ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ক্রমিক ধর্ষক

ভয়ংকর এক ক্রমিক ধর্ষক তিনি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪ ৫০ বার পড়া হয়েছে

ভয়ংকর এক ক্রমিক ধর্ষক তিনি

অষ্টম শ্রেণির এক কিশোরী গত ১১ মে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের বাসা থেকে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে শ্যামলীতে যায়। বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে ফেরার পথে মোহাম্মদপুরের রিং রোডে আসলে একটি কার তার গতি রোধ করে এবং ভয় দেখিয়ে গাড়িতে তুলে নেয় এক দুর্বৃত্ত। এরপর কিশোরীকে সেই গাড়ির ভেতরে ধর্ষণ করা হয়।

পরে দুর্বৃত্তটি কিশোরীর মাকে ফোন দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে বড় ক্ষতি করার হুমকি দেয়। মা মেয়েকে উদ্ধারের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনে দুই হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। টাকা পেয়ে দুর্বৃত্তটি মেয়েটিকে তাজমহল রোডে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।

এ ঘটনায় কিশোরীর মা ধর্ষণ মামলা করলে গত ১৭ মে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ সেই দুর্বৃত্ত নাজমুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে জানা যায়, এক যুগ আগেও দলবদ্ধ ধর্ষণের অপরাধে জড়িত ছিলেন নাজমুল। ২০১২ সালে প্রথম ধর্ষণ মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এই এক যুগের মধ্যে নাজমুলের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি ধর্ষণের মামলা। ধর্ষণ মামলায় জামিন পাওয়ার পর তিনি পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।

তদন্তকারী তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ধর্ষণের অভিযোগে তিনটি মামলা হলেও নাজমুলের হাতে আরও অনেক নারী নির্যাতিত হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল সে কথা স্বীকারও করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীরা মামলায় অভিযোগ করেছেন, নাজমুল তাঁদের ভয় দেখিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে নির্জন জায়গায় গাড়ির ভেতরেই ধর্ষণ করতেন। এছাড়া, দুই নারীকে পুলিশ পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে গাড়িতে তুলে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করতেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিক ভক্ত প্রথম আলোকে জানান, বিকাশে টাকা নেওয়ার সূত্র ধরে নাজমুলকে শনাক্ত করা হয়। পরে খিলক্ষেত এলাকায় গাড়িসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানতে পারে, এক যুগ ধরে নাজমুল রাজধানীতে এ ধরনের অপরাধ করে আসছেন। ২ জুন মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে কার ব্যবহার করে নগরীর স্কুল ও কলেজের বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে গাড়ির ভেতরে ধর্ষণ করে আসছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নাজমুল এক জায়গায় বেশি দিন থাকেন না। নতুন অপরাধের পরপরই বাসা পাল্টে ফেলেন। তিনি একাধিক বিয়ে ও নারীঘটিত নানা কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত।

ঢাকার তিন নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, উবার বা ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে এভাবে নারীদের তুলে নিয়ে গাড়ির ভেতরে ধর্ষণের ঘটনা অকল্পনীয়। এমন অপরাধী কারাগারের বাইরে থাকলে যেকোনো নারী যেকোনো সময় বিপদে পড়তে পারেন। ধর্ষণের মামলাগুলো আদালতে প্রমাণ করে নাজমুলের শাস্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ জোরালো পদক্ষেপ নেবে।

ঢাকার ‘ক্রমিক ধর্ষক’ নাজমুল
মোহাম্মদপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের আগে গত মার্চে আরও এক নারীকে (২৫) গাড়িতে তুলে নানাভাবে হেনস্তা করেন নাজমুল। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় ১৯ মার্চ মামলা হয়। পুলিশ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওই নারী কল্যাণপুরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। ১ মার্চ তিনি যখন কল্যাণপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে আসেন, তখন একটি গাড়ি তাঁর গতিরোধ করে। গাড়ি থেকে নেমে আসা দুই লোক নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই নারীকে গাড়িতে তুলে নেয়। তাঁরা নারীর জামাকাপড় খুলে ভিডিও করার হুমকি দেয় এবং তাঁর কাছে থাকা ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা কেড়ে নিয়ে তাঁকে আদাবরে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বায়েজীদ মোল্লা প্রথম আলোকে জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি দুই দিন নাজমুল হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল স্বীকার করেন, বহুদিন ধরে ভুয়া ডিবি পরিচয়ে তিনি অনেক নারীকে গাড়িতে তুলে যৌন হেনস্তা করেছেন।

২০২২ সালে ভাষানটেক এলাকা থেকে এক নারীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায়ও নাজমুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১১ জুলাই এক তরুণী (২২) ভাষানটেকের নেভি মার্কেটের সামনে এলে নাজমুল ও তাঁর দুজন সহযোগী তাঁকে তুলে নিয়ে গাড়ির ভেতরে ধর্ষণ করেন। পরে তরুণীর বাবার কাছ থেকে মুঠোফোনে ১০ হাজার টাকা নিয়ে তাঁকে রামপুরায় নামিয়ে দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাষানটেক থানার পরিদর্শক আবুল হাসনাত খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকায় বেড়ে ওঠা নাজমুল একজন ক্রমিক ধর্ষক (সিরিয়াল রেপিস্ট)। নগরীতে গাড়ি চালানোর আড়ালে সুযোগ পেলেই তিনি বহু তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন। থানায় মামলা করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী তরুণী, তবে অনেকেই মামলা করেননি।

পুলিশ কর্মকর্তা আবুল হাসনাত খন্দকার বলেন, নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল পেশাদার অপরাধী বলে প্রমাণিত হয়েছেন। অপরাধের তথ্য লুকিয়ে তিনি নতুন নতুন গাড়ি ভাড়া নিয়ে চালান।

নাজমুলকে গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিপদে পড়েছিলেন আমিনুল এহসান নামের এক ব্যক্তি। প্রথম আলোকে তিনি জানান, তিন মাস আগে তাঁর কারটি ভাড়া নিয়ে উবারে চালাচ্ছিলেন নাজমুল। লিখিত চুক্তিও হয়েছিল। পরে ওই গাড়ির ভেতরে ধর্ষণের অভিযোগে নাজমুলকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি গাড়িটিও জব্দ করেছে পুলিশ। এখন গাড়িটি পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

২০২০ সালে দারুসসালাম থানায় করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, নাজমুল ও তাঁর সহযোগী সাইফুলসহ অন্যরা ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে গাড়িতে তুলে তাঁর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী আরিফুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, সাইফুল ও নাজমুল নিরপরাধ।

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সালমা আলী প্রথম আলোকে বলেন, এক যুগ ধরে যে ব্যক্তি গাড়িতে তুলে নিয়ে নারীদের ধর্ষণ করেছেন, তিনি অবশ্যই একজন ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’। যাঁর বিরুদ্ধে তিনটি ধর্ষণের মামলা রয়েছে, প্রতিটির অভিযোগই হচ্ছে, গাড়িতে তুলে ধর্ষণ করেছেন তিনি। এমন অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

ক্রমিক ধর্ষক

ভয়ংকর এক ক্রমিক ধর্ষক তিনি

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪

অষ্টম শ্রেণির এক কিশোরী গত ১১ মে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের বাসা থেকে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে শ্যামলীতে যায়। বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে ফেরার পথে মোহাম্মদপুরের রিং রোডে আসলে একটি কার তার গতি রোধ করে এবং ভয় দেখিয়ে গাড়িতে তুলে নেয় এক দুর্বৃত্ত। এরপর কিশোরীকে সেই গাড়ির ভেতরে ধর্ষণ করা হয়।

পরে দুর্বৃত্তটি কিশোরীর মাকে ফোন দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে বড় ক্ষতি করার হুমকি দেয়। মা মেয়েকে উদ্ধারের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনে দুই হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। টাকা পেয়ে দুর্বৃত্তটি মেয়েটিকে তাজমহল রোডে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।

এ ঘটনায় কিশোরীর মা ধর্ষণ মামলা করলে গত ১৭ মে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ সেই দুর্বৃত্ত নাজমুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে জানা যায়, এক যুগ আগেও দলবদ্ধ ধর্ষণের অপরাধে জড়িত ছিলেন নাজমুল। ২০১২ সালে প্রথম ধর্ষণ মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এই এক যুগের মধ্যে নাজমুলের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি ধর্ষণের মামলা। ধর্ষণ মামলায় জামিন পাওয়ার পর তিনি পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।

তদন্তকারী তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ধর্ষণের অভিযোগে তিনটি মামলা হলেও নাজমুলের হাতে আরও অনেক নারী নির্যাতিত হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল সে কথা স্বীকারও করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীরা মামলায় অভিযোগ করেছেন, নাজমুল তাঁদের ভয় দেখিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে নির্জন জায়গায় গাড়ির ভেতরেই ধর্ষণ করতেন। এছাড়া, দুই নারীকে পুলিশ পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে গাড়িতে তুলে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করতেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিক ভক্ত প্রথম আলোকে জানান, বিকাশে টাকা নেওয়ার সূত্র ধরে নাজমুলকে শনাক্ত করা হয়। পরে খিলক্ষেত এলাকায় গাড়িসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানতে পারে, এক যুগ ধরে নাজমুল রাজধানীতে এ ধরনের অপরাধ করে আসছেন। ২ জুন মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে কার ব্যবহার করে নগরীর স্কুল ও কলেজের বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে গাড়ির ভেতরে ধর্ষণ করে আসছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নাজমুল এক জায়গায় বেশি দিন থাকেন না। নতুন অপরাধের পরপরই বাসা পাল্টে ফেলেন। তিনি একাধিক বিয়ে ও নারীঘটিত নানা কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত।

ঢাকার তিন নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, উবার বা ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে এভাবে নারীদের তুলে নিয়ে গাড়ির ভেতরে ধর্ষণের ঘটনা অকল্পনীয়। এমন অপরাধী কারাগারের বাইরে থাকলে যেকোনো নারী যেকোনো সময় বিপদে পড়তে পারেন। ধর্ষণের মামলাগুলো আদালতে প্রমাণ করে নাজমুলের শাস্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ জোরালো পদক্ষেপ নেবে।

ঢাকার ‘ক্রমিক ধর্ষক’ নাজমুল
মোহাম্মদপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের আগে গত মার্চে আরও এক নারীকে (২৫) গাড়িতে তুলে নানাভাবে হেনস্তা করেন নাজমুল। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় ১৯ মার্চ মামলা হয়। পুলিশ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওই নারী কল্যাণপুরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। ১ মার্চ তিনি যখন কল্যাণপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে আসেন, তখন একটি গাড়ি তাঁর গতিরোধ করে। গাড়ি থেকে নেমে আসা দুই লোক নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই নারীকে গাড়িতে তুলে নেয়। তাঁরা নারীর জামাকাপড় খুলে ভিডিও করার হুমকি দেয় এবং তাঁর কাছে থাকা ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা কেড়ে নিয়ে তাঁকে আদাবরে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বায়েজীদ মোল্লা প্রথম আলোকে জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি দুই দিন নাজমুল হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল স্বীকার করেন, বহুদিন ধরে ভুয়া ডিবি পরিচয়ে তিনি অনেক নারীকে গাড়িতে তুলে যৌন হেনস্তা করেছেন।

২০২২ সালে ভাষানটেক এলাকা থেকে এক নারীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায়ও নাজমুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১১ জুলাই এক তরুণী (২২) ভাষানটেকের নেভি মার্কেটের সামনে এলে নাজমুল ও তাঁর দুজন সহযোগী তাঁকে তুলে নিয়ে গাড়ির ভেতরে ধর্ষণ করেন। পরে তরুণীর বাবার কাছ থেকে মুঠোফোনে ১০ হাজার টাকা নিয়ে তাঁকে রামপুরায় নামিয়ে দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাষানটেক থানার পরিদর্শক আবুল হাসনাত খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকায় বেড়ে ওঠা নাজমুল একজন ক্রমিক ধর্ষক (সিরিয়াল রেপিস্ট)। নগরীতে গাড়ি চালানোর আড়ালে সুযোগ পেলেই তিনি বহু তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন। থানায় মামলা করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী তরুণী, তবে অনেকেই মামলা করেননি।

পুলিশ কর্মকর্তা আবুল হাসনাত খন্দকার বলেন, নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল পেশাদার অপরাধী বলে প্রমাণিত হয়েছেন। অপরাধের তথ্য লুকিয়ে তিনি নতুন নতুন গাড়ি ভাড়া নিয়ে চালান।

নাজমুলকে গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিপদে পড়েছিলেন আমিনুল এহসান নামের এক ব্যক্তি। প্রথম আলোকে তিনি জানান, তিন মাস আগে তাঁর কারটি ভাড়া নিয়ে উবারে চালাচ্ছিলেন নাজমুল। লিখিত চুক্তিও হয়েছিল। পরে ওই গাড়ির ভেতরে ধর্ষণের অভিযোগে নাজমুলকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি গাড়িটিও জব্দ করেছে পুলিশ। এখন গাড়িটি পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

২০২০ সালে দারুসসালাম থানায় করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, নাজমুল ও তাঁর সহযোগী সাইফুলসহ অন্যরা ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে গাড়িতে তুলে তাঁর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী আরিফুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, সাইফুল ও নাজমুল নিরপরাধ।

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সালমা আলী প্রথম আলোকে বলেন, এক যুগ ধরে যে ব্যক্তি গাড়িতে তুলে নিয়ে নারীদের ধর্ষণ করেছেন, তিনি অবশ্যই একজন ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’। যাঁর বিরুদ্ধে তিনটি ধর্ষণের মামলা রয়েছে, প্রতিটির অভিযোগই হচ্ছে, গাড়িতে তুলে ধর্ষণ করেছেন তিনি। এমন অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।