ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার নয়াপল্টনে আজ বুধবার বিএনপির এক যৌথ সভা শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেস ব্রিফিংয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সভায় বিএনপির নেতারা দলীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন যে বিএনপি আগামী কিছুদিনের মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে, যার মধ্যে রয়েছে সমাবেশ, মিছিল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক কার্যক্রম।

তিনি আরো বলেন যে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দলীয় নেতারা জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করবেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনগণের সমর্থন কামনা করেন এবং তাদেরকে সক্রিয়ভাবে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ২৯ জুন (শনিবার) ঢাকার নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এছাড়া আগামী ১ জুলাই মহানগরগুলোতে এবং ৩ জুলাই দেশের সব জেলায় সমাবেশ করবে বিএনপি।

আজ বুধবার বিএনপির এক যৌথ সভা শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঢাকার নয়াপল্টনে সকালে মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে দলটির এই যৌথ সভায় স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, যেকোনো সময় তাঁর জীবনহানি হতে পারে। কিন্তু আদালতের দোহাই দিয়ে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সে কারণে তাঁরা এখন রাজপথে কর্মসূচি নিয়েছেন।

এদিকে গত শুক্রবার থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুই দিন আগে তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়েছে।

বিএনপি নেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়ার হৃদ্‌যন্ত্রে পেসমেকার ভালোভাবে কাজ করছে। এখন তাঁকে কেবিনে রেখে চিকিৎসকেরা সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিচ্ছেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ ডাক দিয়ে ছে বিএনপি নেতারা

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর দ্রুত তাঁকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার হৃদ্‌রোগের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। হার্টে তিনটি ব্লক ছিল এবং একটি রিং পরানো হয়েছিল। সবকিছু পর্যালোচনা করে বিদেশি চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে গত রোববার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হৃদ্‌যন্ত্রে স্থায়ী পেসমেকার বসানো হয় বলে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা জানান।

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, হৃদ্‌রোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

এর আগে গত ২ মে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে সময় চিকিৎসকেরা তাঁকে সিসিইউতে রেখে দুই দিন চিকিৎসা দিয়েছিলেন।

গত বছরের ৯ আগস্ট খালেদা জিয়াকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সে সময় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার জন্য তাঁর পরিবার সরকারের কাছে আবেদন করেছিল, কিন্তু অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসনের রক্তনালিতে অস্ত্রোপচার করা হয় গত ২৭ অক্টোবর। তাঁর স্বাস্থ্য কিছুটা স্থিতিশীল হলে সে দফায় ৫ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি তিনি বাসায় ফেরেন।

খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী হন। দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাবন্দী ছিলেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এক নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা ২০২০ সালের ২৫ মার্চ স্থগিত করে তাঁকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। তখন থেকে ছয় মাস পরপর মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছে সরকার।

বিএনপি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি। 1 সেপ্টেম্বর, 1978 সালে, সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসাবে পরিচিত। বাংলায় এর অনুবাদ হয় ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’। জিয়াউর রহমান 1976 সালে সেনাপ্রধান হিসাবে জাতীয় ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং পরে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগদল) প্রতিষ্ঠা করে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছিলেন। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাগদল বিলুপ্ত হয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। জিয়াউর রহমান এই দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠার সময়, দলটি ডানপন্থী, বামপন্থী এবং কেন্দ্রবাদী মতাদর্শের সংশ্লেষণের জন্য উল্লেখযোগ্য ছিল। ১৯৭৯ সালে এই দল থেকে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

1981 সালে, জিয়াউর রহমানকে একদল বিদ্রোহী সেনা সদস্য দ্বারা হত্যা করা হয়। এরপর এ দলের সভাপতি নির্বাচিত হন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। সামরিক শাসনামলে জেনারেল এইচ.এম. এরশাদ, 1984 সালে, জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন হয়েছিলেন। দলটি এরশাদের শাসনের বিরোধিতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বিএনপির নেতৃত্বে তারা ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচনেও বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। 1996 এবং 2008 সালে, দলটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে সংক্ষিপ্তভাবে সরকার গঠন করে।

আওয়ামী লীগের প্রশাসনের অধীনে, বিএনপি 1996 থেকে 2001 এবং 2008 থেকে 2014 পর্যন্ত মেয়াদে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসাবে কাজ করেছিল। তারা আওয়ামী লীগের শাসনামলে 5 জানুয়ারী, 2014 সালের বিতর্কিত নির্বাচন বয়কট করেছিল।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম কাউন্সিলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকায়

আপডেট সময় : ০১:৫৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪

ঢাকার নয়াপল্টনে আজ বুধবার বিএনপির এক যৌথ সভা শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেস ব্রিফিংয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সভায় বিএনপির নেতারা দলীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন যে বিএনপি আগামী কিছুদিনের মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে, যার মধ্যে রয়েছে সমাবেশ, মিছিল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক কার্যক্রম।

তিনি আরো বলেন যে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দলীয় নেতারা জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করবেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনগণের সমর্থন কামনা করেন এবং তাদেরকে সক্রিয়ভাবে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ২৯ জুন (শনিবার) ঢাকার নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এছাড়া আগামী ১ জুলাই মহানগরগুলোতে এবং ৩ জুলাই দেশের সব জেলায় সমাবেশ করবে বিএনপি।

আজ বুধবার বিএনপির এক যৌথ সভা শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঢাকার নয়াপল্টনে সকালে মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে দলটির এই যৌথ সভায় স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, যেকোনো সময় তাঁর জীবনহানি হতে পারে। কিন্তু আদালতের দোহাই দিয়ে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সে কারণে তাঁরা এখন রাজপথে কর্মসূচি নিয়েছেন।

এদিকে গত শুক্রবার থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুই দিন আগে তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়েছে।

বিএনপি নেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়ার হৃদ্‌যন্ত্রে পেসমেকার ভালোভাবে কাজ করছে। এখন তাঁকে কেবিনে রেখে চিকিৎসকেরা সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিচ্ছেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ ডাক দিয়ে ছে বিএনপি নেতারা

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর দ্রুত তাঁকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার হৃদ্‌রোগের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। হার্টে তিনটি ব্লক ছিল এবং একটি রিং পরানো হয়েছিল। সবকিছু পর্যালোচনা করে বিদেশি চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে গত রোববার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হৃদ্‌যন্ত্রে স্থায়ী পেসমেকার বসানো হয় বলে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা জানান।

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, হৃদ্‌রোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

এর আগে গত ২ মে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে সময় চিকিৎসকেরা তাঁকে সিসিইউতে রেখে দুই দিন চিকিৎসা দিয়েছিলেন।

গত বছরের ৯ আগস্ট খালেদা জিয়াকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সে সময় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার জন্য তাঁর পরিবার সরকারের কাছে আবেদন করেছিল, কিন্তু অনুমতি পাওয়া যায়নি। পরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসনের রক্তনালিতে অস্ত্রোপচার করা হয় গত ২৭ অক্টোবর। তাঁর স্বাস্থ্য কিছুটা স্থিতিশীল হলে সে দফায় ৫ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি তিনি বাসায় ফেরেন।

খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী হন। দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাবন্দী ছিলেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এক নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা ২০২০ সালের ২৫ মার্চ স্থগিত করে তাঁকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। তখন থেকে ছয় মাস পরপর মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছে সরকার।

বিএনপি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি। 1 সেপ্টেম্বর, 1978 সালে, সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসাবে পরিচিত। বাংলায় এর অনুবাদ হয় ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’। জিয়াউর রহমান 1976 সালে সেনাপ্রধান হিসাবে জাতীয় ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং পরে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগদল) প্রতিষ্ঠা করে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছিলেন। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাগদল বিলুপ্ত হয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। জিয়াউর রহমান এই দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠার সময়, দলটি ডানপন্থী, বামপন্থী এবং কেন্দ্রবাদী মতাদর্শের সংশ্লেষণের জন্য উল্লেখযোগ্য ছিল। ১৯৭৯ সালে এই দল থেকে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

1981 সালে, জিয়াউর রহমানকে একদল বিদ্রোহী সেনা সদস্য দ্বারা হত্যা করা হয়। এরপর এ দলের সভাপতি নির্বাচিত হন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। সামরিক শাসনামলে জেনারেল এইচ.এম. এরশাদ, 1984 সালে, জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন হয়েছিলেন। দলটি এরশাদের শাসনের বিরোধিতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বিএনপির নেতৃত্বে তারা ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচনেও বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। 1996 এবং 2008 সালে, দলটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে সংক্ষিপ্তভাবে সরকার গঠন করে।

আওয়ামী লীগের প্রশাসনের অধীনে, বিএনপি 1996 থেকে 2001 এবং 2008 থেকে 2014 পর্যন্ত মেয়াদে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসাবে কাজ করেছিল। তারা আওয়ামী লীগের শাসনামলে 5 জানুয়ারী, 2014 সালের বিতর্কিত নির্বাচন বয়কট করেছিল।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম কাউন্সিলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন।