ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ৯০ কোটি ডলার ঋণ বাজেট সহায়তার জন্য রয়েছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪ ১৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ বাজেট সহায়তা হিসেবে ৫০ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে। এই অর্থ ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট-২ (ডিপিসি) প্রকল্পের আওতায় দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বর্তমান বাজারদরে (প্রতি ডলার ১১৭ টাকা) এর পরিমাণ প্রায় ৫,৮৫০ কোটি টাকা।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় এ ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়। আজ শনিবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে ডিপিসি-২ প্রকল্পের প্রথম কিস্তিতে ২৫ কোটি ডলার দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক মনে করে, এই বাজেট সহায়তা বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সংস্কার এবং টেকসই উন্নয়নের গতি বাড়াবে।

এছাড়াও বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় বাংলাদেশের জন্য আরও একটি ঋণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ৪০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৪,৬৮০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ১০,৫৩০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল্লায়ে সেক বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করবে। নতুন অর্থায়ন বাংলাদেশকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহায়তা করবে—একটি হচ্ছে আর্থিক খাত ও নগর ব্যবস্থাপনা এবং অন্যটি উচ্চ মধ্যম-আয়ের দেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট বার্নার্ড হ্যাভেন বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে এবং আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়াদের জন্য অর্থপ্রাপ্তি ব্যবস্থা উন্নত করতে একটি কার্যকর আর্থিক খাত বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়ার ঋণ অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও বিস্তারিত কিছু তথ্য এবং প্রেক্ষাপট এখানে উল্লেখ করা হলো।

বাজেট সহায়তা ও ডিপিসি প্রকল্প

বিশ্বব্যাংকের ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট (ডিপিসি) প্রকল্পের আওতায় দেওয়া এই বাজেট সহায়তার উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সংস্কার সাধন ও টেকসই উন্নয়নের গতি বাড়ানো। এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তিতে ২৫ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছিল, যা সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখন দ্বিতীয় কিস্তিতে ৫০ কোটি ডলার দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান আর্থিক অবস্থা ও প্রভাব

বাংলাদেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে এই অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বাজারদরে (১১৭ টাকা প্রতি ডলার হিসাবে) এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫,৮৫০ কোটি টাকা। এই অর্থ দেশের বাজেট সহায়তায় ব্যবহার করা হবে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তা করবে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা

বিশ্বব্যাংক বোর্ড সভায় বাংলাদেশকে আরও ৪০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যয় করা হবে। এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪,৬৮০ কোটি টাকা। এই ঋণ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।

আর্থিক খাত ও নগর ব্যবস্থাপনা

বিশ্বব্যাংক থেকে প্রাপ্ত নতুন অর্থায়ন বাংলাদেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে। একদিকে এটি আর্থিক খাতে সংস্কার সাধন করবে, অন্যদিকে নগর ব্যবস্থাপনা উন্নত করবে। উচ্চ মধ্যম-আয়ের দেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এই সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

বিশ্বব্যাংকের মন্তব্য

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল্লায়ে সেক বলেন, এই অর্থায়ন বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে এবং টেকসই উন্নয়নের গতি বাড়াতে সহায়তা করবে। বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট বার্নার্ড হ্যাভেন বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে এবং আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়াদের জন্য অর্থপ্রাপ্তি ব্যবস্থা উন্নত করতে একটি কার্যকর আর্থিক খাত বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঋণ ও অর্থায়ন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ৯০ কোটি ডলার ঋণ বাজেট সহায়তার জন্য রয়েছে

আপডেট সময় : ১০:৫৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪

বাংলাদেশ বাজেট সহায়তা হিসেবে ৫০ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে। এই অর্থ ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট-২ (ডিপিসি) প্রকল্পের আওতায় দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বর্তমান বাজারদরে (প্রতি ডলার ১১৭ টাকা) এর পরিমাণ প্রায় ৫,৮৫০ কোটি টাকা।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় এ ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়। আজ শনিবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে ডিপিসি-২ প্রকল্পের প্রথম কিস্তিতে ২৫ কোটি ডলার দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক মনে করে, এই বাজেট সহায়তা বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সংস্কার এবং টেকসই উন্নয়নের গতি বাড়াবে।

এছাড়াও বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় বাংলাদেশের জন্য আরও একটি ঋণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ৪০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৪,৬৮০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ১০,৫৩০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল্লায়ে সেক বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করবে। নতুন অর্থায়ন বাংলাদেশকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহায়তা করবে—একটি হচ্ছে আর্থিক খাত ও নগর ব্যবস্থাপনা এবং অন্যটি উচ্চ মধ্যম-আয়ের দেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট বার্নার্ড হ্যাভেন বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে এবং আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়াদের জন্য অর্থপ্রাপ্তি ব্যবস্থা উন্নত করতে একটি কার্যকর আর্থিক খাত বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়ার ঋণ অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও বিস্তারিত কিছু তথ্য এবং প্রেক্ষাপট এখানে উল্লেখ করা হলো।

বাজেট সহায়তা ও ডিপিসি প্রকল্প

বিশ্বব্যাংকের ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট (ডিপিসি) প্রকল্পের আওতায় দেওয়া এই বাজেট সহায়তার উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সংস্কার সাধন ও টেকসই উন্নয়নের গতি বাড়ানো। এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তিতে ২৫ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছিল, যা সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখন দ্বিতীয় কিস্তিতে ৫০ কোটি ডলার দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান আর্থিক অবস্থা ও প্রভাব

বাংলাদেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে এই অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বাজারদরে (১১৭ টাকা প্রতি ডলার হিসাবে) এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫,৮৫০ কোটি টাকা। এই অর্থ দেশের বাজেট সহায়তায় ব্যবহার করা হবে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তা করবে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা

বিশ্বব্যাংক বোর্ড সভায় বাংলাদেশকে আরও ৪০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যয় করা হবে। এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪,৬৮০ কোটি টাকা। এই ঋণ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।

আর্থিক খাত ও নগর ব্যবস্থাপনা

বিশ্বব্যাংক থেকে প্রাপ্ত নতুন অর্থায়ন বাংলাদেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে। একদিকে এটি আর্থিক খাতে সংস্কার সাধন করবে, অন্যদিকে নগর ব্যবস্থাপনা উন্নত করবে। উচ্চ মধ্যম-আয়ের দেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এই সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

বিশ্বব্যাংকের মন্তব্য

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল্লায়ে সেক বলেন, এই অর্থায়ন বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে এবং টেকসই উন্নয়নের গতি বাড়াতে সহায়তা করবে। বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট বার্নার্ড হ্যাভেন বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে এবং আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়াদের জন্য অর্থপ্রাপ্তি ব্যবস্থা উন্নত করতে একটি কার্যকর আর্থিক খাত বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঋণ ও অর্থায়ন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।