ঢাকা ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যে কারণে তরুণদের পরিবার থেকে আলাদা হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে এখন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪ ৩১ বার পড়া হয়েছে

যে কারণে তরুণদের পরিবার থেকে আলাদা হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে এখন

সময়ের সঙ্গে পারিবারিক কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে, যা দেশ ভেদে ভিন্নতাও দেখায়। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে তরুণদের পরিবার থেকে আলাদা থাকার চর্চা নতুন কিছু নয়। ১৮ বছর বয়স হলেই উন্নত দেশের তরুণ-তরুণীরা বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা থাকতে শুরু করে। তবে বর্তমান সময়ে কিছু দেশে এই প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম কসমোপলিটনের এক প্রতিবেদনে জানা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান তরুণ-তরুণীরা ১৮ বছর হলেই বাবা-মায়ের থেকে দূরে থাকতে শুরু করেন। বিশেষ করে মিলেনিয়াল (যাদের জন্ম ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে) এবং জেন-জিরা (যাদের জন্ম ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে) এই ক্ষেত্রে অন্য প্রজন্মের তুলনায় বেশি এগিয়ে আছেন।

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্ল পিলেমারের একটি গবেষণা বলছে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ মার্কিনদের মধ্যে ২৭ শতাংশ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। মাত্র ৫২ শতাংশ তরুণ তাদের বাবা ও মায়ের সঙ্গে থাকেন, আর ২১ শতাংশ তরুণ মা অথবা বাবার সঙ্গে থাকেন। এর মধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশ তরুণ তাদের মায়ের সঙ্গে এবং মাত্র ৩ শতাংশ বাবার সঙ্গে থাকেন। যে পরিবারগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্য দেশে গিয়েছে, তাদের তরুণদের মধ্যে এই বিচ্ছিন্নতার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম।

যে কারণে পরিবার থেকে আলাদা হচ্ছে মার্কিন তরুণরা

সময়ের সঙ্গে মানুষের অভ্যাসের পরিবর্তন এসেছে, যা পরিবারের কাঠামোতেও প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন পরিবারগুলোতে দেখা যায়, শিশুরা পরিবার থেকেই নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে বড় হচ্ছে। বাবা-মায়ের সম্পর্কের প্রভাব তাদের ওপর গভীরভাবে পড়ে। এছাড়াও মা-বাবার সঙ্গে মতের অমিল, মূল্যবোধ ও জীবনদর্শনে পার্থক্য, স্বাধীনতা, উচ্চশিক্ষা, এবং পেশাজীবনের চাপ ইত্যাদি পরিস্থিতি পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যায়। অন্যদিকে মার্কিন তরুণদের মধ্যে পরিবার নিয়ে নেতিবাচক ভাবনাও ক্রমশ বাড়ছে।

টিকটকে ‘টক্সিক ফ্যামিলি’ হ্যাশট্যাগটি ইতিমধ্যে ২ বিলিয়ন ভিউ ছাড়িয়ে গেছে। নিজেদের মত চলার জন্য তরুণেরা পারিবারিক বন্ধনে থাকতে চান না। অনেক মার্কিন তরুণের বাবা বা মা নতুন দাম্পত্যজীবনে জড়িয়ে যান, ফলে তারাও চান সন্তান আলাদা থাকুক।

আরও পড়ুন: ধূমপানের বদ অভ্যাস যেভাবে কাটিয়ে উঠবেন

মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক কুইন্সি গিডন বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি এটাকে নেতিবাচক মনে করেন না। তিনি বলেন, এমন অনেক তরুণের মানসিক সেবা দিয়েছেন যারা পরিবারের মাধ্যমে মারাত্মকভাবে মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত। মা-বাবার সংসারে অশান্তি, বিচ্ছেদ, বাবা বা মায়ের নতুন সঙ্গী, পারিবারিক চাপ—এই সব পরিস্থিতি থেকে অনেকে ১৮ বছর পর্যন্তও অপেক্ষা করেন না। কুইন্সি বলেন, ভালো জীবনের আশায় এবং মানসিক স্থিরতার জন্য কেউ যদি পরিবার থেকে বেরিয়ে পড়ে, সেটাকে খারাপভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার জন্য তাকে অভিনন্দন।

বিস্তারিত জানতে কিক্ল করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

যে কারণে তরুণদের পরিবার থেকে আলাদা হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে এখন

আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪

সময়ের সঙ্গে পারিবারিক কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে, যা দেশ ভেদে ভিন্নতাও দেখায়। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে তরুণদের পরিবার থেকে আলাদা থাকার চর্চা নতুন কিছু নয়। ১৮ বছর বয়স হলেই উন্নত দেশের তরুণ-তরুণীরা বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা থাকতে শুরু করে। তবে বর্তমান সময়ে কিছু দেশে এই প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম কসমোপলিটনের এক প্রতিবেদনে জানা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান তরুণ-তরুণীরা ১৮ বছর হলেই বাবা-মায়ের থেকে দূরে থাকতে শুরু করেন। বিশেষ করে মিলেনিয়াল (যাদের জন্ম ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে) এবং জেন-জিরা (যাদের জন্ম ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে) এই ক্ষেত্রে অন্য প্রজন্মের তুলনায় বেশি এগিয়ে আছেন।

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্ল পিলেমারের একটি গবেষণা বলছে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ মার্কিনদের মধ্যে ২৭ শতাংশ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। মাত্র ৫২ শতাংশ তরুণ তাদের বাবা ও মায়ের সঙ্গে থাকেন, আর ২১ শতাংশ তরুণ মা অথবা বাবার সঙ্গে থাকেন। এর মধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশ তরুণ তাদের মায়ের সঙ্গে এবং মাত্র ৩ শতাংশ বাবার সঙ্গে থাকেন। যে পরিবারগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্য দেশে গিয়েছে, তাদের তরুণদের মধ্যে এই বিচ্ছিন্নতার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম।

যে কারণে পরিবার থেকে আলাদা হচ্ছে মার্কিন তরুণরা

সময়ের সঙ্গে মানুষের অভ্যাসের পরিবর্তন এসেছে, যা পরিবারের কাঠামোতেও প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন পরিবারগুলোতে দেখা যায়, শিশুরা পরিবার থেকেই নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে বড় হচ্ছে। বাবা-মায়ের সম্পর্কের প্রভাব তাদের ওপর গভীরভাবে পড়ে। এছাড়াও মা-বাবার সঙ্গে মতের অমিল, মূল্যবোধ ও জীবনদর্শনে পার্থক্য, স্বাধীনতা, উচ্চশিক্ষা, এবং পেশাজীবনের চাপ ইত্যাদি পরিস্থিতি পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যায়। অন্যদিকে মার্কিন তরুণদের মধ্যে পরিবার নিয়ে নেতিবাচক ভাবনাও ক্রমশ বাড়ছে।

টিকটকে ‘টক্সিক ফ্যামিলি’ হ্যাশট্যাগটি ইতিমধ্যে ২ বিলিয়ন ভিউ ছাড়িয়ে গেছে। নিজেদের মত চলার জন্য তরুণেরা পারিবারিক বন্ধনে থাকতে চান না। অনেক মার্কিন তরুণের বাবা বা মা নতুন দাম্পত্যজীবনে জড়িয়ে যান, ফলে তারাও চান সন্তান আলাদা থাকুক।

আরও পড়ুন: ধূমপানের বদ অভ্যাস যেভাবে কাটিয়ে উঠবেন

মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক কুইন্সি গিডন বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি এটাকে নেতিবাচক মনে করেন না। তিনি বলেন, এমন অনেক তরুণের মানসিক সেবা দিয়েছেন যারা পরিবারের মাধ্যমে মারাত্মকভাবে মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত। মা-বাবার সংসারে অশান্তি, বিচ্ছেদ, বাবা বা মায়ের নতুন সঙ্গী, পারিবারিক চাপ—এই সব পরিস্থিতি থেকে অনেকে ১৮ বছর পর্যন্তও অপেক্ষা করেন না। কুইন্সি বলেন, ভালো জীবনের আশায় এবং মানসিক স্থিরতার জন্য কেউ যদি পরিবার থেকে বেরিয়ে পড়ে, সেটাকে খারাপভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার জন্য তাকে অভিনন্দন।

বিস্তারিত জানতে কিক্ল করুন