ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর সফর চীর রেল প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ বাংলাদেশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪ ৫৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাতের নয়টি প্রকল্পে চীনা ঋণ পেতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফরে এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। ইতিমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেল মন্ত্রণালয় এসব প্রকল্পের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও রেল মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, তালিকায় রেলের প্রকল্প রয়েছে ছয়টি। এছাড়া ঢাকা থেকে গাবতলী হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইন নির্মাণ, পিরোজপুরের কচা নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণ এবং মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর সেতুর মেরামতের প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ থেকে ১১ জুলাই চীন সফরে যেতে পারেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ওই সফরে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় রেল ও সড়ক যোগাযোগের প্রকল্পগুলোতে চীনা ঋণ পাওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পেতে পারে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, চীন থেকে কোন কোন প্রকল্পের জন্য ঋণ চাওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের কাছে তালিকা চেয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি রেল মন্ত্রণালয় ছয়টি প্রকল্পের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে জিটুজি–পদ্ধতিতে পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে ১৭২ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প শেষ পর্যায়ে। এই প্রকল্পের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের ঋণের মেয়াদ শেষ। বাংলাদেশ রেলওয়ে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ঋণের মেয়াদ বাড়াতে চায়। এ কারণে প্রকল্পটি চীনা ঋণের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

৩৯ হাজার ২৭৬ কোটি টাকায় বাস্তবায়নাধীন পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মেয়াদ ছিল এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত। এই প্রকল্পে চীনা ঋণের পরিমাণ ২৬৭ কোটি মার্কিন ডলার। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙা পর্যন্ত নতুন রেলপথ দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। ভাঙা থেকে যশোর পর্যন্ত অংশে দুই-তিন মাসের মধ্যে রেল চালু হতে পারে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রেলের নতুন প্রকল্প

সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে ফরিদপুরের ভাঙা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর এবং কুয়াকাটা পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ রয়েছে। এই রেলপথ নির্মিত হলে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে সারা দেশের সঙ্গে পায়রা বন্দরের যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে দক্ষিণবঙ্গের চার জেলা—বরিশাল, ঝালকাঠি, বরগুনা, এবং পটুয়াখালী রেল যোগাযোগের আওতায় আসবে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী চীনের রাষ্ট্রীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ (সিআরইসি) পায়রা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী। সম্প্রতি প্রকল্পের ধারণা নিতে বরিশালে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত নতুন রেলপথের প্রাক্‌-প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৪১ হাজার ৮০ কোটি টাকা।

চীনা ঋণে হলে এই প্রকল্প জিটুজি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চীন সরকার একটিমাত্র ঠিকাদার নির্বাচন করে দেবে। তবে, এ পদ্ধতিতে ঠিকাদারের পক্ষে নানা শর্ত যুক্ত করা এবং পণ্যের মূল্য বেশি দেখানোর কারণে ব্যয় বাড়ার সমালোচনা রয়েছে।

চীনা ঋণ পেতে রেলের আরও যেসব প্রকল্পের তালিকা করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে জামালপুর পর্যন্ত মিশ্র গেজ রেলপথ নির্মাণ
  • পাবনার ঢালারচর থেকে ফরিদপুরের পাচুরিয়া পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ
  • রাজবাড়ীতে একটি রেলওয়ে ওয়ার্কশপ নির্মাণ
  • ভৈরববাজার থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত মিটারগেজ লাইনকে মিশ্র গেজে রূপান্তর

রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম গত রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ভাঙা-কুয়াকাটা রেলপথ নিয়ে অনেকেরই আগ্রহ আছে। এই প্রকল্পে চীনা ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, “সব প্রকল্পের অর্থায়ন তো এক জায়গা থেকে হয় না। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর আলাপ-আলোচনা করে বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক উৎস থেকে অর্থায়নের ব্যবস্থা করবে।

সড়ক যোগাযোগের প্রকল্প

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় মেট্রোরেলের ছয়টি লাইন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হয়েছে। গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইন-২–এর জন্য চীনা ঋণ এখনও নিশ্চিত হয়নি, কিন্তু সড়ক মন্ত্রণালয় এ ঋণ পেতে আগ্রহী এবং ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) প্রস্তাব দিয়েছে।

সেতু বিভাগের অধীনে পিরোজপুরে কচা নদীর ওপর আরেকটি চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু নির্মাণে চীনা ঋণ পেতে চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। পিরোজপুর ও ঝালকাঠির মধ্যে কচা নদীতে ইতিমধ্যে একটি সেতু চালু হয়েছে। নতুন সেতুটি ভান্ডারিয়া ও ইন্দুরকানির মধ্যে চরখালী ফেরিপথে নির্মাণ করা হবে এবং এটি দেড় কিলোমিটারের কিছু বেশি দীর্ঘ হবে। আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। এছাড়া মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর সেতুর মেরামত প্রয়োজন, যা চীনা ঋণে নির্মিত হয়েছিল এবং এখন মেরামতেও চীনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তারা কিছু প্রকল্পের প্রস্তাব করেছেন, তবে কোনটির অর্থায়ন কোথা থেকে হবে তা সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ঠিক করা হবে।

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়। এরপর থেকে চীন বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ঋণ বাড়িয়ে দেয়। প্রায় এক দশক পর আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে বাংলাদেশের জন্য চীনের ৭০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৪০ কোটি ইউয়ানের বেশি ঋণ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে পররাষ্ট্র ও ইআরডি সূত্রে জানা গেছে।

বড় প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ ফাওজুল কবীর খান প্রথম আলোকে বলেন, অর্থনীতি এমনিতেই সংকটে আছে, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ আছে। ঋণ নিয়ে প্রকল্প করলে কী লাভ হবে, টাকা ফেরত দেওয়া যাবে কি না, এগুলো ভাবা দরকার। তিনি বলেন, চীনা ঋণে করা প্রকল্পের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এগুলো চীনের ঠিকাদার ও তাদের বাংলাদেশি এজেন্টকেন্দ্রিক। প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়ায় ব্যয় ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রীর সফর চীর রেল প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০২:২২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪

বাংলাদেশ সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাতের নয়টি প্রকল্পে চীনা ঋণ পেতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফরে এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। ইতিমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেল মন্ত্রণালয় এসব প্রকল্পের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও রেল মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, তালিকায় রেলের প্রকল্প রয়েছে ছয়টি। এছাড়া ঢাকা থেকে গাবতলী হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইন নির্মাণ, পিরোজপুরের কচা নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণ এবং মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর সেতুর মেরামতের প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ থেকে ১১ জুলাই চীন সফরে যেতে পারেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ওই সফরে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় রেল ও সড়ক যোগাযোগের প্রকল্পগুলোতে চীনা ঋণ পাওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পেতে পারে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, চীন থেকে কোন কোন প্রকল্পের জন্য ঋণ চাওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের কাছে তালিকা চেয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি রেল মন্ত্রণালয় ছয়টি প্রকল্পের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে জিটুজি–পদ্ধতিতে পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে ১৭২ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প শেষ পর্যায়ে। এই প্রকল্পের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের ঋণের মেয়াদ শেষ। বাংলাদেশ রেলওয়ে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ঋণের মেয়াদ বাড়াতে চায়। এ কারণে প্রকল্পটি চীনা ঋণের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

৩৯ হাজার ২৭৬ কোটি টাকায় বাস্তবায়নাধীন পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মেয়াদ ছিল এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত। এই প্রকল্পে চীনা ঋণের পরিমাণ ২৬৭ কোটি মার্কিন ডলার। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙা পর্যন্ত নতুন রেলপথ দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। ভাঙা থেকে যশোর পর্যন্ত অংশে দুই-তিন মাসের মধ্যে রেল চালু হতে পারে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রেলের নতুন প্রকল্প

সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে ফরিদপুরের ভাঙা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর এবং কুয়াকাটা পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ রয়েছে। এই রেলপথ নির্মিত হলে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে সারা দেশের সঙ্গে পায়রা বন্দরের যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে দক্ষিণবঙ্গের চার জেলা—বরিশাল, ঝালকাঠি, বরগুনা, এবং পটুয়াখালী রেল যোগাযোগের আওতায় আসবে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী চীনের রাষ্ট্রীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ (সিআরইসি) পায়রা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী। সম্প্রতি প্রকল্পের ধারণা নিতে বরিশালে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত নতুন রেলপথের প্রাক্‌-প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৪১ হাজার ৮০ কোটি টাকা।

চীনা ঋণে হলে এই প্রকল্প জিটুজি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চীন সরকার একটিমাত্র ঠিকাদার নির্বাচন করে দেবে। তবে, এ পদ্ধতিতে ঠিকাদারের পক্ষে নানা শর্ত যুক্ত করা এবং পণ্যের মূল্য বেশি দেখানোর কারণে ব্যয় বাড়ার সমালোচনা রয়েছে।

চীনা ঋণ পেতে রেলের আরও যেসব প্রকল্পের তালিকা করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে জামালপুর পর্যন্ত মিশ্র গেজ রেলপথ নির্মাণ
  • পাবনার ঢালারচর থেকে ফরিদপুরের পাচুরিয়া পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ
  • রাজবাড়ীতে একটি রেলওয়ে ওয়ার্কশপ নির্মাণ
  • ভৈরববাজার থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত মিটারগেজ লাইনকে মিশ্র গেজে রূপান্তর

রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম গত রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ভাঙা-কুয়াকাটা রেলপথ নিয়ে অনেকেরই আগ্রহ আছে। এই প্রকল্পে চীনা ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, “সব প্রকল্পের অর্থায়ন তো এক জায়গা থেকে হয় না। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর আলাপ-আলোচনা করে বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক উৎস থেকে অর্থায়নের ব্যবস্থা করবে।

সড়ক যোগাযোগের প্রকল্প

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় মেট্রোরেলের ছয়টি লাইন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হয়েছে। গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইন-২–এর জন্য চীনা ঋণ এখনও নিশ্চিত হয়নি, কিন্তু সড়ক মন্ত্রণালয় এ ঋণ পেতে আগ্রহী এবং ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) প্রস্তাব দিয়েছে।

সেতু বিভাগের অধীনে পিরোজপুরে কচা নদীর ওপর আরেকটি চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু নির্মাণে চীনা ঋণ পেতে চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। পিরোজপুর ও ঝালকাঠির মধ্যে কচা নদীতে ইতিমধ্যে একটি সেতু চালু হয়েছে। নতুন সেতুটি ভান্ডারিয়া ও ইন্দুরকানির মধ্যে চরখালী ফেরিপথে নির্মাণ করা হবে এবং এটি দেড় কিলোমিটারের কিছু বেশি দীর্ঘ হবে। আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। এছাড়া মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর সেতুর মেরামত প্রয়োজন, যা চীনা ঋণে নির্মিত হয়েছিল এবং এখন মেরামতেও চীনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তারা কিছু প্রকল্পের প্রস্তাব করেছেন, তবে কোনটির অর্থায়ন কোথা থেকে হবে তা সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ঠিক করা হবে।

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়। এরপর থেকে চীন বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ঋণ বাড়িয়ে দেয়। প্রায় এক দশক পর আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে বাংলাদেশের জন্য চীনের ৭০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৪০ কোটি ইউয়ানের বেশি ঋণ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে পররাষ্ট্র ও ইআরডি সূত্রে জানা গেছে।

বড় প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ ফাওজুল কবীর খান প্রথম আলোকে বলেন, অর্থনীতি এমনিতেই সংকটে আছে, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ আছে। ঋণ নিয়ে প্রকল্প করলে কী লাভ হবে, টাকা ফেরত দেওয়া যাবে কি না, এগুলো ভাবা দরকার। তিনি বলেন, চীনা ঋণে করা প্রকল্পের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এগুলো চীনের ঠিকাদার ও তাদের বাংলাদেশি এজেন্টকেন্দ্রিক। প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়ায় ব্যয় ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি হয়।