ঢাকা ০৯:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে যেসব দেশের চাহিদা বেশি, সেই তালিকায় বাংলাদেশিরা কোন অবস্থানে রয়েছে?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

অনলাইনে ফ্রিল্যান্স কাজ করে আয় করছেন অনেকেই (ফাইলছবি)
বিশ্বব্যাপী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ ফ্রিল্যান্সার। ফ্রিল্যান্সিং শব্দটি বাংলাদেশেও পরিচিত। দেশের অনেক তরুণ আইসিটির বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে দেশেই বসে বিদেশি গ্রাহকদের জন্য কাজ করছেন। মার্কিন সাময়িকী সিইওওয়ার্ল্ড গত ১৯ এপ্রিল ফ্রিল্যান্স কাজের জন্য সেরা গন্তব্য ৩০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশ ২৯তম স্থানে রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রকাশিত তথ্য ও প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে সিইওওয়ার্ল্ড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোন দেশের কর্মীদের চাহিদা বেশি, তা নিয়ে এই তালিকা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন

তালিকায় সেরা যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ কোথায়?

যাঁরা ফ্রিল্যান্সারদের কাজ দিচ্ছেন, তাঁদের ভাষ্যে সিইওওয়ার্ল্ড সাময়িকী ২০২৪ সালের সেরা কয়েকটি দেশের ফ্রিল্যান্সারদের তালিকা প্রকাশ করেছে। কাজের ধরন, ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা, আর্থিক অবস্থানসহ প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিষয় যুক্ত করে বিভিন্ন দেশের জন্য নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেই নম্বর বা স্কোর অনুসারে শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকায় ৯৭.৪৬ স্কোর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। তালিকায় ৯৫.৭১ এবং ৯৪.৮১ স্কোর নিয়ে যথাক্রমে ভারত ও যুক্তরাজ্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে। এরপরের তালিকায় ফিলিপাইন, ইউক্রেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, ব্রাজিল এবং পর্তুগালের নাম দেখা যায়। চীনের অবস্থান ২২তম, পাকিস্তানের অবস্থান ২৮তম এবং বাংলাদেশের অবস্থান ২৯তম।

ফ্রিল্যান্স কাজের জন্য সেরা ৩০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে সিইওওয়ার্ল্ড

তালিকায় বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে?

এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান তানজিবা রহমান আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘নানা কারণে এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২৯তম। তালিকাটি করা হয়েছে কাজ দেওয়ার প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে। সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীর ফ্রিল্যান্সারদের দ্বিতীয় বৃহত্তম আবাসস্থল। কিন্তু কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কর্মীরা পিছিয়ে আছেন। এখানকার ফ্রিল্যান্সাররা কম পারিশ্রমিকের কাজ বেশি করেন। গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইনের মতো কাজের বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। কারিগরি যেসব ফ্রিল্যান্স কাজ হয়, সেখানে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের উপস্থিতি কম। এখনো সেই ঘণ্টাপ্রতি পাঁচ থেকে সাত ডলারের কাজ নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামছেন সবাই।’

তানজিবা জানান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তিজ্ঞাননির্ভর কাজের সুযোগ বাড়ছে। এসব কাজে ঘণ্টাপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ ডলার আয়ের সুযোগ আছে। তিনি বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়ার কাজের ধরনে যে দ্রুত পরিবর্তন আসছে, তা থেকে আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা কিছুটা পিছিয়ে। প্রযুক্তিগত যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা সাধারণ কাজ করেন। আবার আমাদের ফ্রিল্যান্সারদের কাজ ঠিক সময়ে শেষ না করার প্রবণতা আছে। ভাষাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রেও দুর্বলতা আছে বলে অনেক কাজে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের আবেদন গ্রহণ করা হয় না। দক্ষতা না বাড়ানোর কারণে আমরা তালিকার পেছনে আছি। তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের কারিগরি ও মূল বিষয়গুলোয় প্রশিক্ষিত করে আমরা তালিকার ওপরের দিকে যেতে পারি।

আরও পড়ুন

সিইওওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের তালিকা দেখে যেসব দেশের ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা বেশি তা দেখা যায়। এই তালিকাতে বাংলাদেশের অবস্থান ২৯তম। অনলাইনে ফ্রিল্যান্স কাজ করে আয় করছেন অনেকে। বিশ্বব্যাপী তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ মুক্ত পেশাজীবী বা ফ্রিল্যান্সার। ফ্রিল্যান্সিং বা ফ্রিল্যান্সার বাংলাদেশেও পরিচিত শব্দ। দেশের অনেক তরুণ আইটির বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে দেশে বসে বিদেশি গ্রাহকের জন্য কাজ করছেন। মার্কিন সাময়িকী সিইওওয়ার্ল্ড গত ১৯ এপ্রিল ফ্রিল্যান্স কাজের জন্য সেরা গন্তব্য ৩০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২৯তম। বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রকাশিত তথ্য ও প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোন দেশের কর্মীদের চাহিদা বেশি, তা নিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছে সিইওওয়ার্ল্ড।

তালিকায় সেরা যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ কোথায়? যাঁরা ফ্রিল্যান্সারদের কাজ দিচ্ছেন, তাঁদের ভাষ্যে সিইওওয়ার্ল্ড সাময়িকী ২০২৪ সালের সেরা কয়েকটি দেশের ফ্রিল্যান্সারদের তালিকা প্রকাশ করেছে। কাজের ধরন, ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা, আর্থিক অবস্থানসহ প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিষয় যুক্ত করে বিভিন্ন দেশের জন্য নম্বর দেওয়া হয়েছে।

সিইওওয়ার্ল্ডসিইওওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন তালিকা প্রকাশ করেছে, যেসব দেশে ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা বেশি, এবং বাংলাদেশ এই তালিকায় কেন পিছিয়ে আছে তা। তালিকায় বাংলাদেশ ২৯তম স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান তানজিবা রহমান আজ প্রথম আলোকে জানান, এই পদক্ষেপের পিছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তারা মূলত হায়ারিং মানে কাজ দেওয়ার প্রবণতার উপর নির্ভর করে তালিকার তৈরি করেন। ফ্রিল্যান্সারদের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের কর্মীরা কম পারিশ্রমিকের কাজ বেশি করেন, এবং বিভিন্ন কারণে এখানে তাদের উপস্থিতি কম। প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের অভাবে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের সাধারণ কাজ করা হচ্ছে, এবং সময়ে কাজ শেষ করতে পারা সমস্যার সম্মুখীন তাদের উপস্থিতি দিকে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। ভাষাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রেও তাদের দক্ষতা নিরাপত্তা রয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে তাদের আবেদনে প্রভাবিত করে। তানজিবা রহমান বলেন, চতুর্থ‌ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তিজ্ঞাননির্ভর কাজের সুযোগ বেড়েছে, যা ঘণ্টাপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ ডলারের আয় সৃষ্টি করে। তার অনুসারে, তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের কারিগরি ও মূল বিষয়গুলোতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দরকার আছে যাতে তারা এই তালিকার ঊর্ধ্বতন অংশে উঠতে পারেন।

আরও পড়ুন

২৫টি ওয়েবসাইট যেখানে আপনি ঘরে বসে দূরবর্তী কাজ খুঁজতে পারেন তা সম্পর্কে চাহিদা রয়েছে। সিইওওওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে। যুক্তরাষ্ট্রে, বিভিন্ন শিল্প খাতে আপনি বিভিন্ন ধরনের দক্ষ ফ্রিল্যান্সারের চাহিদা পাবেন। ইংরেজিভাষী পেশাজীবী, পশ্চিমা পেশাদারত্ব, এবং দক্ষতা সহ ফ্রিল্যান্সারদের গন্তব্য হিসেবে এখানে দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। ভারতে, একটি বেশ প্রতিস্থানকে হিসেবে আপনি আরও প্রচুর ফ্রিল্যান্সার খুঁজতে পাবেন। প্রতিযোগিতাভিত্তিক বাজার ও ইংরেজিতে দক্ষতার জন্য তাদের চাহিদা অনেক রয়েছে। ভারতের দুই কোটির বেশি ফ্রিল্যান্সার রয়েছে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি দেশে কাজ করছেন। আরেকটি এশিয়ান দেশ, ফিলিপাইনের ফ্রিল্যান্সারদের ওয়েবে চাহিদা রয়েছে সারা বিশ্বে।

ফ্রিল্যান্সিং এখন একটি বড় ও বিশ্বব্যাপী ক্ষেত্র। সিইওওয়ার্ল্ডের তথ্যে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৫৭ কোটি ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। ফ্রিল্যান্সিং কাজ দেওয়া-নেওয়া নানা ধরনের ওয়েবসাইট বা মার্কেটপ্লেসের বাজারমান বিশ্বব্যাপী ৩৩৯ কোটি মার্কিন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে, ফ্রিল্যান্সাররা ২০২৩ সালে অতিরিক্ত ১০ কোটি ডলার উপার্জন করেছেন। প্রতি ঘণ্টায় গড়ে বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সাররা ২১ ডলার উপার্জন করেন। অনলাইনে অর্থ লেনদেন সেবা পেওনিয়ারের হিসাবে, এশিয়া অঞ্চলের ৮২ শতাংশ ফ্রিল্যান্সারের বয়স ৩৫ বছর বা তার কম। উত্তর আমেরিকার অর্ধেক ফ্রিল্যান্সারের বয়স ৩৫ বছরের কম। সব মিলিয়ে বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ফ্রিল্যান্সারের বয়স ৩৫ বা তার কম। বিশ্বব্যাংকের তথ্যে, বিশ্বব্যাপী প্রায় অর্ধেক পেশাজীবী বা কর্মী এখন ফ্রিল্যান্সিং করছেন। নিউইয়র্ক, লন্ডন কিংবা মুম্বাইয়ের মতো শহরে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তরুণেরা বেশি কাজ করছেন।

বিস্তারিত জানতে কিক্ল করুন 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে যেসব দেশের চাহিদা বেশি, সেই তালিকায় বাংলাদেশিরা কোন অবস্থানে রয়েছে?

আপডেট সময় : ০৩:০২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

অনলাইনে ফ্রিল্যান্স কাজ করে আয় করছেন অনেকেই (ফাইলছবি)
বিশ্বব্যাপী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ ফ্রিল্যান্সার। ফ্রিল্যান্সিং শব্দটি বাংলাদেশেও পরিচিত। দেশের অনেক তরুণ আইসিটির বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে দেশেই বসে বিদেশি গ্রাহকদের জন্য কাজ করছেন। মার্কিন সাময়িকী সিইওওয়ার্ল্ড গত ১৯ এপ্রিল ফ্রিল্যান্স কাজের জন্য সেরা গন্তব্য ৩০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশ ২৯তম স্থানে রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রকাশিত তথ্য ও প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে সিইওওয়ার্ল্ড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোন দেশের কর্মীদের চাহিদা বেশি, তা নিয়ে এই তালিকা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন

তালিকায় সেরা যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ কোথায়?

যাঁরা ফ্রিল্যান্সারদের কাজ দিচ্ছেন, তাঁদের ভাষ্যে সিইওওয়ার্ল্ড সাময়িকী ২০২৪ সালের সেরা কয়েকটি দেশের ফ্রিল্যান্সারদের তালিকা প্রকাশ করেছে। কাজের ধরন, ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা, আর্থিক অবস্থানসহ প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিষয় যুক্ত করে বিভিন্ন দেশের জন্য নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেই নম্বর বা স্কোর অনুসারে শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকায় ৯৭.৪৬ স্কোর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। তালিকায় ৯৫.৭১ এবং ৯৪.৮১ স্কোর নিয়ে যথাক্রমে ভারত ও যুক্তরাজ্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে। এরপরের তালিকায় ফিলিপাইন, ইউক্রেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, ব্রাজিল এবং পর্তুগালের নাম দেখা যায়। চীনের অবস্থান ২২তম, পাকিস্তানের অবস্থান ২৮তম এবং বাংলাদেশের অবস্থান ২৯তম।

ফ্রিল্যান্স কাজের জন্য সেরা ৩০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে সিইওওয়ার্ল্ড

তালিকায় বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে?

এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান তানজিবা রহমান আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘নানা কারণে এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২৯তম। তালিকাটি করা হয়েছে কাজ দেওয়ার প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে। সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীর ফ্রিল্যান্সারদের দ্বিতীয় বৃহত্তম আবাসস্থল। কিন্তু কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কর্মীরা পিছিয়ে আছেন। এখানকার ফ্রিল্যান্সাররা কম পারিশ্রমিকের কাজ বেশি করেন। গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইনের মতো কাজের বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। কারিগরি যেসব ফ্রিল্যান্স কাজ হয়, সেখানে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের উপস্থিতি কম। এখনো সেই ঘণ্টাপ্রতি পাঁচ থেকে সাত ডলারের কাজ নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামছেন সবাই।’

তানজিবা জানান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তিজ্ঞাননির্ভর কাজের সুযোগ বাড়ছে। এসব কাজে ঘণ্টাপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ ডলার আয়ের সুযোগ আছে। তিনি বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়ার কাজের ধরনে যে দ্রুত পরিবর্তন আসছে, তা থেকে আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা কিছুটা পিছিয়ে। প্রযুক্তিগত যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা সাধারণ কাজ করেন। আবার আমাদের ফ্রিল্যান্সারদের কাজ ঠিক সময়ে শেষ না করার প্রবণতা আছে। ভাষাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রেও দুর্বলতা আছে বলে অনেক কাজে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের আবেদন গ্রহণ করা হয় না। দক্ষতা না বাড়ানোর কারণে আমরা তালিকার পেছনে আছি। তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের কারিগরি ও মূল বিষয়গুলোয় প্রশিক্ষিত করে আমরা তালিকার ওপরের দিকে যেতে পারি।

আরও পড়ুন

সিইওওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের তালিকা দেখে যেসব দেশের ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা বেশি তা দেখা যায়। এই তালিকাতে বাংলাদেশের অবস্থান ২৯তম। অনলাইনে ফ্রিল্যান্স কাজ করে আয় করছেন অনেকে। বিশ্বব্যাপী তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ মুক্ত পেশাজীবী বা ফ্রিল্যান্সার। ফ্রিল্যান্সিং বা ফ্রিল্যান্সার বাংলাদেশেও পরিচিত শব্দ। দেশের অনেক তরুণ আইটির বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে দেশে বসে বিদেশি গ্রাহকের জন্য কাজ করছেন। মার্কিন সাময়িকী সিইওওয়ার্ল্ড গত ১৯ এপ্রিল ফ্রিল্যান্স কাজের জন্য সেরা গন্তব্য ৩০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২৯তম। বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রকাশিত তথ্য ও প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোন দেশের কর্মীদের চাহিদা বেশি, তা নিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছে সিইওওয়ার্ল্ড।

তালিকায় সেরা যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ কোথায়? যাঁরা ফ্রিল্যান্সারদের কাজ দিচ্ছেন, তাঁদের ভাষ্যে সিইওওয়ার্ল্ড সাময়িকী ২০২৪ সালের সেরা কয়েকটি দেশের ফ্রিল্যান্সারদের তালিকা প্রকাশ করেছে। কাজের ধরন, ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা, আর্থিক অবস্থানসহ প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিষয় যুক্ত করে বিভিন্ন দেশের জন্য নম্বর দেওয়া হয়েছে।

সিইওওয়ার্ল্ডসিইওওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন তালিকা প্রকাশ করেছে, যেসব দেশে ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা বেশি, এবং বাংলাদেশ এই তালিকায় কেন পিছিয়ে আছে তা। তালিকায় বাংলাদেশ ২৯তম স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান তানজিবা রহমান আজ প্রথম আলোকে জানান, এই পদক্ষেপের পিছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তারা মূলত হায়ারিং মানে কাজ দেওয়ার প্রবণতার উপর নির্ভর করে তালিকার তৈরি করেন। ফ্রিল্যান্সারদের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের কর্মীরা কম পারিশ্রমিকের কাজ বেশি করেন, এবং বিভিন্ন কারণে এখানে তাদের উপস্থিতি কম। প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের অভাবে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের সাধারণ কাজ করা হচ্ছে, এবং সময়ে কাজ শেষ করতে পারা সমস্যার সম্মুখীন তাদের উপস্থিতি দিকে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। ভাষাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রেও তাদের দক্ষতা নিরাপত্তা রয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে তাদের আবেদনে প্রভাবিত করে। তানজিবা রহমান বলেন, চতুর্থ‌ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তিজ্ঞাননির্ভর কাজের সুযোগ বেড়েছে, যা ঘণ্টাপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ ডলারের আয় সৃষ্টি করে। তার অনুসারে, তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের কারিগরি ও মূল বিষয়গুলোতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দরকার আছে যাতে তারা এই তালিকার ঊর্ধ্বতন অংশে উঠতে পারেন।

আরও পড়ুন

২৫টি ওয়েবসাইট যেখানে আপনি ঘরে বসে দূরবর্তী কাজ খুঁজতে পারেন তা সম্পর্কে চাহিদা রয়েছে। সিইওওওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে। যুক্তরাষ্ট্রে, বিভিন্ন শিল্প খাতে আপনি বিভিন্ন ধরনের দক্ষ ফ্রিল্যান্সারের চাহিদা পাবেন। ইংরেজিভাষী পেশাজীবী, পশ্চিমা পেশাদারত্ব, এবং দক্ষতা সহ ফ্রিল্যান্সারদের গন্তব্য হিসেবে এখানে দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। ভারতে, একটি বেশ প্রতিস্থানকে হিসেবে আপনি আরও প্রচুর ফ্রিল্যান্সার খুঁজতে পাবেন। প্রতিযোগিতাভিত্তিক বাজার ও ইংরেজিতে দক্ষতার জন্য তাদের চাহিদা অনেক রয়েছে। ভারতের দুই কোটির বেশি ফ্রিল্যান্সার রয়েছে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি দেশে কাজ করছেন। আরেকটি এশিয়ান দেশ, ফিলিপাইনের ফ্রিল্যান্সারদের ওয়েবে চাহিদা রয়েছে সারা বিশ্বে।

ফ্রিল্যান্সিং এখন একটি বড় ও বিশ্বব্যাপী ক্ষেত্র। সিইওওয়ার্ল্ডের তথ্যে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৫৭ কোটি ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। ফ্রিল্যান্সিং কাজ দেওয়া-নেওয়া নানা ধরনের ওয়েবসাইট বা মার্কেটপ্লেসের বাজারমান বিশ্বব্যাপী ৩৩৯ কোটি মার্কিন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে, ফ্রিল্যান্সাররা ২০২৩ সালে অতিরিক্ত ১০ কোটি ডলার উপার্জন করেছেন। প্রতি ঘণ্টায় গড়ে বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সাররা ২১ ডলার উপার্জন করেন। অনলাইনে অর্থ লেনদেন সেবা পেওনিয়ারের হিসাবে, এশিয়া অঞ্চলের ৮২ শতাংশ ফ্রিল্যান্সারের বয়স ৩৫ বছর বা তার কম। উত্তর আমেরিকার অর্ধেক ফ্রিল্যান্সারের বয়স ৩৫ বছরের কম। সব মিলিয়ে বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ফ্রিল্যান্সারের বয়স ৩৫ বা তার কম। বিশ্বব্যাংকের তথ্যে, বিশ্বব্যাপী প্রায় অর্ধেক পেশাজীবী বা কর্মী এখন ফ্রিল্যান্সিং করছেন। নিউইয়র্ক, লন্ডন কিংবা মুম্বাইয়ের মতো শহরে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তরুণেরা বেশি কাজ করছেন।

বিস্তারিত জানতে কিক্ল করুন