ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ডি ব্রুইনা গোলে জয়ে ফিরল বেলজিয়াম দল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

বেলজিয়াম ২-০ রোমানিয়া

ইউরো শুরুতে স্লোভাকিয়ার কাছে ১-০ গোলের হারে হতাশা নিয়ে মাঠে নেমেছিল বেলজিয়ামের খেলোয়াড়েরা। সেই ম্যাচে বেলজিয়ামের দুটি গোল বাতিল হয়েছিল, যা তাঁদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। আজ কোলনে রেইনার্জিস্তাদিওনে রোমানিয়ার বিপক্ষে বেলজিয়ামের খেলোয়াড়েরা দ্রুতই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। ম্যাচের মাত্র ২ মিনিটেই, আরও সঠিকভাবে বললে ৭৪ সেকেন্ডেই, তাঁরা গোল করে বসেন।

ইউরোর ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম এবং বড় টুর্নামেন্টে বেলজিয়াম জাতীয় দলের হয়ে দ্রুততম এই গোলের পরও আরও অনেক সুযোগ পেয়েছে ডমিনিকো তেদেস্কোর দল। তবে শেষ পর্যন্ত রোমানিয়ার বিপক্ষে বেলজিয়ামের জয় ২-০ ব্যবধানে সীমাবদ্ধ থাকে। ম্যাচের শুরুতে ইউরি টিয়েলম্যানসের সেই গোলের পর ৮০ মিনিটে বেলজিয়ামের অধিনায়ক কেভিন ডি ব্রুইনে দ্বিতীয় গোলটি করেন।

বেলজিয়াম আরও একবার গোল উদযাপন করেছিল। ৬৩ মিনিটে ডি ব্রুইনের ডিফেন্সচেরা পাস ধরে বল জালে পাঠিয়ে উদ্‌যাপন সেরে নিয়েছিলেন বেলজিয়াম স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। কিন্তু ভিএআর প্রযুক্তিতে দেখা যায় লুকাকু অফসাইড ছিলেন, ফলে গোলটি বাতিল হয়। স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও অফসাইডের কারণে লুকাকুর একটি গোল বাতিল হয়েছিল।

লুকাকু বেলজিয়ামের প্রথম গোলেও জড়িত ছিলেন। জেরেমি ডোকুর পাস পেয়ে লুকাকু বলটি কিক নেওয়ার জন্য টিয়েলম্যানসের সামনে ঠেলে দেন। ১৮ গজ দূর থেকে জোরালো ও নিখুঁত শটে টিয়েলম্যানস গোল করতে ভুল করেননি। পুরো ম্যাচ জুড়েই বেলজিয়ামের এই তিন খেলোয়াড় রোমানিয়ার রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিলেন, আর পেছন থেকে পাসে পাসে খেলা পরিচালনা করছিলেন ডি ব্রুইনা।

নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট আগে বেলজিয়ান গোলকিপার কোয়েন কাস্তিলসের দুরপাল্লার পাস ধরে, রোমানিয়ার ডিফেন্ডার নিতাকে পাশ কাটিয়ে ডান পায়ের চমৎকার শটে গোল করেন ডি ব্রুইনা। এই গোলের মাধ্যমে, ২০০০ সালে নরওয়ের টমাস মাইয়ের ও নেদারল্যান্ডসের স্যান্ডর ওয়েস্টারভেল্ডের পর ইউরোর ইতিহাসে তৃতীয় গোলকিপার হিসেবে অ্যাসিস্ট করেন কাস্তিলস।

ম্যাচের সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল, মাত্র দুটি গোল হলো কীভাবে! দুই দলই প্রচুর সুযোগ পেয়েছিল। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার ৪ মিনিট পর রোমানিয়ার রাদু দ্রাগুসিনের হেড অসাধারণভাবে ঠেকান বেলজিয়াম গোলকিপার কাস্তিলস। দুই দলই আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণনির্ভর ফুটবল খেলেছে। বেলজিয়াম রক্ষণে ঢুকছে তো রোমানিয়াও পাল্টা আক্রমণে বেলজিয়ান রক্ষণে ভয় সৃষ্টি করেছে।

শেষ দিকে রোমানিয়ার একটি আক্রমণে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডাররা গোল লাইনের কাছ থেকে বল ‘ক্লিয়ার’ করেন। মোট ১৪টি শটের প্রচেষ্টা নিয়ে রোমানিয়া ৫টি শট বেলজিয়ামের পোস্টে রাখতে পেরেছে, অন্যদিকে বেলজিয়াম ২০টি শট নিয়ে ৯টি পোস্টে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বেলজিয়ামের জয়ে ‘ই’ গ্রুপের সমীকরণ বেশ জমে উঠেছে। চার দলের সংগ্রহই ৩ পয়েন্ট করে। শীর্ষে থাকা রোমানিয়া ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেলজিয়াম গোল ব্যবধানেও সমান (+১)। স্লোভাকিয়া গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তৃতীয় (০), আর ইউক্রেন চতুর্থ (-২)।

নিজেদের শেষ ম্যাচে ইউক্রেনের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম, এবং রোমানিয়ার বিপক্ষে খেলবে স্লোভাকিয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

ডি ব্রুইনা গোলে জয়ে ফিরল বেলজিয়াম দল

আপডেট সময় : ০৫:০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪

বেলজিয়াম ২-০ রোমানিয়া

ইউরো শুরুতে স্লোভাকিয়ার কাছে ১-০ গোলের হারে হতাশা নিয়ে মাঠে নেমেছিল বেলজিয়ামের খেলোয়াড়েরা। সেই ম্যাচে বেলজিয়ামের দুটি গোল বাতিল হয়েছিল, যা তাঁদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। আজ কোলনে রেইনার্জিস্তাদিওনে রোমানিয়ার বিপক্ষে বেলজিয়ামের খেলোয়াড়েরা দ্রুতই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। ম্যাচের মাত্র ২ মিনিটেই, আরও সঠিকভাবে বললে ৭৪ সেকেন্ডেই, তাঁরা গোল করে বসেন।

ইউরোর ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম এবং বড় টুর্নামেন্টে বেলজিয়াম জাতীয় দলের হয়ে দ্রুততম এই গোলের পরও আরও অনেক সুযোগ পেয়েছে ডমিনিকো তেদেস্কোর দল। তবে শেষ পর্যন্ত রোমানিয়ার বিপক্ষে বেলজিয়ামের জয় ২-০ ব্যবধানে সীমাবদ্ধ থাকে। ম্যাচের শুরুতে ইউরি টিয়েলম্যানসের সেই গোলের পর ৮০ মিনিটে বেলজিয়ামের অধিনায়ক কেভিন ডি ব্রুইনে দ্বিতীয় গোলটি করেন।

বেলজিয়াম আরও একবার গোল উদযাপন করেছিল। ৬৩ মিনিটে ডি ব্রুইনের ডিফেন্সচেরা পাস ধরে বল জালে পাঠিয়ে উদ্‌যাপন সেরে নিয়েছিলেন বেলজিয়াম স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। কিন্তু ভিএআর প্রযুক্তিতে দেখা যায় লুকাকু অফসাইড ছিলেন, ফলে গোলটি বাতিল হয়। স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও অফসাইডের কারণে লুকাকুর একটি গোল বাতিল হয়েছিল।

লুকাকু বেলজিয়ামের প্রথম গোলেও জড়িত ছিলেন। জেরেমি ডোকুর পাস পেয়ে লুকাকু বলটি কিক নেওয়ার জন্য টিয়েলম্যানসের সামনে ঠেলে দেন। ১৮ গজ দূর থেকে জোরালো ও নিখুঁত শটে টিয়েলম্যানস গোল করতে ভুল করেননি। পুরো ম্যাচ জুড়েই বেলজিয়ামের এই তিন খেলোয়াড় রোমানিয়ার রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিলেন, আর পেছন থেকে পাসে পাসে খেলা পরিচালনা করছিলেন ডি ব্রুইনা।

নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট আগে বেলজিয়ান গোলকিপার কোয়েন কাস্তিলসের দুরপাল্লার পাস ধরে, রোমানিয়ার ডিফেন্ডার নিতাকে পাশ কাটিয়ে ডান পায়ের চমৎকার শটে গোল করেন ডি ব্রুইনা। এই গোলের মাধ্যমে, ২০০০ সালে নরওয়ের টমাস মাইয়ের ও নেদারল্যান্ডসের স্যান্ডর ওয়েস্টারভেল্ডের পর ইউরোর ইতিহাসে তৃতীয় গোলকিপার হিসেবে অ্যাসিস্ট করেন কাস্তিলস।

ম্যাচের সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল, মাত্র দুটি গোল হলো কীভাবে! দুই দলই প্রচুর সুযোগ পেয়েছিল। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার ৪ মিনিট পর রোমানিয়ার রাদু দ্রাগুসিনের হেড অসাধারণভাবে ঠেকান বেলজিয়াম গোলকিপার কাস্তিলস। দুই দলই আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণনির্ভর ফুটবল খেলেছে। বেলজিয়াম রক্ষণে ঢুকছে তো রোমানিয়াও পাল্টা আক্রমণে বেলজিয়ান রক্ষণে ভয় সৃষ্টি করেছে।

শেষ দিকে রোমানিয়ার একটি আক্রমণে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডাররা গোল লাইনের কাছ থেকে বল ‘ক্লিয়ার’ করেন। মোট ১৪টি শটের প্রচেষ্টা নিয়ে রোমানিয়া ৫টি শট বেলজিয়ামের পোস্টে রাখতে পেরেছে, অন্যদিকে বেলজিয়াম ২০টি শট নিয়ে ৯টি পোস্টে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বেলজিয়ামের জয়ে ‘ই’ গ্রুপের সমীকরণ বেশ জমে উঠেছে। চার দলের সংগ্রহই ৩ পয়েন্ট করে। শীর্ষে থাকা রোমানিয়া ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেলজিয়াম গোল ব্যবধানেও সমান (+১)। স্লোভাকিয়া গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তৃতীয় (০), আর ইউক্রেন চতুর্থ (-২)।

নিজেদের শেষ ম্যাচে ইউক্রেনের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম, এবং রোমানিয়ার বিপক্ষে খেলবে স্লোভাকিয়া।