ঢাকা ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী আশরাফুর রহমান

ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যার ঘটনায় মামলা, সংগঠনের তিন নেতাসহ ১৬ জন আসামির নামে মামলা করেন 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী আশরাফুর রহমান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের আনন্দমিছিলে গুলি করে ছাত্রলীগ কর্মী আশরাফুল রহমানকে (২২) হত্যার ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিহত তরুণের বাবা সদর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার প্রধান আসামি হিসেবে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জালাল হোসেন ওরফে খোকাকে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় আসামি হিসেবে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা হাসান আল ফারাবী ওরফে জয়ের নাম রয়েছে। এছাড়া আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আশরাফুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা আমিনুর রহমানের ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের স্নাতক (সম্মান) ছাত্র ছিলেন। আশরাফুল জেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী এবং সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেনের সমর্থক ছিলেন। মামলার আসামি হাসান আল ফারাবীও নির্বাচনে শাহাদাৎ হোসেনের পক্ষে কাজ করেছেন।

আরো পড়ুন

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন শহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাফি আলম (২৮) এবং তাঁর বড় ভাই সাগর (৩২), কাউতলীর শাহাদাৎ হোসেন ওরফে সানি (২৮), কলেজপাড়ার অপু (৩০), মামুন (৩৮), মাসুম (৪০), শাহরিয়ার ওরফে লাদেন (২২), রুবেল (২৮), অলি (৩০), রুমান (৩৫), তারেফ (৩০), সৌরভ (৩০), মামুন (২৮), মুরসালিন (২৮)। জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতির পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত হাসান আল ফারাবীসহ অন্য আসামিরা জালাল হোসেনের অনুসারী। কলেজপাড়ার বাসিন্দা জালাল হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কলেজপাড়ার বাসা থেকে কলেজে যাওয়া-আসার সময় জালাল হোসেনের সঙ্গে নিহত আশরাফুলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। জালাল তাঁর অনুগত বাহিনীর মাধ্যমে কলেজপাড়ায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। গত বুধবার সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয়। আশরাফুল ক্রিশ্চিয়ান মিশন প্রাইমারি স্কুল ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সারিতে দাঁড়াতে যান। জালাল জোরপূর্বক ভোট দিতে গিয়ে সারি ভেঙে আশরাফুলকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এর প্রতিবাদ করলে জালাল ও তাঁর অনুসারীরা আশরাফুলকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উদ্দেশে রওনা দেন আশরাফুল। বিকেল সাড়ে ছয়টার দিকে কলেজপাড়ার জামাল মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে জালালসহ আসামিরা পিস্তল, রামদাসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র নিয়ে আশরাফুল ও তাঁর বন্ধুদের পথরোধ করেন। জালাল তাঁর হাতে থাকা পিস্তল হাসানের হাতে তুলে দিয়ে আশরাফুলকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেন। হাসান আল ফারাবী পিস্তল দিয়ে আশরাফুলের মাথার বাঁ পাশে গুলি করেন। আশরাফুলকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

আরো পড়ুন

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আশরাফুলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাতেই সুহিলপুরের মুসলিমপাড়ায় তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

আরো জানতে কিক্ল করুন 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী আশরাফুর রহমান

ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যার ঘটনায় মামলা, সংগঠনের তিন নেতাসহ ১৬ জন আসামির নামে মামলা করেন 

আপডেট সময় : ০৪:১৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের আনন্দমিছিলে গুলি করে ছাত্রলীগ কর্মী আশরাফুল রহমানকে (২২) হত্যার ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিহত তরুণের বাবা সদর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার প্রধান আসামি হিসেবে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জালাল হোসেন ওরফে খোকাকে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় আসামি হিসেবে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা হাসান আল ফারাবী ওরফে জয়ের নাম রয়েছে। এছাড়া আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আশরাফুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা আমিনুর রহমানের ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের স্নাতক (সম্মান) ছাত্র ছিলেন। আশরাফুল জেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী এবং সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেনের সমর্থক ছিলেন। মামলার আসামি হাসান আল ফারাবীও নির্বাচনে শাহাদাৎ হোসেনের পক্ষে কাজ করেছেন।

আরো পড়ুন

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন শহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাফি আলম (২৮) এবং তাঁর বড় ভাই সাগর (৩২), কাউতলীর শাহাদাৎ হোসেন ওরফে সানি (২৮), কলেজপাড়ার অপু (৩০), মামুন (৩৮), মাসুম (৪০), শাহরিয়ার ওরফে লাদেন (২২), রুবেল (২৮), অলি (৩০), রুমান (৩৫), তারেফ (৩০), সৌরভ (৩০), মামুন (২৮), মুরসালিন (২৮)। জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতির পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত হাসান আল ফারাবীসহ অন্য আসামিরা জালাল হোসেনের অনুসারী। কলেজপাড়ার বাসিন্দা জালাল হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কলেজপাড়ার বাসা থেকে কলেজে যাওয়া-আসার সময় জালাল হোসেনের সঙ্গে নিহত আশরাফুলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। জালাল তাঁর অনুগত বাহিনীর মাধ্যমে কলেজপাড়ায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। গত বুধবার সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয়। আশরাফুল ক্রিশ্চিয়ান মিশন প্রাইমারি স্কুল ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সারিতে দাঁড়াতে যান। জালাল জোরপূর্বক ভোট দিতে গিয়ে সারি ভেঙে আশরাফুলকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এর প্রতিবাদ করলে জালাল ও তাঁর অনুসারীরা আশরাফুলকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উদ্দেশে রওনা দেন আশরাফুল। বিকেল সাড়ে ছয়টার দিকে কলেজপাড়ার জামাল মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে জালালসহ আসামিরা পিস্তল, রামদাসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র নিয়ে আশরাফুল ও তাঁর বন্ধুদের পথরোধ করেন। জালাল তাঁর হাতে থাকা পিস্তল হাসানের হাতে তুলে দিয়ে আশরাফুলকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেন। হাসান আল ফারাবী পিস্তল দিয়ে আশরাফুলের মাথার বাঁ পাশে গুলি করেন। আশরাফুলকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

আরো পড়ুন

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আশরাফুলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাতেই সুহিলপুরের মুসলিমপাড়ায় তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

আরো জানতে কিক্ল করুন