ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহের ব্যবসায়িক উন্নতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৩:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪ ৪২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের আটটি বিভাগের মধ্যে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে রাজশাহী বিভাগ সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। রাজশাহীর প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৬১ জনই শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে, শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে সিলেট বিভাগ, যেখানে মাত্র ৫১ শতাংশ মানুষ শ্রমশক্তিতে সক্রিয়।

দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত জনসংখ্যার মধ্যে ২৩ শতাংশের নিজের ব্যবসা রয়েছে। এই ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ বিভাগ সবার চেয়ে এগিয়ে, যেখানে ৩০ শতাংশ মানুষ নিজের ব্যবসা করেন। অপরদিকে, কৃষিকাজে দিনমজুরি করার হার সবচেয়ে বেশি রংপুর বিভাগে। এখানে ১৩.৫২ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজে দিনমজুরি করেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপ ২০২৩’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিএস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্বিকভাবে দেশের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৫৭.৪১ শতাংশ। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৭৩.৭৫ শতাংশ, আর নারীদের ক্ষেত্রে ৪১.৪১ শতাংশ।

কোনো দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার যে অংশ অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নিয়োজিত ও নিয়োগ পেতে ইচ্ছুক, তাদেরই শ্রমশক্তি বলা হয়। অর্থাৎ, কর্মরত এবং বেকার উভয় জনগোষ্ঠীর সমষ্টি হলো শ্রমশক্তি। বিবিএসের জরিপে ১০ বছর বা তার বেশি বয়সের নাগরিকদের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৬১ শতাংশ মানুষ শ্রমশক্তিতে রয়েছেন। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম, মাত্র ৫১ শতাংশ। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনার ৫৮.৯৮ শতাংশ, রংপুরের ৫৮.৭৯ শতাংশ, ঢাকার ৫৮.৬২ শতাংশ, বরিশালের ৫৭.৫৯ শতাংশ, ময়মনসিংহের ৫৪.৮৯ শতাংশ, এবং চট্টগ্রামের ৫৪.৪ শতাংশ মানুষ শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ করেন।

যদিও সামগ্রিকভাবে রাজশাহী এগিয়ে, তবে পুরুষদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে খুলনা বিভাগ সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। খুলনায় ৭৬.৩৮ শতাংশ পুরুষ কাজ করেন বা করতে ইচ্ছুক। এই হার সবচেয়ে কম সিলেটে, ৬৭.৮৩ শতাংশ। সিলেটের সামগ্রিক শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ ৫১.৩৭ শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ কম থাকে। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নতি, নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি, এবং জন্মহার হ্রাসের মতো উন্নতি সত্ত্বেও শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ আনুপাতিক হারে বাড়েনি। বিবিএসের আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

দেশের শ্রমশক্তিতে নারীদের জাতীয়ভাবে অংশগ্রহণ ৪১.৪১ শতাংশ। এই হার সবচেয়ে কম সিলেটে, যেখানে মাত্র ৩৫.৭৫ শতাংশ নারী শ্রমশক্তিতে আছেন। নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে রাজশাহী, যেখানে ৪৫.৬৯ শতাংশ নারী শ্রমশক্তিতে রয়েছেন।

দেশে ২৩ শতাংশের নিজস্ব ব্যবসা

বাংলাদেশে কর্মরত জনসংখ্যার মধ্যে ২৩ শতাংশের নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দেশের কর্মরত জনসংখ্যার ২৯.৬১ শতাংশ কর্মচারী, ১০.৫ শতাংশ অকৃষি দিনমজুর, ৭.৩৯ শতাংশ কৃষি দিনমজুর, এবং ২৫ শতাংশ পারিবারিক কৃষিকাজে বিনা মজুরিতে সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করেন।

আট বিভাগের মধ্যে নিজস্ব ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ, যেখানে ৩০ শতাংশ মানুষের নিজস্ব ব্যবসা আছে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে খুলনা, যেখানে ২৭.৫৯ শতাংশ মানুষের নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২৬.১৪ শতাংশ, রাজশাহীতে ২৫.৪৯ শতাংশ, রংপুরে ২৩.৯২ শতাংশ, ঢাকায় ২১.০২ শতাংশ, সিলেটে ১৯.৯২ শতাংশ, এবং চট্টগ্রামে ১৯.৩২ শতাংশ মানুষের নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে।

কৃষিকাজে দিনমজুরির ক্ষেত্রে রংপুর বিভাগ এগিয়ে রয়েছে, যেখানে ১৩.৫২ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজে দিনমজুরি করেন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে সিলেটে ১১.২১ শতাংশ, রাজশাহীতে ১০.৬৮ শতাংশ, এবং খুলনায় ১০.৮৯ শতাংশ কৃষি দিনমজুর রয়েছেন। বরিশালে ৫.৪৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৬.৫৯ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫.৮৬ শতাংশ এবং ঢাকায় সবচেয়ে কম, মাত্র ২.৭২ শতাংশ কৃষি দিনমজুর কর্মরত।

এ তথ্যগুলো তুলে ধরেছে বিবিএসের সাম্প্রতিক আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপ ২০২৩, যা চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে।

ঢাকায় কর্মচারীর হার সবচেয়ে বেশি

বাংলাদেশের কর্মচারী বিবেচনায় কর্মরত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঢাকার অবস্থান সবচেয়ে এগিয়ে। ঢাকার ৪৬.৬৭ শতাংশ মানুষ কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে চট্টগ্রাম (২৯.৯৫ শতাংশ) এবং তৃতীয় অবস্থানে ময়মনসিংহ (২৫.৭৪ শতাংশ)। বরিশালে ২৩.৫২ শতাংশ, সিলেটে ২১.১৩ শতাংশ, এবং খুলনায় ১৮.২৭ শতাংশ মানুষ কর্মচারী হিসেবে কর্মরত।

দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন ২৯ শতাংশ

জাতীয়ভাবে, কর্মরত জনগোষ্ঠীর ৪২.২১ শতাংশ পূর্ণকালীন, ১৪ শতাংশ খণ্ডকালীন, ২.৫ শতাংশ চুক্তিভিত্তিক, ১৩ শতাংশ মৌসুমি, এবং ২৯ শতাংশ দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন।

দৈনিক ভিত্তিতে কাজের ক্ষেত্রে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ এগিয়ে রয়েছে। রাজশাহীতে মোট জনগোষ্ঠীর ৪১ শতাংশ এবং রংপুরে ৩৬ শতাংশ মানুষ দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন। ঢাকায় দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করার হার সবচেয়ে কম, মাত্র ১৯.২৫ শতাংশ।

পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন কাজ

পূর্ণকালীন কাজের ক্ষেত্রে ঢাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি এগিয়ে, যেখানে ৫৯.৬৯ শতাংশ মানুষ পূর্ণকালীন কাজ করেন। অন্যদিকে, খণ্ডকালীন কাজের ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৯ শতাংশ মানুষ খণ্ডকালীন কাজের সঙ্গে যুক্ত।

বেতন ও মজুরি প্রাপ্তি

কর্মরত জনগোষ্ঠীর ৭২ শতাংশ নগদ বেতন বা মজুরি পান। পল্লী এলাকায় এই হার ৮০ শতাংশ, আর শহরাঞ্চলে ৬২ শতাংশ। এছাড়া, ২১.৫ শতাংশ কর্মী তাদের বেতন বা মজুরি ব্যাংক হিসাবে পেয়ে থাকেন।

এই তথ্যগুলো প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপ ২০২৩-এ, যা চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

ময়মনসিংহের ব্যবসায়িক উন্নতি

আপডেট সময় : ০৭:২৩:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

বাংলাদেশের আটটি বিভাগের মধ্যে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে রাজশাহী বিভাগ সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। রাজশাহীর প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৬১ জনই শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে, শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে সিলেট বিভাগ, যেখানে মাত্র ৫১ শতাংশ মানুষ শ্রমশক্তিতে সক্রিয়।

দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত জনসংখ্যার মধ্যে ২৩ শতাংশের নিজের ব্যবসা রয়েছে। এই ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ বিভাগ সবার চেয়ে এগিয়ে, যেখানে ৩০ শতাংশ মানুষ নিজের ব্যবসা করেন। অপরদিকে, কৃষিকাজে দিনমজুরি করার হার সবচেয়ে বেশি রংপুর বিভাগে। এখানে ১৩.৫২ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজে দিনমজুরি করেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপ ২০২৩’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিএস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্বিকভাবে দেশের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৫৭.৪১ শতাংশ। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৭৩.৭৫ শতাংশ, আর নারীদের ক্ষেত্রে ৪১.৪১ শতাংশ।

কোনো দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার যে অংশ অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নিয়োজিত ও নিয়োগ পেতে ইচ্ছুক, তাদেরই শ্রমশক্তি বলা হয়। অর্থাৎ, কর্মরত এবং বেকার উভয় জনগোষ্ঠীর সমষ্টি হলো শ্রমশক্তি। বিবিএসের জরিপে ১০ বছর বা তার বেশি বয়সের নাগরিকদের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৬১ শতাংশ মানুষ শ্রমশক্তিতে রয়েছেন। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম, মাত্র ৫১ শতাংশ। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনার ৫৮.৯৮ শতাংশ, রংপুরের ৫৮.৭৯ শতাংশ, ঢাকার ৫৮.৬২ শতাংশ, বরিশালের ৫৭.৫৯ শতাংশ, ময়মনসিংহের ৫৪.৮৯ শতাংশ, এবং চট্টগ্রামের ৫৪.৪ শতাংশ মানুষ শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ করেন।

যদিও সামগ্রিকভাবে রাজশাহী এগিয়ে, তবে পুরুষদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে খুলনা বিভাগ সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। খুলনায় ৭৬.৩৮ শতাংশ পুরুষ কাজ করেন বা করতে ইচ্ছুক। এই হার সবচেয়ে কম সিলেটে, ৬৭.৮৩ শতাংশ। সিলেটের সামগ্রিক শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ ৫১.৩৭ শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ কম থাকে। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নতি, নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি, এবং জন্মহার হ্রাসের মতো উন্নতি সত্ত্বেও শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ আনুপাতিক হারে বাড়েনি। বিবিএসের আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

দেশের শ্রমশক্তিতে নারীদের জাতীয়ভাবে অংশগ্রহণ ৪১.৪১ শতাংশ। এই হার সবচেয়ে কম সিলেটে, যেখানে মাত্র ৩৫.৭৫ শতাংশ নারী শ্রমশক্তিতে আছেন। নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে রাজশাহী, যেখানে ৪৫.৬৯ শতাংশ নারী শ্রমশক্তিতে রয়েছেন।

দেশে ২৩ শতাংশের নিজস্ব ব্যবসা

বাংলাদেশে কর্মরত জনসংখ্যার মধ্যে ২৩ শতাংশের নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দেশের কর্মরত জনসংখ্যার ২৯.৬১ শতাংশ কর্মচারী, ১০.৫ শতাংশ অকৃষি দিনমজুর, ৭.৩৯ শতাংশ কৃষি দিনমজুর, এবং ২৫ শতাংশ পারিবারিক কৃষিকাজে বিনা মজুরিতে সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করেন।

আট বিভাগের মধ্যে নিজস্ব ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ, যেখানে ৩০ শতাংশ মানুষের নিজস্ব ব্যবসা আছে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে খুলনা, যেখানে ২৭.৫৯ শতাংশ মানুষের নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২৬.১৪ শতাংশ, রাজশাহীতে ২৫.৪৯ শতাংশ, রংপুরে ২৩.৯২ শতাংশ, ঢাকায় ২১.০২ শতাংশ, সিলেটে ১৯.৯২ শতাংশ, এবং চট্টগ্রামে ১৯.৩২ শতাংশ মানুষের নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে।

কৃষিকাজে দিনমজুরির ক্ষেত্রে রংপুর বিভাগ এগিয়ে রয়েছে, যেখানে ১৩.৫২ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজে দিনমজুরি করেন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে সিলেটে ১১.২১ শতাংশ, রাজশাহীতে ১০.৬৮ শতাংশ, এবং খুলনায় ১০.৮৯ শতাংশ কৃষি দিনমজুর রয়েছেন। বরিশালে ৫.৪৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৬.৫৯ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫.৮৬ শতাংশ এবং ঢাকায় সবচেয়ে কম, মাত্র ২.৭২ শতাংশ কৃষি দিনমজুর কর্মরত।

এ তথ্যগুলো তুলে ধরেছে বিবিএসের সাম্প্রতিক আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপ ২০২৩, যা চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে।

ঢাকায় কর্মচারীর হার সবচেয়ে বেশি

বাংলাদেশের কর্মচারী বিবেচনায় কর্মরত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঢাকার অবস্থান সবচেয়ে এগিয়ে। ঢাকার ৪৬.৬৭ শতাংশ মানুষ কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে চট্টগ্রাম (২৯.৯৫ শতাংশ) এবং তৃতীয় অবস্থানে ময়মনসিংহ (২৫.৭৪ শতাংশ)। বরিশালে ২৩.৫২ শতাংশ, সিলেটে ২১.১৩ শতাংশ, এবং খুলনায় ১৮.২৭ শতাংশ মানুষ কর্মচারী হিসেবে কর্মরত।

দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন ২৯ শতাংশ

জাতীয়ভাবে, কর্মরত জনগোষ্ঠীর ৪২.২১ শতাংশ পূর্ণকালীন, ১৪ শতাংশ খণ্ডকালীন, ২.৫ শতাংশ চুক্তিভিত্তিক, ১৩ শতাংশ মৌসুমি, এবং ২৯ শতাংশ দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন।

দৈনিক ভিত্তিতে কাজের ক্ষেত্রে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ এগিয়ে রয়েছে। রাজশাহীতে মোট জনগোষ্ঠীর ৪১ শতাংশ এবং রংপুরে ৩৬ শতাংশ মানুষ দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন। ঢাকায় দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করার হার সবচেয়ে কম, মাত্র ১৯.২৫ শতাংশ।

পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন কাজ

পূর্ণকালীন কাজের ক্ষেত্রে ঢাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি এগিয়ে, যেখানে ৫৯.৬৯ শতাংশ মানুষ পূর্ণকালীন কাজ করেন। অন্যদিকে, খণ্ডকালীন কাজের ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৯ শতাংশ মানুষ খণ্ডকালীন কাজের সঙ্গে যুক্ত।

বেতন ও মজুরি প্রাপ্তি

কর্মরত জনগোষ্ঠীর ৭২ শতাংশ নগদ বেতন বা মজুরি পান। পল্লী এলাকায় এই হার ৮০ শতাংশ, আর শহরাঞ্চলে ৬২ শতাংশ। এছাড়া, ২১.৫ শতাংশ কর্মী তাদের বেতন বা মজুরি ব্যাংক হিসাবে পেয়ে থাকেন।

এই তথ্যগুলো প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপ ২০২৩-এ, যা চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে।