলা মোকাবিলা করার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচে আলোচনা করা হয়েছে:

সাইবার সিকিউরিটির ধারণা

সাইবার সিকিউরিটি মূলত তিনটি প্রধান স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়:

  1. প্রতিরক্ষা (Prevention): সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যেমন অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার, ফায়ারওয়াল, এনক্রিপশন ইত্যাদি।
  2. সনাক্তকরণ (Detection): সাইবার আক্রমণ বা নিরাপত্তা লঙ্ঘন সনাক্ত করার জন্য নেটওয়ার্ক মনিটরিং, লগ অ্যানালাইসিস এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
  3. প্রতিক্রিয়া (Response): সাইবার আক্রমণের পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং সিস্টেম পুনরুদ্ধার করা হয়।

ফেসবুকে সাইবার হামলার সাধারণ ধরন

ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের সাইবার হামলা হতে পারে। কিছু সাধারণ হামলার ধরন নিম্নরূপ:

  1. ফিশিং (Phishing): ফিশিং আক্রমণে আক্রমণকারী একটি বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে আসা মেসেজ বা ইমেইলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য যেমন পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ড তথ্য ইত্যাদি চুরি করার চেষ্টা করে।
  2. ম্যালওয়্যার (Malware): ম্যালওয়্যার একটি ক্ষতিকারক সফটওয়্যার যা ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে প্রবেশ করে এবং তাদের তথ্য চুরি করে বা সিস্টেম ধ্বংস করে।
  3. ব্রুট ফোর্স আক্রমণ (Brute Force Attack): এই আক্রমণে আক্রমণকারী বারবার বিভিন্ন পাসওয়ার্ড চেষ্টা করে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার চেষ্টা করে।
  4. ফেক প্রোফাইল (Fake Profiles): আক্রমণকারী ফেসবুকে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে এবং আসল প্রোফাইলের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতারণা করার চেষ্টা করে।

ফেসবুকে সাইবার হামলা মোকাবিলার পদ্ধতি

ফেসবুকে সাইবার হামলা মোকাবিলা করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। নিম্নে এসব পদক্ষেপের আলোচনা করা হল:

  1. দৃঢ় পাসওয়ার্ড ব্যবহার:
  • আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডটি দৃঢ় এবং জটিল হওয়া উচিত। পাসওয়ার্ডে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করুন।
  • প্রতি ছয় মাসে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং একই পাসওয়ার্ড অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করবেন না।
  1. দুই-ধাপ প্রমাণীকরণ (Two-Factor Authentication):
  • ফেসবুকে দুই-ধাপ প্রমাণীকরণ সক্রিয় করুন। এটি একটি অতিরিক্ত সুরক্ষা স্তর যোগ করে যেখানে পাসওয়ার্ড ছাড়াও একটি কোড প্রয়োজন হয় যা আপনার মোবাইলে পাঠানো হয়।
  1. সন্দেহজনক লিঙ্ক এড়িয়ে চলুন:
  • ফেসবুকে সন্দেহজনক লিঙ্ক বা মেসেজে ক্লিক করবেন না। ফিশিং আক্রমণের শিকার হতে পারেন এমন লিঙ্ক থেকে দূরে থাকুন।
  • অপরিচিত বা সন্দেহজনক প্রোফাইল থেকে আসা মেসেজ এড়িয়ে চলুন।
  1. নিয়মিত অ্যাকাউন্ট চেক করুন:
  • নিয়মিত আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সেটিংস চেক করুন এবং অজানা ডিভাইস বা অবস্থান থেকে লগইন হয়েছে কিনা তা দেখুন।
  • কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপ সনাক্ত করলে সাথে সাথে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
  1. নিরাপত্তা সতর্কতা:
  • ফেসবুক নিরাপত্তা সতর্কতা সেট করুন যাতে আপনার অ্যাকাউন্টে কোন সন্দেহজনক কার্যকলাপ হলে সাথে সাথে জানতে পারেন।
  • এই সতর্কতাগুলি ইমেইল বা মোবাইল নোটিফিকেশনের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
  1. অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার:
  • আপনার ডিভাইসে সর্বদা আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করুন। এটি ম্যালওয়্যার এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক সফটওয়্যার থেকে আপনার ডিভাইসকে রক্ষা করবে।
  1. প্রাইভেসি সেটিংস আপডেট করুন:
  • ফেসবুক প্রাইভেসি সেটিংস আপডেট করুন এবং আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কারা দেখতে পাবে তা নির্ধারণ করুন।
  • প্রাইভেসি সেটিংসে আপনার পোস্ট, ছবি, এবং ব্যক্তিগত তথ্য কাদের সাথে শেয়ার করবেন তা নিয়ন্ত্রণ করুন।
  1. ফেক প্রোফাইল রিপোর্ট করুন:
  • ফেসবুকে ফেক প্রোফাইল দেখতে পেলে সাথে সাথে রিপোর্ট করুন। ফেসবুক প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং ফেক প্রোফাইল সরিয়ে দেয়।

সাইবার হামলা পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

সাইবার হামলার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে কিছু পদক্ষেপ দেয়া হলো যা সাইবার হামলার পর নেওয়া যেতে পারে:

  1. অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার:
  • সাইবার হামলার পর দ্রুত অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করুন এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
  • ফেসবুকের “Account Recovery” প্রক্রিয়া ব্যবহার করে আপনার অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করতে পারেন।
  1. নিরাপত্তা সেটিংস আপডেট:
  • হামলার পর আপনার ফেসবুক নিরাপত্তা সেটিংস আপডেট করুন এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
  • সন্দেহজনক ডিভাইস এবং অবস্থান থেকে অ্যাক্সেস বন্ধ করুন।
  1. অ্যান্টিভাইরাস স্ক্যান:
  • সাইবার হামলার পর আপনার ডিভাইসে একটি পূর্ণ অ্যান্টিভাইরাস স্ক্যান চালান এবং ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকারক সফটওয়্যার সনাক্ত করুন।
  1. প্রাইভেসি সেটিংস চেক:
  • আপনার প্রাইভেসি সেটিংস চেক করুন এবং আপডেট করুন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার সম্ভাবনা কমে যায়।
  1. ফেসবুক সাপোর্টের সাথে যোগাযোগ:
  • যদি আপনি আপনার অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করতে না পারেন, তবে ফেসবুক সাপোর্টের সাথে যোগাযোগ করুন এবং সাহায্য চেয়ে আবেদন করুন।

সাইবার নিরাপত্তার জন্য সচেতনতা

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সচেতনতা। সাইবার হামলা এবং এর প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত এবং সর্বদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলা উচিত। নিম্নে কয়েকটি সচেতনতামূলক পদক্ষেপ দেয়া হলো:

  1. সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষিত হন:
  • সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষিত হন এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার হামলা এবং এর প্রতিরোধ সম্পর্কে জানুন।
  • বিভিন্ন সাইবার নিরাপত্তা কোর্স এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন।
  1. সচেতনতা প্রচার:
  • আপনার পরিবার, বন্ধু, এবং সহকর্মীদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা প্রচার করুন।
  • সামাজিক মাধ্যম এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করুন।
  1. নিয়মিত আপডেট:
  • আপনার সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপ্লিকেশন নিয়মিত আপডেট করুন।
  • আপডেটেড সফটওয়্যার নিরাপত্তা ফাঁক কমিয়ে দেয় এবং সাইবার হামলার ঝুঁকি কমায়।

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সবারই সচেতন হতে হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে। ফেসবুকে সাইবার হামলা প্রতিরোধ এবং মোকাবিলা করার জন্য উপরের পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে পারি।