ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হলিউড সিনেমার গল্প

বাবা কে নিয়ে কিছু সিনেমার গল্প তৈরি করা হয়েছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বের সব বাবার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে এই দিবসটি পালন করা হয়। প্রতিবছর প্রায় ১১১টি দেশে বিভিন্ন আয়োজনে দিনটি উদযাপন করা হয়।

বাবা দিবসে বাবা-সন্তানের সম্পর্ক নিয়ে নির্মিত কিছু উল্লেখযোগ্য সিনেমা দেখে নিতে পারেন। যেমন ‘দ্য লায়ন কিং’, ‘টু কিল আ মকিংবার্ড’, ‘পারস্যুট অব হ্যাপিনেস’, ‘মিসেস ডাউটফায়ার’, ‘রেইনবো জেলি’, ‘ট্রেন টু বুসান’, ‘অনওয়ার্ড’, ‘মোয়ানা’, এবং ‘মিনারি’। তবে কিছু সিনেমার কথা আলাদা করে না বললেই নয়। জেনে নিন কয়েকটি সিনেমা সম্পর্কে, যেগুলোতে বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের মাধুর্য চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

‘দ্য বাইসাইকেল থিফ’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত রোম শহরে তখন ঘোর অভাব। কেউ কাজ পাচ্ছে না, কারও ঘরে খাবার নেই। দারিদ্র্যের কাছে ভীষণ অসহায় অ্যান্টনিও রিকি ও তাঁর পরিবার। ভাগ্যক্রমে একটি চাকরি পেলেন তিনি, তবে শর্ত ছিল যে তাঁর একটি নিজস্ব সাইকেল থাকতে হবে। উপায় না দেখে, বিয়েতে পাওয়া দামি চাদরগুলো বিক্রি করে একটি সাইকেল কিনলেন অ্যান্টনিও।

‘দ্য বাইসাইকেল থিফ’

সেই সাইকেল নিয়ে অ্যান্টনিও আর তার ছোট ছেলে ব্রুনোর কতই না আনন্দ! কিন্তু বিধি বাম। কাজে যাওয়ার প্রথম দিনেই চুরি গেল এত কষ্ট করে কেনা সাইকেলটি! সাইকেল না থাকলে চাকরিও থাকবে না, আর খাবার জোটানোর উপায়ও থাকবে না। তাই বাপ-ছেলে মিলে ছুটলেন হারিয়ে যাওয়া সাইকেলের খোঁজে। রোমের অলিগলিতে সাইকেলের সন্ধানে তাদের এ অভিযান নিয়েই এগিয়ে চলে ১৯৪৮ সালে মুক্তি পাওয়া কালজয়ী এই সিনেমার গল্প।

‘ফ্লাই অ্যাওয়ে হোম’

বাবার সঙ্গে নতুন বাড়িতে কিছুতেই মন বসছিল না অ্যামির। একদিন সে বাড়ির এক কোণে রাজহাঁসের কিছু ডিম খুঁজে পায়। লুকিয়ে লুকিয়ে যত্ন নেয় ডিমগুলোর। ডিম ফুটে বেরিয়ে আসে ১৬টি রাজহাঁসের ছানা। বাবাও জানতে পেরে দারুণ উৎসাহ দেয় তাকে। কিন্তু চোখ ফোটার পর ছোট্ট রাজহাঁসগুলো প্রথম দেখেছে অ্যামিকে, তাকেই মনে করছে মা! অ্যামি যা করছে, তা-ই করছে তারা। তাহলে তাদের উড়তে শেখাবে কে? কেমন করেই বা তারা শীতকালে উড়ে যাবে গরমের দেশে? অ্যামি আর তার বাবা কীভাবে এত সব সমস্যার সমাধান করল, সে কাহিনিই তুলে ধরা হয়েছে ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া সত্যি ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘ফ্লাই অ্যাওয়ে হোম’ সিনেমায়।

‘দীপু নাম্বার টু’

এই সিনেমাটি এক্কেবারে আমাদের গল্প থেকে বানানো বাংলাদেশের সিনেমা। কিশোর দীপু দারুণ সাহসী। নতুন স্কুলে গিয়ে অসাধারণ এবং অদ্ভুত কিছু বন্ধু পায়। আর তাদের নিয়েই দীপু জড়ায় দুর্ধর্ষ এক অ্যাডভেঞ্চারে। গল্পের মূল কাহিনি এটাই। তবে খেয়াল করলে দেখবে, দীপুর বাবাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

তাদের সম্পর্কটা বন্ধুর মতো। বাবা দীপুকে কেমন করে সাহসী, দৃঢ়, স্বাধীন আর উদার মনের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলছেন, তা-ও খেয়াল করার মতো। তাই বন্ধুদের সঙ্গে নানান কাণ্ডকীর্তি এবং অ্যাডভেঞ্চারের পাশাপাশি দীপু আর তার বাবার সম্পর্কটা সত্যিই দারুণ। ‘দীপু নাম্বার টু’ মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালে।

‘ফাইন্ডিং নিমো’

কমলা-সাদা রঙের ছোট্ট মাছ নিমোকে সারাক্ষণ আগলে রাখে বাবা মারলিন। কিছুতেই তাকে চোখের আড়াল হতে দেয় না। কিন্তু বাবার এত বিধিনিষেধে নিমোর বিরক্তির শেষ নেই। সে পুরো পৃথিবী ঘুরে দেখতে চায়। এই ইচ্ছা থেকেই একদিন ঘটে যায় বিরাট দুর্ঘটনা। ছোট্ট নিমো ধরা পড়ে এক ডুবুরির হাতে! যে গভীর সমুদ্রকে সারা জীবন এত ভয় পেয়েছে মারলিন, ছেলেকে বাঁচাতে সেখানেই শুরু হয় তার এক দুর্দান্ত অভিযান। শেষ পর্যন্ত মারলিন ছোট্ট নিমোকে উদ্ধার করতে পেরেছিল কি না, তা জানতে দেখে ফেলুন ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া অসাধারণ অ্যানিমেশন সিনেমাটি ‘ফাইন্ডিং নিমো’।

‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’

কৌতুক আর আবেগের মিশ্রণে তৈরি ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ সিনেমাটিতে গুইডোর প্রেমকাহিনি এবং মৃত্যুপুরী থেকে তার ছেলেকে রক্ষার জন্য অবলম্বন করা বিভিন্ন কলাকৌশল দেখানো হয়েছে। ইতালির রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলা হওয়া শুরু করার পর জার্মান সৈন্যরা ইহুদিদের ধরে নিয়ে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে পাঠাতে লাগল। ছেলের জন্মদিনের দিন গুইডোসহ তার ছেলে এবং চাচাকে ধরে নিয়ে যায়। যাওয়ার পথে তার ছেলে যখন প্রশ্ন করে, “বাবা, আমরা কোথায় যাচ্ছি?” গুইডো কঠিন বাস্তবতাকে গোপন করে হাস্যরসাত্মক ঘটনার মাধ্যমে পরিস্থিতি হালকা করার চেষ্টা করে। তারপর শুরু হয় তাদের ক্যাম্পে টিকে থাকার লড়াই।

‘দ্য সাউন্ড অব মিউজিক’

ক্যাপ্টেন ভন ট্র্যাপ, একজন কঠোর বাবা, তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সাত ছেলেমেয়েকে কঠোর শাসনে রাখেন। স্ত্রী বিয়োগের পর তাদের ঘরে আনন্দ ও গান বন্ধ হয়ে যায়। সন্তানদের দেখাশোনার জন্য মারিয়া নামে একজন ন্যানিকে দায়িত্ব দেন ক্যাপ্টেন। মারিয়া সন্তানদের গানের প্রতি অনুরক্ত করে তোলেন। নানা ঘটনার পর সংগীতবিদ্বেষী ভন ট্র্যাপও একসময় সন্তানদের গানের ভক্ত হয়ে ওঠেন। যখন নাৎসি বাহিনীকে সহায়তা করতে নৌবাহিনীর অফিসার ভন ট্র্যাপের যুদ্ধে যাওয়ার ডাক আসে, তখন তিনি যুদ্ধে না গিয়ে সন্তানদের সঙ্গে গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং জিতে যান। এতে নাৎসি বাহিনী তার পিছু নেয়। তিনি সন্তানদের নিয়ে দুর্গম আল্পস পর্বতের মধ্য দিয়ে সুইজারল্যান্ডের দিকে রওনা হন।

‘স্লিপলেস ইন সিয়াটল’

হলিউডে বাবা ও সন্তানের সম্পর্ককেন্দ্রিক সিনেমাগুলোর মধ্যে টম হ্যাংকস অভিনীত ‘স্লিপলেস ইন সিয়াটল’ উল্লেখযোগ্য। একা বাবা স্যাম (টম হ্যাংকস) এবং তার শিশুপুত্র জোনাহকে নিয়েই পুরো গল্প। নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে জোনাহ পড়ে গেছে মনে করে স্যামের যে অভিব্যক্তি এবং শেষ পর্যন্ত তাকে জীবিত দেখে যে আবেগ দেখায়, সেটি একমাত্র কোনো বাবার পক্ষেই সম্ভব।

‘টু কিল আ মকিংবার্ড’

সিনেমায় দেখা যায় গুরুগম্ভীর বাবা অ্যাটিকাস ফিঞ্চকে (গ্রেগরি পেক)। আপাতদৃষ্টিতে সফল আইন ব্যবসায়ী ফিঞ্চ তার দুই শিশুসন্তানের প্রতি তেমন কোনো আবেগ উচ্ছ্বাস দেখান না। মাতৃহীন সন্তান দুটি প্রায় অনাদরে বেড়ে ওঠে। কিন্তু প্রয়োজনে ফিঞ্চ তার সন্তানদের রক্ষা করতে কতটা বদ্ধপরিকর, তা বোঝা যায় ছবির ক্লাইম্যাক্সে। এ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য গ্রেগরি পেক সেরা অভিনেতার অস্কার জিতেছিলেন। গ্রেগরি পেককে ‘ইয়ার্লিং’ সিনেমায় স্নেহশীল এক বাবার ভূমিকায় দেখা যায়। আবার হরর মুভি ‘ওমেন’-এ গ্রেগরি পেক অশুভ শক্তির অধিকারী তার কথিত সন্তানকে হত্যা করে মানবজাতিকে বাঁচাতে বদ্ধপরিকর।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

হলিউড সিনেমার গল্প

বাবা কে নিয়ে কিছু সিনেমার গল্প তৈরি করা হয়েছে

আপডেট সময় : ১২:১৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বের সব বাবার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে এই দিবসটি পালন করা হয়। প্রতিবছর প্রায় ১১১টি দেশে বিভিন্ন আয়োজনে দিনটি উদযাপন করা হয়।

বাবা দিবসে বাবা-সন্তানের সম্পর্ক নিয়ে নির্মিত কিছু উল্লেখযোগ্য সিনেমা দেখে নিতে পারেন। যেমন ‘দ্য লায়ন কিং’, ‘টু কিল আ মকিংবার্ড’, ‘পারস্যুট অব হ্যাপিনেস’, ‘মিসেস ডাউটফায়ার’, ‘রেইনবো জেলি’, ‘ট্রেন টু বুসান’, ‘অনওয়ার্ড’, ‘মোয়ানা’, এবং ‘মিনারি’। তবে কিছু সিনেমার কথা আলাদা করে না বললেই নয়। জেনে নিন কয়েকটি সিনেমা সম্পর্কে, যেগুলোতে বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের মাধুর্য চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

‘দ্য বাইসাইকেল থিফ’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত রোম শহরে তখন ঘোর অভাব। কেউ কাজ পাচ্ছে না, কারও ঘরে খাবার নেই। দারিদ্র্যের কাছে ভীষণ অসহায় অ্যান্টনিও রিকি ও তাঁর পরিবার। ভাগ্যক্রমে একটি চাকরি পেলেন তিনি, তবে শর্ত ছিল যে তাঁর একটি নিজস্ব সাইকেল থাকতে হবে। উপায় না দেখে, বিয়েতে পাওয়া দামি চাদরগুলো বিক্রি করে একটি সাইকেল কিনলেন অ্যান্টনিও।

‘দ্য বাইসাইকেল থিফ’

সেই সাইকেল নিয়ে অ্যান্টনিও আর তার ছোট ছেলে ব্রুনোর কতই না আনন্দ! কিন্তু বিধি বাম। কাজে যাওয়ার প্রথম দিনেই চুরি গেল এত কষ্ট করে কেনা সাইকেলটি! সাইকেল না থাকলে চাকরিও থাকবে না, আর খাবার জোটানোর উপায়ও থাকবে না। তাই বাপ-ছেলে মিলে ছুটলেন হারিয়ে যাওয়া সাইকেলের খোঁজে। রোমের অলিগলিতে সাইকেলের সন্ধানে তাদের এ অভিযান নিয়েই এগিয়ে চলে ১৯৪৮ সালে মুক্তি পাওয়া কালজয়ী এই সিনেমার গল্প।

‘ফ্লাই অ্যাওয়ে হোম’

বাবার সঙ্গে নতুন বাড়িতে কিছুতেই মন বসছিল না অ্যামির। একদিন সে বাড়ির এক কোণে রাজহাঁসের কিছু ডিম খুঁজে পায়। লুকিয়ে লুকিয়ে যত্ন নেয় ডিমগুলোর। ডিম ফুটে বেরিয়ে আসে ১৬টি রাজহাঁসের ছানা। বাবাও জানতে পেরে দারুণ উৎসাহ দেয় তাকে। কিন্তু চোখ ফোটার পর ছোট্ট রাজহাঁসগুলো প্রথম দেখেছে অ্যামিকে, তাকেই মনে করছে মা! অ্যামি যা করছে, তা-ই করছে তারা। তাহলে তাদের উড়তে শেখাবে কে? কেমন করেই বা তারা শীতকালে উড়ে যাবে গরমের দেশে? অ্যামি আর তার বাবা কীভাবে এত সব সমস্যার সমাধান করল, সে কাহিনিই তুলে ধরা হয়েছে ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া সত্যি ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘ফ্লাই অ্যাওয়ে হোম’ সিনেমায়।

‘দীপু নাম্বার টু’

এই সিনেমাটি এক্কেবারে আমাদের গল্প থেকে বানানো বাংলাদেশের সিনেমা। কিশোর দীপু দারুণ সাহসী। নতুন স্কুলে গিয়ে অসাধারণ এবং অদ্ভুত কিছু বন্ধু পায়। আর তাদের নিয়েই দীপু জড়ায় দুর্ধর্ষ এক অ্যাডভেঞ্চারে। গল্পের মূল কাহিনি এটাই। তবে খেয়াল করলে দেখবে, দীপুর বাবাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

তাদের সম্পর্কটা বন্ধুর মতো। বাবা দীপুকে কেমন করে সাহসী, দৃঢ়, স্বাধীন আর উদার মনের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলছেন, তা-ও খেয়াল করার মতো। তাই বন্ধুদের সঙ্গে নানান কাণ্ডকীর্তি এবং অ্যাডভেঞ্চারের পাশাপাশি দীপু আর তার বাবার সম্পর্কটা সত্যিই দারুণ। ‘দীপু নাম্বার টু’ মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালে।

‘ফাইন্ডিং নিমো’

কমলা-সাদা রঙের ছোট্ট মাছ নিমোকে সারাক্ষণ আগলে রাখে বাবা মারলিন। কিছুতেই তাকে চোখের আড়াল হতে দেয় না। কিন্তু বাবার এত বিধিনিষেধে নিমোর বিরক্তির শেষ নেই। সে পুরো পৃথিবী ঘুরে দেখতে চায়। এই ইচ্ছা থেকেই একদিন ঘটে যায় বিরাট দুর্ঘটনা। ছোট্ট নিমো ধরা পড়ে এক ডুবুরির হাতে! যে গভীর সমুদ্রকে সারা জীবন এত ভয় পেয়েছে মারলিন, ছেলেকে বাঁচাতে সেখানেই শুরু হয় তার এক দুর্দান্ত অভিযান। শেষ পর্যন্ত মারলিন ছোট্ট নিমোকে উদ্ধার করতে পেরেছিল কি না, তা জানতে দেখে ফেলুন ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া অসাধারণ অ্যানিমেশন সিনেমাটি ‘ফাইন্ডিং নিমো’।

‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’

কৌতুক আর আবেগের মিশ্রণে তৈরি ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ সিনেমাটিতে গুইডোর প্রেমকাহিনি এবং মৃত্যুপুরী থেকে তার ছেলেকে রক্ষার জন্য অবলম্বন করা বিভিন্ন কলাকৌশল দেখানো হয়েছে। ইতালির রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলা হওয়া শুরু করার পর জার্মান সৈন্যরা ইহুদিদের ধরে নিয়ে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে পাঠাতে লাগল। ছেলের জন্মদিনের দিন গুইডোসহ তার ছেলে এবং চাচাকে ধরে নিয়ে যায়। যাওয়ার পথে তার ছেলে যখন প্রশ্ন করে, “বাবা, আমরা কোথায় যাচ্ছি?” গুইডো কঠিন বাস্তবতাকে গোপন করে হাস্যরসাত্মক ঘটনার মাধ্যমে পরিস্থিতি হালকা করার চেষ্টা করে। তারপর শুরু হয় তাদের ক্যাম্পে টিকে থাকার লড়াই।

‘দ্য সাউন্ড অব মিউজিক’

ক্যাপ্টেন ভন ট্র্যাপ, একজন কঠোর বাবা, তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সাত ছেলেমেয়েকে কঠোর শাসনে রাখেন। স্ত্রী বিয়োগের পর তাদের ঘরে আনন্দ ও গান বন্ধ হয়ে যায়। সন্তানদের দেখাশোনার জন্য মারিয়া নামে একজন ন্যানিকে দায়িত্ব দেন ক্যাপ্টেন। মারিয়া সন্তানদের গানের প্রতি অনুরক্ত করে তোলেন। নানা ঘটনার পর সংগীতবিদ্বেষী ভন ট্র্যাপও একসময় সন্তানদের গানের ভক্ত হয়ে ওঠেন। যখন নাৎসি বাহিনীকে সহায়তা করতে নৌবাহিনীর অফিসার ভন ট্র্যাপের যুদ্ধে যাওয়ার ডাক আসে, তখন তিনি যুদ্ধে না গিয়ে সন্তানদের সঙ্গে গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং জিতে যান। এতে নাৎসি বাহিনী তার পিছু নেয়। তিনি সন্তানদের নিয়ে দুর্গম আল্পস পর্বতের মধ্য দিয়ে সুইজারল্যান্ডের দিকে রওনা হন।

‘স্লিপলেস ইন সিয়াটল’

হলিউডে বাবা ও সন্তানের সম্পর্ককেন্দ্রিক সিনেমাগুলোর মধ্যে টম হ্যাংকস অভিনীত ‘স্লিপলেস ইন সিয়াটল’ উল্লেখযোগ্য। একা বাবা স্যাম (টম হ্যাংকস) এবং তার শিশুপুত্র জোনাহকে নিয়েই পুরো গল্প। নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে জোনাহ পড়ে গেছে মনে করে স্যামের যে অভিব্যক্তি এবং শেষ পর্যন্ত তাকে জীবিত দেখে যে আবেগ দেখায়, সেটি একমাত্র কোনো বাবার পক্ষেই সম্ভব।

‘টু কিল আ মকিংবার্ড’

সিনেমায় দেখা যায় গুরুগম্ভীর বাবা অ্যাটিকাস ফিঞ্চকে (গ্রেগরি পেক)। আপাতদৃষ্টিতে সফল আইন ব্যবসায়ী ফিঞ্চ তার দুই শিশুসন্তানের প্রতি তেমন কোনো আবেগ উচ্ছ্বাস দেখান না। মাতৃহীন সন্তান দুটি প্রায় অনাদরে বেড়ে ওঠে। কিন্তু প্রয়োজনে ফিঞ্চ তার সন্তানদের রক্ষা করতে কতটা বদ্ধপরিকর, তা বোঝা যায় ছবির ক্লাইম্যাক্সে। এ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য গ্রেগরি পেক সেরা অভিনেতার অস্কার জিতেছিলেন। গ্রেগরি পেককে ‘ইয়ার্লিং’ সিনেমায় স্নেহশীল এক বাবার ভূমিকায় দেখা যায়। আবার হরর মুভি ‘ওমেন’-এ গ্রেগরি পেক অশুভ শক্তির অধিকারী তার কথিত সন্তানকে হত্যা করে মানবজাতিকে বাঁচাতে বদ্ধপরিকর।