ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ডায়বেটিস কি কারণে হয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪ ২৫ বার পড়া হয়েছে

ডায়বেটিস কি কারণে হয়

ডায়াবেটিস বা ডায়াবিটিস মেলিটাস হল একটি দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা অবস্থা যা শরীরের রক্তে গ্লুকোজ বা চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করে। ডায়াবেটিসের প্রধান দুটি ধরন হল টাইপ ১ এবং টাইপ ২। টাইপ ১ ডায়াবেটিস একটি অটোইমিউন রোগ যেখানে শরীরের ইমিউন সিস্টেম ইন্সুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোকে আক্রমণ করে এবং ধ্বংস করে। টাইপ ২ ডায়াবেটিস সাধারণত ইন্সুলিন প্রতিরোধ এবং ইন্সুলিনের অপর্যাপ্ত উৎপাদনের ফলে হয়। ডায়াবেটিস হওয়ার বিভিন্ন কারণ এবং কারণগুলি নিম্নরূপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে:

জেনেটিক্স বা বংশগত কারণ

ডায়াবেটিসের একটি প্রধান কারণ হল বংশগত কারণ। যদি আপনার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কারও ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে আপনার ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। গবেষণা থেকে জানা যায়, যদি আপনার মা বা বাবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন, তবে আপনার ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে টাইপ ২ ডায়াবেটিস বংশগত হতে পারে এবং বংশগততার কারণে এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা

অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলতা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের প্রধান কারণগুলির মধ্যে একটি। স্থূলতা শরীরে ফ্যাটের অতিরিক্ত জমা বাড়ায়, যা ইন্সুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে। স্থূলতা থেকে উদ্ভূত ইনসুলিন প্রতিরোধের কারণে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেয় না, ফলে রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়। উচ্চ ক্যালোরি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়।

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা ডায়াবেটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। উচ্চ চর্বি, উচ্চ ক্যালোরি, এবং উচ্চ চিনি সমৃদ্ধ খাবার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে, ফাস্ট ফুড, প্রসেসড ফুড, এবং চিনিযুক্ত পানীয় ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। অপর্যাপ্ত শারীরিক কার্যকলাপ এবং সেডেন্টারি লাইফস্টাইলও ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে। শারীরিক কার্যকলাপের অভাবে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায় এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ বাড়ে, ফলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

ইন্সুলিন প্রতিরোধ

ইন্সুলিন প্রতিরোধ একটি অবস্থা যেখানে শরীরের কোষগুলি ইনসুলিনের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেয় না। এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ। ইন্সুলিন প্রতিরোধের ফলে শরীরের ইনসুলিনের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায় এবং প্যানক্রিয়াস পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদন করতে অক্ষম হয়। ইন্সুলিন প্রতিরোধের ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ডায়াবেটিসের লক্ষণ দেখা দেয়।

বয়স

বয়স বাড়ার সাথে সাথে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। সাধারণত ৪৫ বছরের উপরে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার বেশি। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কম প্রতিক্রিয়া দেয় এবং প্যানক্রিয়াসের কার্যক্ষমতা কমে যায়। এছাড়াও, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শরীরের ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা থাকে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

জীবনধারা ও মানসিক চাপ

জীবনধারা ও মানসিক চাপ ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ। মানসিক চাপ এবং জীবনযাপনের ধরণ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মানসিক চাপের কারণে শরীরে স্ট্রেস হরমোন যেমন করটিসল এবং অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং চাপজনিত অবস্থায় শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায়, ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

অন্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে

অন্য স্বাস্থ্য সমস্যাও ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, এবং পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরল ডায়াবেটিসের সাথে সম্পর্কিত কারণগুলির মধ্যে অন্যতম। এছাড়াও, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ডায়াবেটিসে বৃদ্ধি পায়।

প্যানক্রিয়াসের সমস্যা

প্যানক্রিয়াসের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কারণে ডায়াবেটিস হতে পারে। প্যানক্রিয়াস শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন করে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। যদি প্যানক্রিয়াস ঠিকমতো ইনসুলিন উৎপাদন করতে না পারে, তাহলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিসের লক্ষণ দেখা দেয়। প্যানক্রিয়াসের সমস্যার কারণে টাইপ ১ ডায়াবেটিস বেশি দেখা যায়।

পরিবেশগত কারণ

পরিবেশগত কারণও ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ হতে পারে। বিভিন্ন পরিবেশগত ফ্যাক্টর যেমন খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ, এবং জীবনধারার কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে ডায়াবেটিসের হার বেশি হতে পারে কারণ শহরাঞ্চলে জীবনধারা এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

হরমোনাল পরিবর্তন

হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে ডায়াবেটিস হতে পারে। বিশেষ করে, গর্ভাবস্থায় হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিস হতে পারে। গর্ভাবস্থার সময় প্ল্যাসেন্টা থেকে উৎপন্ন হরমোনগুলির কারণে ইনসুলিন প্রতিরোধ বৃদ্ধি পায় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। এছাড়াও, মেনোপজ এবং অন্য হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সংক্রামক রোগ

কিছু সংক্রামক রোগও ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু ভাইরাস সংক্রমণ যেমন কক্সসাকিভাইরাস বি এবং রুবেলা টাইপ ১ ডায়াবেটিসের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। এই ভাইরাসগুলি প্যানক্রিয়াসের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোকে আক্রমণ করতে পারে এবং ধ্বংস করতে পারে, ফলে ডায়াবেটিসের লক্ষণ দেখা দেয়।

চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কিছু ওষুধ এবং চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু স্টেরয়েড ওষুধ, এন্টি-সাইকোটিক ওষুধ, এবং কিছু উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এই ওষুধগুলি শরীরে ইনসুলিন প্রতিরোধ বাড়াতে পারে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে।

ডায়াবেটিস একটি জটিল এবং দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা, যা বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে। সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চলা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও, নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

ডায়বেটিস কি কারণে হয়

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

ডায়াবেটিস বা ডায়াবিটিস মেলিটাস হল একটি দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা অবস্থা যা শরীরের রক্তে গ্লুকোজ বা চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করে। ডায়াবেটিসের প্রধান দুটি ধরন হল টাইপ ১ এবং টাইপ ২। টাইপ ১ ডায়াবেটিস একটি অটোইমিউন রোগ যেখানে শরীরের ইমিউন সিস্টেম ইন্সুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোকে আক্রমণ করে এবং ধ্বংস করে। টাইপ ২ ডায়াবেটিস সাধারণত ইন্সুলিন প্রতিরোধ এবং ইন্সুলিনের অপর্যাপ্ত উৎপাদনের ফলে হয়। ডায়াবেটিস হওয়ার বিভিন্ন কারণ এবং কারণগুলি নিম্নরূপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে:

জেনেটিক্স বা বংশগত কারণ

ডায়াবেটিসের একটি প্রধান কারণ হল বংশগত কারণ। যদি আপনার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কারও ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে আপনার ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। গবেষণা থেকে জানা যায়, যদি আপনার মা বা বাবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন, তবে আপনার ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে টাইপ ২ ডায়াবেটিস বংশগত হতে পারে এবং বংশগততার কারণে এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা

অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলতা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের প্রধান কারণগুলির মধ্যে একটি। স্থূলতা শরীরে ফ্যাটের অতিরিক্ত জমা বাড়ায়, যা ইন্সুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে। স্থূলতা থেকে উদ্ভূত ইনসুলিন প্রতিরোধের কারণে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেয় না, ফলে রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়। উচ্চ ক্যালোরি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়।

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা ডায়াবেটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। উচ্চ চর্বি, উচ্চ ক্যালোরি, এবং উচ্চ চিনি সমৃদ্ধ খাবার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে, ফাস্ট ফুড, প্রসেসড ফুড, এবং চিনিযুক্ত পানীয় ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। অপর্যাপ্ত শারীরিক কার্যকলাপ এবং সেডেন্টারি লাইফস্টাইলও ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে। শারীরিক কার্যকলাপের অভাবে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায় এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ বাড়ে, ফলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

ইন্সুলিন প্রতিরোধ

ইন্সুলিন প্রতিরোধ একটি অবস্থা যেখানে শরীরের কোষগুলি ইনসুলিনের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেয় না। এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ। ইন্সুলিন প্রতিরোধের ফলে শরীরের ইনসুলিনের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায় এবং প্যানক্রিয়াস পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদন করতে অক্ষম হয়। ইন্সুলিন প্রতিরোধের ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ডায়াবেটিসের লক্ষণ দেখা দেয়।

বয়স

বয়স বাড়ার সাথে সাথে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। সাধারণত ৪৫ বছরের উপরে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার বেশি। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কম প্রতিক্রিয়া দেয় এবং প্যানক্রিয়াসের কার্যক্ষমতা কমে যায়। এছাড়াও, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শরীরের ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা থাকে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

জীবনধারা ও মানসিক চাপ

জীবনধারা ও মানসিক চাপ ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ। মানসিক চাপ এবং জীবনযাপনের ধরণ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মানসিক চাপের কারণে শরীরে স্ট্রেস হরমোন যেমন করটিসল এবং অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং চাপজনিত অবস্থায় শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায়, ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

অন্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে

অন্য স্বাস্থ্য সমস্যাও ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, এবং পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরল ডায়াবেটিসের সাথে সম্পর্কিত কারণগুলির মধ্যে অন্যতম। এছাড়াও, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ডায়াবেটিসে বৃদ্ধি পায়।

প্যানক্রিয়াসের সমস্যা

প্যানক্রিয়াসের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কারণে ডায়াবেটিস হতে পারে। প্যানক্রিয়াস শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন করে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। যদি প্যানক্রিয়াস ঠিকমতো ইনসুলিন উৎপাদন করতে না পারে, তাহলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিসের লক্ষণ দেখা দেয়। প্যানক্রিয়াসের সমস্যার কারণে টাইপ ১ ডায়াবেটিস বেশি দেখা যায়।

পরিবেশগত কারণ

পরিবেশগত কারণও ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ হতে পারে। বিভিন্ন পরিবেশগত ফ্যাক্টর যেমন খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ, এবং জীবনধারার কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে ডায়াবেটিসের হার বেশি হতে পারে কারণ শহরাঞ্চলে জীবনধারা এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

হরমোনাল পরিবর্তন

হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে ডায়াবেটিস হতে পারে। বিশেষ করে, গর্ভাবস্থায় হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিস হতে পারে। গর্ভাবস্থার সময় প্ল্যাসেন্টা থেকে উৎপন্ন হরমোনগুলির কারণে ইনসুলিন প্রতিরোধ বৃদ্ধি পায় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। এছাড়াও, মেনোপজ এবং অন্য হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সংক্রামক রোগ

কিছু সংক্রামক রোগও ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু ভাইরাস সংক্রমণ যেমন কক্সসাকিভাইরাস বি এবং রুবেলা টাইপ ১ ডায়াবেটিসের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। এই ভাইরাসগুলি প্যানক্রিয়াসের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোকে আক্রমণ করতে পারে এবং ধ্বংস করতে পারে, ফলে ডায়াবেটিসের লক্ষণ দেখা দেয়।

চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কিছু ওষুধ এবং চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু স্টেরয়েড ওষুধ, এন্টি-সাইকোটিক ওষুধ, এবং কিছু উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এই ওষুধগুলি শরীরে ইনসুলিন প্রতিরোধ বাড়াতে পারে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে।

ডায়াবেটিস একটি জটিল এবং দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা, যা বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে। সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চলা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও, নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।