ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সংবাদপএের যদি স্বাধীনতা নিশ্চিত হতো দেশ দুর্নীতি করার কেউ সাহস পাইলোনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪ স্বাধীনতা নিশ্চিত হতো দেশ দুর্নীতি করতো পারলোনানে বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্র এমন ব্যবস্থা করবে যাতে কেউ অবৈধ উপার্জন করতে না পারে। কিন্তু দেশে এর বিপরীত চিত্রই দেখা যায়। এই ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিশ্চিত হলে, ক্ষমতায় থাকার সময় দুর্নীতিবাজেরা দুর্নীতি করার সাহস পেতেন না।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে দশম মানবাধিকার সম্মেলনে অতিথিরা এ কথা বলেন। দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি।

সম্মেলনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক মহাপরিচালক মইদুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র এমন ব্যবস্থা করবে যাতে কেউ অবৈধ উপার্জন করতে না পারে। কিন্তু আমরা এর বিপরীত চিত্র দেখতে পাচ্ছি। এবারের বাজেটে করের হার কমিয়ে দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যাঁদের সাদা টাকা রয়েছে, তাঁদের করের হার বেশি। এটি সংবিধানের পরিপন্থী।’

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা মো. নূর খান মনে করেন, দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। তিনি সরকারের কাছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালানোর দাবি জানান। সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশ নিয়ে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তারা ব্যক্তির দায় নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের বড় সংকট হলো কথা বলার ক্ষেত্রে যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে অনেক গোপন বিষয় প্রকাশ্যে আসছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলে সরকারের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলো ঘটত না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁদের কর্মকাণ্ড কেন প্রকাশ পায়নি? কারণ, সবাই তাঁদের কাছে কুক্ষিগত ছিল। এ জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিশ্চিত হলে ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতিবাজরা দুর্নীতি করার সাহস পেতেন না।

সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, যেখানে ভোটাধিকার নেই, সেখানে নির্বাচনও হয় না, এবং অন্যান্য অধিকারও নিশ্চিত করা যায় না।

সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, ‘এবারের নির্বাচনের পর থেকে ভোটাধিকার নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার। আমাদের ভোটাধিকার না থাকায় গণতন্ত্র শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।’

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির চেয়ারপারসন শাহজাদা আল আমীন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির প্রোগ্রাম অফিসার মো. সানিকুদরাত সাকির। এ সময় আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা কামাল আহমেদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

সংবাদপএের যদি স্বাধীনতা নিশ্চিত হতো দেশ দুর্নীতি করার কেউ সাহস পাইলোনা

আপডেট সময় : ০৫:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪

বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্র এমন ব্যবস্থা করবে যাতে কেউ অবৈধ উপার্জন করতে না পারে। কিন্তু দেশে এর বিপরীত চিত্রই দেখা যায়। এই ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিশ্চিত হলে, ক্ষমতায় থাকার সময় দুর্নীতিবাজেরা দুর্নীতি করার সাহস পেতেন না।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে দশম মানবাধিকার সম্মেলনে অতিথিরা এ কথা বলেন। দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি।

সম্মেলনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক মহাপরিচালক মইদুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র এমন ব্যবস্থা করবে যাতে কেউ অবৈধ উপার্জন করতে না পারে। কিন্তু আমরা এর বিপরীত চিত্র দেখতে পাচ্ছি। এবারের বাজেটে করের হার কমিয়ে দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যাঁদের সাদা টাকা রয়েছে, তাঁদের করের হার বেশি। এটি সংবিধানের পরিপন্থী।’

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা মো. নূর খান মনে করেন, দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। তিনি সরকারের কাছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালানোর দাবি জানান। সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশ নিয়ে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তারা ব্যক্তির দায় নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের বড় সংকট হলো কথা বলার ক্ষেত্রে যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে অনেক গোপন বিষয় প্রকাশ্যে আসছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলে সরকারের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলো ঘটত না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁদের কর্মকাণ্ড কেন প্রকাশ পায়নি? কারণ, সবাই তাঁদের কাছে কুক্ষিগত ছিল। এ জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিশ্চিত হলে ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতিবাজরা দুর্নীতি করার সাহস পেতেন না।

সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, যেখানে ভোটাধিকার নেই, সেখানে নির্বাচনও হয় না, এবং অন্যান্য অধিকারও নিশ্চিত করা যায় না।

সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, ‘এবারের নির্বাচনের পর থেকে ভোটাধিকার নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার। আমাদের ভোটাধিকার না থাকায় গণতন্ত্র শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।’

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির চেয়ারপারসন শাহজাদা আল আমীন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির প্রোগ্রাম অফিসার মো. সানিকুদরাত সাকির। এ সময় আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা কামাল আহমেদ।