ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মে মাসে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে চলবে এখন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪ ৫৪ বার পড়া হয়েছে

মে মাসে ভারতের বাণিজ্য–ঘাটতি বেড়েছে। গত মাসে দেশটির বাণিজ্য–ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৭৮ কোটি ডলারে, যদিও বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছিলেন ঘাটতি হবে ১ হাজার ৯৫০ কোটি ডলার। খবর দ্য ওয়ার-এর।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের (ভারতে অর্থবছর এপ্রিল-মার্চ) শেষ মাস মার্চে ভারতের বাণিজ্যঘাটতি ছিল ১ হাজার ৫৬০ কোটি ডলার, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। কিন্তু দুই মাসের ব্যবধানে ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শীর্ষ ১০ বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে ৯টির সঙ্গে ঘাটতিতে ছিল ভারত। চলতি অর্থবছরের শুরুতেও এ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৩ সালের মে মাসের তুলনায় এ বছরের মে মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৯ শতাংশ, যা ৩ হাজার ৮১৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, বাণিজ্যিক যানবাহন এবং স্মার্টফোন। মে মাসে এসব পণ্যের বিক্রি বেড়েছে। এছাড়া ইলেকট্রনিকস, ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইল এবং প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

২০২৪ সালের মে মাসে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ভারতের আমদানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যার পরিমাণ ৬ হাজার ১৯১ কোটি ডলার।

মে মাসে ভারতের জ্বালানি তেলের আমদানি ২৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আমদানি ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৬৪০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

মে মাসের পরিসংখ্যান প্রকাশের সময় রপ্তানি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভারতের বাণিজ্যসচিব সুনীল ভারতওয়াল। তিনি বলেন, উন্নত অর্থনীতিগুলোতে মূল্যস্ফীতি কমায় ভোক্তা চাহিদা বেড়েছে, ফলে ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, মে মাসে ভারতের পরিষেবা রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ১৬ কোটি ডলার, যা ২০২৩ সালের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৬৯৯ কোটি ডলার। একই সময়ে পরিষেবা আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ কোটি ডলার, যা ২০২৩ সালে ছিল ১ হাজার ৫৮৮ কোটি ডলার।

তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে নেমেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধারের ধারায় ভারতের রপ্তানি আবারও গতি পাবে। এ ক্ষেত্রে উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি হ্রাসে সরকারি প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

মে মাসে ভারতের শীর্ষ পাঁচ রপ্তানি গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, আমদানির শীর্ষ উৎস ছিল অ্যাঙ্গোলা, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া ও রাশিয়া।

এদিকে, গত মাসে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, কোরিয়াসহ শীর্ষ ১০টি বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে ৯টি দেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য–ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, কোরিয়া ও হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য–ঘাটতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে বেড়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ইরাকের সঙ্গে ব্যবধান কিছুটা কমেছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের বাণিজ্য–উদ্বৃত্ত ছিল অল্প কয়েকটি দেশের সঙ্গে, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, ইতালি, ফ্রান্স ও বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য–উদ্বৃত্ত ছিল ৩ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

মে মাসে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে চলবে এখন

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪

মে মাসে ভারতের বাণিজ্য–ঘাটতি বেড়েছে। গত মাসে দেশটির বাণিজ্য–ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৭৮ কোটি ডলারে, যদিও বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছিলেন ঘাটতি হবে ১ হাজার ৯৫০ কোটি ডলার। খবর দ্য ওয়ার-এর।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের (ভারতে অর্থবছর এপ্রিল-মার্চ) শেষ মাস মার্চে ভারতের বাণিজ্যঘাটতি ছিল ১ হাজার ৫৬০ কোটি ডলার, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। কিন্তু দুই মাসের ব্যবধানে ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শীর্ষ ১০ বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে ৯টির সঙ্গে ঘাটতিতে ছিল ভারত। চলতি অর্থবছরের শুরুতেও এ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৩ সালের মে মাসের তুলনায় এ বছরের মে মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৯ শতাংশ, যা ৩ হাজার ৮১৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, বাণিজ্যিক যানবাহন এবং স্মার্টফোন। মে মাসে এসব পণ্যের বিক্রি বেড়েছে। এছাড়া ইলেকট্রনিকস, ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইল এবং প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

২০২৪ সালের মে মাসে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ভারতের আমদানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যার পরিমাণ ৬ হাজার ১৯১ কোটি ডলার।

মে মাসে ভারতের জ্বালানি তেলের আমদানি ২৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আমদানি ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৬৪০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

মে মাসের পরিসংখ্যান প্রকাশের সময় রপ্তানি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভারতের বাণিজ্যসচিব সুনীল ভারতওয়াল। তিনি বলেন, উন্নত অর্থনীতিগুলোতে মূল্যস্ফীতি কমায় ভোক্তা চাহিদা বেড়েছে, ফলে ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, মে মাসে ভারতের পরিষেবা রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ১৬ কোটি ডলার, যা ২০২৩ সালের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৬৯৯ কোটি ডলার। একই সময়ে পরিষেবা আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ কোটি ডলার, যা ২০২৩ সালে ছিল ১ হাজার ৫৮৮ কোটি ডলার।

তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে নেমেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধারের ধারায় ভারতের রপ্তানি আবারও গতি পাবে। এ ক্ষেত্রে উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি হ্রাসে সরকারি প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

মে মাসে ভারতের শীর্ষ পাঁচ রপ্তানি গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, আমদানির শীর্ষ উৎস ছিল অ্যাঙ্গোলা, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া ও রাশিয়া।

এদিকে, গত মাসে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, কোরিয়াসহ শীর্ষ ১০টি বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে ৯টি দেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য–ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, কোরিয়া ও হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য–ঘাটতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে বেড়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ইরাকের সঙ্গে ব্যবধান কিছুটা কমেছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের বাণিজ্য–উদ্বৃত্ত ছিল অল্প কয়েকটি দেশের সঙ্গে, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, ইতালি, ফ্রান্স ও বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য–উদ্বৃত্ত ছিল ৩ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার।