ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জয়ী হলে মার্কিংন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক করার চেষ্টা করবো পেজেশকিয়ান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪ ৪১ বার পড়া হয়েছে

আজ সকালে ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট শুরু হয়েছে। তিন রক্ষণশীল প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র সংস্কারপন্থী প্রার্থী হিসেবে এখনো দৌড়ে টিকে আছেন ৬৯ বছর বয়সী আইনপ্রণেতা মাসুদ পেজেশকিয়ান।

এই নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ১০ লাখ। কট্টর রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করার পর দেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়।

চার প্রার্থী

প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজটি করেছে গার্ডিয়ান কাউন্সিল। তিন রক্ষণশীল প্রার্থী, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাইদ জালিলি এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোস্তফা পুরমোহাম্মদির পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন সংস্কারপন্থী আইনপ্রণেতা মাসুদ পেজেশকিয়ান।

এর আগে তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি এবং রাইসির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমির-হোসেন গাজিজাদেহ হাশেমি তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে সব প্রার্থীই ছিলেন রক্ষণশীল।

একমাত্র সংস্কারপন্থী পেজেশকিয়ান

বেশ কয়েক বছর ধরে রক্ষণশীলদের হাতে ক্ষমতা থাকলেও, পেজেশকিয়ান মনোনয়ন পাওয়ায় সংস্কারপন্থীরা আশার আলো দেখছেন।

ইরানের সর্বশেষ সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ খাতামি পেজেশকিয়ানের প্রশংসা করে তাকে একজন ‘সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও যত্নশীল’ মানুষ বলে অভিহিত করেছেন।

১৯৯৭ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন খাতামি। তিনি এর আগে মধ্যপন্থী হাসান রুহানিকেও সমর্থন করেছিলেন, যিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার পর পশ্চিমের সঙ্গে ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেন। তবে তিন বছর পর চুক্তির আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দেয়, যা এখনো চলছে।

পেজেশকিয়ান পারমাণবিক চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করে পশ্চিমের কাছ থেকে আসা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও স্বাভাবিক করতে চান।

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কি আজীবন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরি সম্পর্ক বজায় রাখব, না আমরা এই দেশের সঙ্গে সমস্যাগুলো মেটানোর উদ্যোগ নেব?

নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

এই নির্বাচন এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের অন্যান্য দেশের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত। পাশাপাশি, ইসরায়েল ও গাজার যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনীকে ইরানের সমর্থনপুষ্ট বলে দাবি করে পশ্চিমা দেশগুলো। তবে তেহরান এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ ওয়াহিদি জানান, “নির্বাচন শুরু হয়েছে।” এটি ইরানের ১৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।

দেশের ৫৮,৬৪০টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে, যার বেশিরভাগই স্কুল এবং মসজিদে স্থাপিত। ভোটের সময়সীমা ১০ ঘণ্টা হলেও তা বাড়ানো হতে পারে।

শনিবার সকালে প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া যেতে পারে এবং রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

যদি কোনো প্রার্থী এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট না পান, তাহলে ৫ জুলাই দ্বিতীয় পর্যায়ের রান-অফ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের ইতিহাসে এর আগে শুধুমাত্র একবারই এরকম ভোটের প্রয়োজন হয়েছিল, ২০০৫ সালে।

প্রবাসী ইরানী ও বিরোধী পক্ষের সমর্থকরা এই নির্বাচনে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা এই নির্বাচনকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন না।

ভোট দিয়েছেন খামেনি

ভোট শুরুর অল্প সময় পরই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি তার ভোট দেন।

টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচনের দিনটি ইরানিদের জন্য আনন্দ ও উল্লাসের দিন।”

আমি ভোট দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে এতে অংশগ্রহণ করতে দেশবাসীকে উৎসাহ দিচ্ছি,” তিনি আরও বলেন।

তিনি জানান, এমন একজন প্রার্থীকে ভোট দেওয়া উচিত, যিনি মনে করেন বিদেশিদের সহায়তা ছাড়াই ইরান সামনে এগিয়ে যেতে পারে। তবে তিনি একইসঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা ও বজায় রাখা প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

খামেনি এ সপ্তাহে জানান, ‘সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী’ অবশ্যই এমন একজন হতে হবে, যিনি ‘প্রকৃত অর্থে ইসলামী বিপ্লবের মূল বিষয়গুলোতে বিশ্বাস করেন।’ ১৯৭৯ সালের এই বিপ্লবে ইরানের তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

জয়ী হলে মার্কিংন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক করার চেষ্টা করবো পেজেশকিয়ান

আপডেট সময় : ১২:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪

আজ সকালে ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট শুরু হয়েছে। তিন রক্ষণশীল প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র সংস্কারপন্থী প্রার্থী হিসেবে এখনো দৌড়ে টিকে আছেন ৬৯ বছর বয়সী আইনপ্রণেতা মাসুদ পেজেশকিয়ান।

এই নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ১০ লাখ। কট্টর রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করার পর দেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়।

চার প্রার্থী

প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজটি করেছে গার্ডিয়ান কাউন্সিল। তিন রক্ষণশীল প্রার্থী, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাইদ জালিলি এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোস্তফা পুরমোহাম্মদির পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন সংস্কারপন্থী আইনপ্রণেতা মাসুদ পেজেশকিয়ান।

এর আগে তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি এবং রাইসির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমির-হোসেন গাজিজাদেহ হাশেমি তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে সব প্রার্থীই ছিলেন রক্ষণশীল।

একমাত্র সংস্কারপন্থী পেজেশকিয়ান

বেশ কয়েক বছর ধরে রক্ষণশীলদের হাতে ক্ষমতা থাকলেও, পেজেশকিয়ান মনোনয়ন পাওয়ায় সংস্কারপন্থীরা আশার আলো দেখছেন।

ইরানের সর্বশেষ সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ খাতামি পেজেশকিয়ানের প্রশংসা করে তাকে একজন ‘সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও যত্নশীল’ মানুষ বলে অভিহিত করেছেন।

১৯৯৭ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন খাতামি। তিনি এর আগে মধ্যপন্থী হাসান রুহানিকেও সমর্থন করেছিলেন, যিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার পর পশ্চিমের সঙ্গে ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেন। তবে তিন বছর পর চুক্তির আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দেয়, যা এখনো চলছে।

পেজেশকিয়ান পারমাণবিক চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করে পশ্চিমের কাছ থেকে আসা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও স্বাভাবিক করতে চান।

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কি আজীবন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরি সম্পর্ক বজায় রাখব, না আমরা এই দেশের সঙ্গে সমস্যাগুলো মেটানোর উদ্যোগ নেব?

নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

এই নির্বাচন এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের অন্যান্য দেশের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত। পাশাপাশি, ইসরায়েল ও গাজার যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনীকে ইরানের সমর্থনপুষ্ট বলে দাবি করে পশ্চিমা দেশগুলো। তবে তেহরান এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ ওয়াহিদি জানান, “নির্বাচন শুরু হয়েছে।” এটি ইরানের ১৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।

দেশের ৫৮,৬৪০টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে, যার বেশিরভাগই স্কুল এবং মসজিদে স্থাপিত। ভোটের সময়সীমা ১০ ঘণ্টা হলেও তা বাড়ানো হতে পারে।

শনিবার সকালে প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া যেতে পারে এবং রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

যদি কোনো প্রার্থী এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট না পান, তাহলে ৫ জুলাই দ্বিতীয় পর্যায়ের রান-অফ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের ইতিহাসে এর আগে শুধুমাত্র একবারই এরকম ভোটের প্রয়োজন হয়েছিল, ২০০৫ সালে।

প্রবাসী ইরানী ও বিরোধী পক্ষের সমর্থকরা এই নির্বাচনে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা এই নির্বাচনকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন না।

ভোট দিয়েছেন খামেনি

ভোট শুরুর অল্প সময় পরই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি তার ভোট দেন।

টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচনের দিনটি ইরানিদের জন্য আনন্দ ও উল্লাসের দিন।”

আমি ভোট দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে এতে অংশগ্রহণ করতে দেশবাসীকে উৎসাহ দিচ্ছি,” তিনি আরও বলেন।

তিনি জানান, এমন একজন প্রার্থীকে ভোট দেওয়া উচিত, যিনি মনে করেন বিদেশিদের সহায়তা ছাড়াই ইরান সামনে এগিয়ে যেতে পারে। তবে তিনি একইসঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা ও বজায় রাখা প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

খামেনি এ সপ্তাহে জানান, ‘সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী’ অবশ্যই এমন একজন হতে হবে, যিনি ‘প্রকৃত অর্থে ইসলামী বিপ্লবের মূল বিষয়গুলোতে বিশ্বাস করেন।’ ১৯৭৯ সালের এই বিপ্লবে ইরানের তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে।