ঢাকা ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফুটবল দর্শক গর্ডন ব্যাংকসকে অবিশ্বাস্য এদেরকে চেনেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪ ৫০ বার পড়া হয়েছে

ফুটবলের দর্শক হলে গর্ডন ব্যাংকসকে নিশ্চয়ই চেনেন, অথবা অন্তত তার নাম শুনেছেন। যদি তা না হয়, একবার ইউটিউবে তার নাম সার্চ করে দেখুন। সবার আগে যে ভিডিওটি পাবেন সেটির শিরোনাম হবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট সেভ এভার’। আরেকটি হতে পারে ‘গর্ডন ব্যাংকস—ব্যাংকস অব ইংল্যান্ড’। এর পরের ভিডিওগুলোতেও আপনি তার অনন্য কীর্তি দেখতে পাবেন। বেশিরভাগ ভিডিওই বিশেষ একটি মুহূর্তের, যাকে বলা হয় ‘ব্যাংকস মোমেন্ট’। একবার দেখলেই আপনি বুঝবেন কেন গর্ডন ব্যাংকসকে ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলরক্ষক বলা হয়।

১৯৭০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল-ইংল্যান্ড ম্যাচ। খেলা শুরুর ১০ মিনিট পর, ডান প্রান্ত থেকে জেয়ারজিনহো একটি মাপা ক্রস করেন। পোস্টের সামনে ভিড় করা ইংলিশ রক্ষণের ভেতর থেকে লাফ দিয়ে জোরালো হেড করেন পেলে। বলটি এবড়োখেবড়ো মাটিতে ড্রপ খায় গোললাইন থেকে প্রায় দুই গজ আগে।

ব্যাংকস ক্রসটি আসার সময় যে পজিশনে ছিলেন, পেলের হেডের বিপদ টের পেয়ে দ্রুত সরে যান। কিন্তু ব্যাংকসের ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে পেলে হেডটি করায় সেই মুহূর্তে ডাইভ দিতেই হতো ইংল্যান্ডের গোলকিপারকে। তিনি ডাইভ দিয়েছিলেনও, তবে বিশেষত্ব হলো, সেই মুহূর্তে তিনি যে পজিশনে ছিলেন, সেখান থেকে নিজের শরীরের পেছন দিকে ডাইভ দেওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। অকল্পনীয় ক্ষিপ্রতায় ব্যাংকস ঠিক এই অসম্ভবকে সম্ভব করেই নিশ্চিত গোল রুখে দিয়েছিলেন। হেডের পরই উদ্‌যাপনে মেতে ওঠা পেলে পর্যন্ত ব্যাংকসের সেই সেভ দেখে হতভম্ব হয়ে যান। গোটা বিশ্বও থমকে গিয়েছিল এক মুহূর্তের জন্য। এটাও সম্ভব!

ফুটবলে অসাধারণ সেভের সংখ্যা অসংখ্য। নির্দিষ্ট কোনো সেভকে এককভাবে সেরা বলা যায় না। তবে ব্যাংকসের সেই সেভকে অনেকেই তর্কযোগ্যভাবে সর্বকালের সেরা বলে মনে করেন। ‘সেভ অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামটা তো আর এমনি দেওয়া হয়নি। তবে এই লেখার মূল চরিত্র গর্ডন ব্যাংকস নন, যিনি ২০১৯ সালে প্রয়াত হন এবং ১৯৬৬ সাল থেকে টানা ছয়বার ফিফার বর্ষসেরা গোলকিপার হয়েছিলেন। ইউরোতে গতকাল রাতের ম্যাচের পর থেকেই প্রসঙ্গক্রমে ব্যাংকস উঠে আসছেন। বিবিসি তো বলেই দিয়েছে ‘ব্যাংকস রেপ্লিকা’। পাশাপাশি এই প্রশ্নও উঠছে, ইউরোর ইতিহাসে সেটি কি সেরা সেভ?

কোনটা? গতকাল রাতে ইউরোর শেষ ষোলোয় অস্ট্রিয়া-তুরস্ক ম্যাচটি দেখে থাকলে প্রশ্নটি অবান্তর। তবু লাইপজিগের বৃষ্টিস্নাত মুহূর্তটি একবার মনে করিয়ে দেওয়া যাক। যোগ করা সময় মিলিয়ে ম্যাচের তখন ৯৫তম মিনিট। তুরস্ক ২-১ গোলে এগিয়ে। বাঁ প্রান্ত থেকে বাতাসে ভেসে আসা বল তুর্কি বক্সের ভেতর থেকে দূরের পোস্টের দিকে হেড করেন অস্ট্রিয়ান মিডফিল্ডার ক্রিস্তফ বাউমগার্টনার। পেলের সেই হেডের মতো বাউমগার্টনারের হেডও গোললাইন থেকে প্রায় দুই গজ সামনে বাউন্স খেয়ে উঠেছিল। ওই অবস্থায় খুব কাছাকাছি দাঁড়ানো তুর্কি গোলকিপার মের্ত গুনক কীভাবে বলটি ঠেকালেন, সেটি কোটি টাকার প্রশ্ন।

চাইলে ইউটিউব বা এক্স-এ সেই মুহূর্তের ভিডিও রিপ্লে দেখতে পারবেন। বাউমগার্টনার হেড করতে যখন লাফ দিয়েছিলেন, তখন গুনক বাঁ পোস্টের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই দূরের পোস্টকে লক্ষ্য বানান অস্ট্রিয়ান মিডফিল্ডার। হেডের পর গুনক কম সময়ের মধ্যে বিপদটা টের পেয়েছিলেন, ব্যাংকসের মতো। দূরের পোস্ট এবং নিজের মাঝে ব্যবধান কমাতে ডাইভের বিকল্প ছিল না তাঁর কাছে। তবে শুধু ডাইভ দিলেই হতো না, বলটি ড্রপ খেয়ে বেশ উঠেছিল, যেটা ব্যাংকসের জন্য অনেক কম ছিল। ভিডিও রিপ্লে দেখলে বোঝা যায়, গুনকের অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্স দেখিয়ে ডাইভ দিতে বলটি যেহেতু ড্রপ খেয়ে বেশ উঠেছিল, তাই ব্যাংকসের জন্য বলটি শূন্যে থাকতেই তাকে ঠেকাতে হয়েছে। অবিশ্বাস্য!

যদি গতকাল রাতের ইউরো চূড়ান্ত ম্যাচ দেখে থাকেন, তাহলে আপনি নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারতেন যে, এই ম্যাচ থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে টিকিট নিয়ে দিয়েছেন কে! ম্যাচের শেষে অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক এমন বলেছিলেন, ‘সমতাসূচক গোলের সময়টা আমরা পেয়েছিলাম। কিন্তু গোলে গর্ডন ব্যাংকস থাকলে কাজটা কঠিন।’

শুধু রাংনিক নন, গুনকের এই সেভের সঙ্গে ৫৪ বছর আগে ব্যাংকসের সেই সেভের তুলনা করেছেন অনেকেই। বিবিসি রেডিও লাইভ ফাইভে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার ম্যাথু আপসন বলেছেন, ‘এটা তো গর্ডন ব্যাংকস! অবিশ্বাস্য। কী একটা মুহূর্ত! কিপার পোস্টের সামনে স্রেফ ঘুরে গেল! অসাধারণ।’ আপসন এখানেই থামেননি। পেলের মতো বাউমগার্টনারও ভেবেছিলেন ওটা গোল—তা বুঝিয়ে আপসন বলেছেন, ‘বাউমগার্টনার ভেবেছে বলটা জালে। সে কোনো ভুল করেনি… এটা আসলে গর্ডন ব্যাংকস। একই রকম।

আইটিভিতে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার এবং ফুটবল পন্ডিত লি ডিক্সন বলেছেন, ‘ফার্স্ট ক্লাস! মনে হচ্ছে গর্ডন ব্যাংকসের রেপ্লিকা।’ ডিক্সনের এই কথাকেই নিজেদের প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে বিবিসি। একই প্রতিবেদনে ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার ক্রিস সাটনের মন্তব্য, ‘গুনকের এই সেভ ইউরোর ইতিহাসেই অন্যতম সেরা।

তুরস্ক দলে গুনক সবচেয়ে বয়সী খেলোয়াড়। কিন্তু বয়সের ভারে ন্যূজ না হয়ে তাঁর অমন অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে করা সেভে যে কারোরই মজার কথা। গুনকের সতীর্থ এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করা—একটি ইউরো নকআউটের ইতিহাসে দ্রুততম গোল—ডিফেন্ডার মেরি ডেমিরাল বলেছেন, ‘নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারিনি—সম্ভবত আমার দেখা অন্যতম সেরা সেভগুলোর একটি। তার এটা প্রাপ্য।’

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর গোলকিপিং বিশ্লেষক ম্যাট পিজদ্রোফস্কি গুনকের সেভটি বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর মতে, এটি এবারের ‘ইউরোয় সেরা সেভ’। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এ প্রকাশিত বিশ্লেষণে সাবেক এই গোলকিপার ও কোচের মন্তব্য, ‘এটা আমার দেখা অন্যতম সেরা সেভ বললে এতটুকু বাড়িয়ে বলা হবে না…সে যেভাবে বলটির দিকে ফিরেছে এবং ভেজা মাঠে বাউন্স করা বল সেভ করেছে, বিশেষ এক মুহূর্ত। সেনসেশনাল।

এই সেভের পেছনে সম্ভাব্য কারণও ব্যাখ্যা করেছেন পিজদ্রোফস্কি, ‘গুনকের এই সেভে সহজাত সচেতনতার একটা ব্যাপার ছিল, যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধারাবাহিক প্রস্তুতির মাধ্যমে তৈরি হয়। মুভমেন্টের মাধ্যমে বলের ওপর সে শরীরটাকে যেভাবে ফেলেছে, সেটা বিরামহীন অনুশীলনে তৈরি: ফলটা হলো একদম সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় সে বারবার নিজের শরীরটা ফেলতে পারবে। তাই ওই সেভটি হুট করেই হয়ে যায়নি।’

ম্যাচ শেষে অস্ট্রিয়া কোচ রাংনিকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, গুনকের সেভটি দেখে তাঁর ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্যাংকসের সেই সেভ মনে পড়েছে কি না?

রাংনিক উত্তর দিয়েছেন এককথায়, সত্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

ফুটবল দর্শক গর্ডন ব্যাংকসকে অবিশ্বাস্য এদেরকে চেনেন

আপডেট সময় : ০৪:০৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪

ফুটবলের দর্শক হলে গর্ডন ব্যাংকসকে নিশ্চয়ই চেনেন, অথবা অন্তত তার নাম শুনেছেন। যদি তা না হয়, একবার ইউটিউবে তার নাম সার্চ করে দেখুন। সবার আগে যে ভিডিওটি পাবেন সেটির শিরোনাম হবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট সেভ এভার’। আরেকটি হতে পারে ‘গর্ডন ব্যাংকস—ব্যাংকস অব ইংল্যান্ড’। এর পরের ভিডিওগুলোতেও আপনি তার অনন্য কীর্তি দেখতে পাবেন। বেশিরভাগ ভিডিওই বিশেষ একটি মুহূর্তের, যাকে বলা হয় ‘ব্যাংকস মোমেন্ট’। একবার দেখলেই আপনি বুঝবেন কেন গর্ডন ব্যাংকসকে ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলরক্ষক বলা হয়।

১৯৭০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল-ইংল্যান্ড ম্যাচ। খেলা শুরুর ১০ মিনিট পর, ডান প্রান্ত থেকে জেয়ারজিনহো একটি মাপা ক্রস করেন। পোস্টের সামনে ভিড় করা ইংলিশ রক্ষণের ভেতর থেকে লাফ দিয়ে জোরালো হেড করেন পেলে। বলটি এবড়োখেবড়ো মাটিতে ড্রপ খায় গোললাইন থেকে প্রায় দুই গজ আগে।

ব্যাংকস ক্রসটি আসার সময় যে পজিশনে ছিলেন, পেলের হেডের বিপদ টের পেয়ে দ্রুত সরে যান। কিন্তু ব্যাংকসের ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে পেলে হেডটি করায় সেই মুহূর্তে ডাইভ দিতেই হতো ইংল্যান্ডের গোলকিপারকে। তিনি ডাইভ দিয়েছিলেনও, তবে বিশেষত্ব হলো, সেই মুহূর্তে তিনি যে পজিশনে ছিলেন, সেখান থেকে নিজের শরীরের পেছন দিকে ডাইভ দেওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। অকল্পনীয় ক্ষিপ্রতায় ব্যাংকস ঠিক এই অসম্ভবকে সম্ভব করেই নিশ্চিত গোল রুখে দিয়েছিলেন। হেডের পরই উদ্‌যাপনে মেতে ওঠা পেলে পর্যন্ত ব্যাংকসের সেই সেভ দেখে হতভম্ব হয়ে যান। গোটা বিশ্বও থমকে গিয়েছিল এক মুহূর্তের জন্য। এটাও সম্ভব!

ফুটবলে অসাধারণ সেভের সংখ্যা অসংখ্য। নির্দিষ্ট কোনো সেভকে এককভাবে সেরা বলা যায় না। তবে ব্যাংকসের সেই সেভকে অনেকেই তর্কযোগ্যভাবে সর্বকালের সেরা বলে মনে করেন। ‘সেভ অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামটা তো আর এমনি দেওয়া হয়নি। তবে এই লেখার মূল চরিত্র গর্ডন ব্যাংকস নন, যিনি ২০১৯ সালে প্রয়াত হন এবং ১৯৬৬ সাল থেকে টানা ছয়বার ফিফার বর্ষসেরা গোলকিপার হয়েছিলেন। ইউরোতে গতকাল রাতের ম্যাচের পর থেকেই প্রসঙ্গক্রমে ব্যাংকস উঠে আসছেন। বিবিসি তো বলেই দিয়েছে ‘ব্যাংকস রেপ্লিকা’। পাশাপাশি এই প্রশ্নও উঠছে, ইউরোর ইতিহাসে সেটি কি সেরা সেভ?

কোনটা? গতকাল রাতে ইউরোর শেষ ষোলোয় অস্ট্রিয়া-তুরস্ক ম্যাচটি দেখে থাকলে প্রশ্নটি অবান্তর। তবু লাইপজিগের বৃষ্টিস্নাত মুহূর্তটি একবার মনে করিয়ে দেওয়া যাক। যোগ করা সময় মিলিয়ে ম্যাচের তখন ৯৫তম মিনিট। তুরস্ক ২-১ গোলে এগিয়ে। বাঁ প্রান্ত থেকে বাতাসে ভেসে আসা বল তুর্কি বক্সের ভেতর থেকে দূরের পোস্টের দিকে হেড করেন অস্ট্রিয়ান মিডফিল্ডার ক্রিস্তফ বাউমগার্টনার। পেলের সেই হেডের মতো বাউমগার্টনারের হেডও গোললাইন থেকে প্রায় দুই গজ সামনে বাউন্স খেয়ে উঠেছিল। ওই অবস্থায় খুব কাছাকাছি দাঁড়ানো তুর্কি গোলকিপার মের্ত গুনক কীভাবে বলটি ঠেকালেন, সেটি কোটি টাকার প্রশ্ন।

চাইলে ইউটিউব বা এক্স-এ সেই মুহূর্তের ভিডিও রিপ্লে দেখতে পারবেন। বাউমগার্টনার হেড করতে যখন লাফ দিয়েছিলেন, তখন গুনক বাঁ পোস্টের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই দূরের পোস্টকে লক্ষ্য বানান অস্ট্রিয়ান মিডফিল্ডার। হেডের পর গুনক কম সময়ের মধ্যে বিপদটা টের পেয়েছিলেন, ব্যাংকসের মতো। দূরের পোস্ট এবং নিজের মাঝে ব্যবধান কমাতে ডাইভের বিকল্প ছিল না তাঁর কাছে। তবে শুধু ডাইভ দিলেই হতো না, বলটি ড্রপ খেয়ে বেশ উঠেছিল, যেটা ব্যাংকসের জন্য অনেক কম ছিল। ভিডিও রিপ্লে দেখলে বোঝা যায়, গুনকের অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্স দেখিয়ে ডাইভ দিতে বলটি যেহেতু ড্রপ খেয়ে বেশ উঠেছিল, তাই ব্যাংকসের জন্য বলটি শূন্যে থাকতেই তাকে ঠেকাতে হয়েছে। অবিশ্বাস্য!

যদি গতকাল রাতের ইউরো চূড়ান্ত ম্যাচ দেখে থাকেন, তাহলে আপনি নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারতেন যে, এই ম্যাচ থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে টিকিট নিয়ে দিয়েছেন কে! ম্যাচের শেষে অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক এমন বলেছিলেন, ‘সমতাসূচক গোলের সময়টা আমরা পেয়েছিলাম। কিন্তু গোলে গর্ডন ব্যাংকস থাকলে কাজটা কঠিন।’

শুধু রাংনিক নন, গুনকের এই সেভের সঙ্গে ৫৪ বছর আগে ব্যাংকসের সেই সেভের তুলনা করেছেন অনেকেই। বিবিসি রেডিও লাইভ ফাইভে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার ম্যাথু আপসন বলেছেন, ‘এটা তো গর্ডন ব্যাংকস! অবিশ্বাস্য। কী একটা মুহূর্ত! কিপার পোস্টের সামনে স্রেফ ঘুরে গেল! অসাধারণ।’ আপসন এখানেই থামেননি। পেলের মতো বাউমগার্টনারও ভেবেছিলেন ওটা গোল—তা বুঝিয়ে আপসন বলেছেন, ‘বাউমগার্টনার ভেবেছে বলটা জালে। সে কোনো ভুল করেনি… এটা আসলে গর্ডন ব্যাংকস। একই রকম।

আইটিভিতে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার এবং ফুটবল পন্ডিত লি ডিক্সন বলেছেন, ‘ফার্স্ট ক্লাস! মনে হচ্ছে গর্ডন ব্যাংকসের রেপ্লিকা।’ ডিক্সনের এই কথাকেই নিজেদের প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে বিবিসি। একই প্রতিবেদনে ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার ক্রিস সাটনের মন্তব্য, ‘গুনকের এই সেভ ইউরোর ইতিহাসেই অন্যতম সেরা।

তুরস্ক দলে গুনক সবচেয়ে বয়সী খেলোয়াড়। কিন্তু বয়সের ভারে ন্যূজ না হয়ে তাঁর অমন অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে করা সেভে যে কারোরই মজার কথা। গুনকের সতীর্থ এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করা—একটি ইউরো নকআউটের ইতিহাসে দ্রুততম গোল—ডিফেন্ডার মেরি ডেমিরাল বলেছেন, ‘নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারিনি—সম্ভবত আমার দেখা অন্যতম সেরা সেভগুলোর একটি। তার এটা প্রাপ্য।’

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর গোলকিপিং বিশ্লেষক ম্যাট পিজদ্রোফস্কি গুনকের সেভটি বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর মতে, এটি এবারের ‘ইউরোয় সেরা সেভ’। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এ প্রকাশিত বিশ্লেষণে সাবেক এই গোলকিপার ও কোচের মন্তব্য, ‘এটা আমার দেখা অন্যতম সেরা সেভ বললে এতটুকু বাড়িয়ে বলা হবে না…সে যেভাবে বলটির দিকে ফিরেছে এবং ভেজা মাঠে বাউন্স করা বল সেভ করেছে, বিশেষ এক মুহূর্ত। সেনসেশনাল।

এই সেভের পেছনে সম্ভাব্য কারণও ব্যাখ্যা করেছেন পিজদ্রোফস্কি, ‘গুনকের এই সেভে সহজাত সচেতনতার একটা ব্যাপার ছিল, যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধারাবাহিক প্রস্তুতির মাধ্যমে তৈরি হয়। মুভমেন্টের মাধ্যমে বলের ওপর সে শরীরটাকে যেভাবে ফেলেছে, সেটা বিরামহীন অনুশীলনে তৈরি: ফলটা হলো একদম সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় সে বারবার নিজের শরীরটা ফেলতে পারবে। তাই ওই সেভটি হুট করেই হয়ে যায়নি।’

ম্যাচ শেষে অস্ট্রিয়া কোচ রাংনিকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, গুনকের সেভটি দেখে তাঁর ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্যাংকসের সেই সেভ মনে পড়েছে কি না?

রাংনিক উত্তর দিয়েছেন এককথায়, সত্য।