ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়ে এখন ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪ ২৩ বার পড়া হয়েছে

ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়ে এখন ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে

ব্যাংকগুলোর অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনা আর্থিক চিত্রে প্রকটভাবে ফুটে উঠতে শুরু করেছে, যার ফলে খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাত্র তিন মাসেই ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। গত মার্চ মাসের শেষে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ১১ দশমিক ১১ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছে।

দেশে এর আগে খেলাপি ঋণ এতটা বাড়েনি

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এর পাশাপাশি, খেলাপি হওয়া সুদ যুক্ত হওয়ায়ও খেলাপি ঋণ বেড়েছে। তিনি আরও জানান, খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোতে তদারকি বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যবেক্ষক ও সমন্বয়করা কাজ করছে।

আরো পড়ুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। ফলে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। এই সময়ে সরকারি, বেসরকারি, বিদেশি এবং বিশেষায়িত—সব ধরনের ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ছিল ৬৫ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা, যা মার্চে বেড়ে হয়েছে ৮৪ হাজার ২২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ মার্চে বেড়ে হয়েছে ১৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা।

এছাড়া, সরকারি খাতের বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসির (বিডিবিপি) খেলাপি ঋণ ৮৭৩ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে সরকারি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ২০ দশমিক ৯৯ শতাংশ খেলাপি ছিল, যা মার্চে বেড়ে হয়েছে ২৭ শতাংশ।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৭০ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা, যা মার্চে বেড়ে হয়েছে ৮৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ ঋণ খেলাপি ছিল, যা মার্চে বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যা মার্চে বেড়ে ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ডিসেম্বরে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ ঋণ খেলাপি ছিল, যা মার্চে বেড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক—এই দুই বিশেষায়িত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সেই হিসেবে, খেলাপি ঋণের হার ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ হয়েছে।

আরো পড়ুন

বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকেও খেলাপি ঋণের লাগাম টানা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি, সাবেক ও বর্তমান আমলাদের পর্ষদে পরিচালক নিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়োজিত পর্যবেক্ষকও খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে তিন মাসে খেলাপি ঋণ এত পরিমাণে বেড়েছে বলে মনে করছেন খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ করা ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্তের একটি হলো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার কমানো। ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে বলেছে সংস্থাটি। তবে উল্টো এখন খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংকের বড় গ্রাহকদের প্রায় সবাই সরকারের ঘনিষ্ঠ এবং বিভিন্ন পদে রয়েছেন। তাঁদের ঋণগুলো তদারকির বাইরে থেকে যাচ্ছে। আগে ভালো ছিল, এমন কিছু ঋণও এখন খেলাপি হয়ে পড়ছে। খেলাপি চিহ্নিত করার নতুন নিয়মের কারণে ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে তাঁরা মনে করেন।

আরো জানতে কিক্ল করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়ে এখন ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪

ব্যাংকগুলোর অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনা আর্থিক চিত্রে প্রকটভাবে ফুটে উঠতে শুরু করেছে, যার ফলে খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাত্র তিন মাসেই ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। গত মার্চ মাসের শেষে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ১১ দশমিক ১১ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছে।

দেশে এর আগে খেলাপি ঋণ এতটা বাড়েনি

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এর পাশাপাশি, খেলাপি হওয়া সুদ যুক্ত হওয়ায়ও খেলাপি ঋণ বেড়েছে। তিনি আরও জানান, খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোতে তদারকি বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যবেক্ষক ও সমন্বয়করা কাজ করছে।

আরো পড়ুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। ফলে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। এই সময়ে সরকারি, বেসরকারি, বিদেশি এবং বিশেষায়িত—সব ধরনের ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ছিল ৬৫ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা, যা মার্চে বেড়ে হয়েছে ৮৪ হাজার ২২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ মার্চে বেড়ে হয়েছে ১৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা।

এছাড়া, সরকারি খাতের বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসির (বিডিবিপি) খেলাপি ঋণ ৮৭৩ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে সরকারি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ২০ দশমিক ৯৯ শতাংশ খেলাপি ছিল, যা মার্চে বেড়ে হয়েছে ২৭ শতাংশ।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৭০ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা, যা মার্চে বেড়ে হয়েছে ৮৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ ঋণ খেলাপি ছিল, যা মার্চে বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যা মার্চে বেড়ে ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ডিসেম্বরে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ ঋণ খেলাপি ছিল, যা মার্চে বেড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক—এই দুই বিশেষায়িত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সেই হিসেবে, খেলাপি ঋণের হার ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ হয়েছে।

আরো পড়ুন

বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকেও খেলাপি ঋণের লাগাম টানা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি, সাবেক ও বর্তমান আমলাদের পর্ষদে পরিচালক নিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়োজিত পর্যবেক্ষকও খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে তিন মাসে খেলাপি ঋণ এত পরিমাণে বেড়েছে বলে মনে করছেন খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ করা ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্তের একটি হলো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার কমানো। ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে বলেছে সংস্থাটি। তবে উল্টো এখন খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংকের বড় গ্রাহকদের প্রায় সবাই সরকারের ঘনিষ্ঠ এবং বিভিন্ন পদে রয়েছেন। তাঁদের ঋণগুলো তদারকির বাইরে থেকে যাচ্ছে। আগে ভালো ছিল, এমন কিছু ঋণও এখন খেলাপি হয়ে পড়ছে। খেলাপি চিহ্নিত করার নতুন নিয়মের কারণে ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে তাঁরা মনে করেন।

আরো জানতে কিক্ল করুন