ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিস বাংলাদেশের জন্য লাল সতর্কতা হয়ে গেছে এখন ঐ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪ ২৯ বার পড়া হয়েছে

উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিস

শহর ও গ্রাম উভয় জায়গায় সব বয়সীদের মধ্যে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এই রোগতাত্ত্বিক সংকট নিয়ে কয়েকজন গবেষক গুরুত্বপূর্ণ একটি বই লিখেছেন। বইটির নাম “রেড অ্যালার্ট! নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস, ডায়েটারি হ্যাবিটস অ্যান্ড লাইফস্টাইল ইন বাংলাদেশ”। এতে অসংক্রামক রোগ কেন বাড়ছে, এসব রোগের ঝুঁকি, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অবস্থা, অসংক্রামক রোগ নিয়ে সরকারের ভূমিকা এবং এর মধ্যে কোথায় ঘাটতি রয়েছে তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। বইটি পর্যালোচনা করে এসব বিষয় নিয়ে লিখেছেন শিশির মোড়ল।

বাংলাদেশ বর্তমানে রোগতাত্ত্বিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই বিপদের মাত্রা কতটা বড়, তা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন দেশি-বিদেশি ২২ জন স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও কয়েকজন গবেষক। তাদের মতে, অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেশে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করার মতো জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

এই ২২ জন শিক্ষার্থী কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল রিসোর্স ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত। তারা ‘রিডিউসিং ডায়েটারি রিলেটেড রিস্ক অ্যাসোসিয়েটেড উইথ নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস ইন বাংলাদেশ’ নামক প্রকল্পের অধীনে ১৬টি পৃথক গবেষণা পরিচালনা করেছেন। প্রবন্ধ লেখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করেছেন।

এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে কানাডার ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার। প্রকল্পটি ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়। গবেষণা প্রবন্ধগুলো একত্রিত করে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড ৪১৮ পৃষ্ঠার একটি বই আকারে প্রকাশ করেছে, যার নাম “রেড অ্যালার্ট! নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস, ডায়েটারি হ্যাবিটস অ্যান্ড লাইফস্টাইল ইন বাংলাদেশ।

গবেষণা প্রকল্পে শহর, শহরতলি, উপজেলা সদর ও গ্রামের ২১ হাজার মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে মূলত জোর দেওয়া হয় অসংক্রামক রোগ, খাদ্যাভ্যাস, কায়িক শ্রম এবং জীবনযাপন–সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে। বিশাল পরিমাণ এই তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস মারাত্মকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে অতি ওজন ও স্থূলতার প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের ২১ শতাংশ মানুষের ডায়াবেটিস আছে, ২৪ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, এবং ৫৫ শতাংশের ওজন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রবণতা বা ঝোঁক বাড়তির দিকে। এ জন্যই ‘রেড অ্যালার্ট’।

এই গবেষণাগুলোতে খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন পদ্ধতি, খাদ্যাভ্যাসের নির্ধারক বা চালিকা শক্তি, খাদ্যবৈচিত্র্য, জেন্ডার ও পারিবারিক স্বাস্থ্য, শাকসবজি উৎপাদনে ও পরিবারের জন্য খাদ্য নির্বাচনে নারীর ভূমিকা এবং একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচার নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে অসংক্রামক রোগের সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছেন গবেষকেরা। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা ও অতি ওজনের সম্পর্ক তাঁরা নির্ণয় করেছেন। তাঁরা দেখতে চেয়েছেন, অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিগুলো কী এবং কীভাবে সেই ঝুঁকি বাড়ছে।

স্বাস্থ্যের একটি নির্দিষ্ট সমস্যা নিয়ে এতগুলো প্রবন্ধ একত্রিত করে প্রকাশিত বই সাধারণত দেখা যায় না। প্রতিটি প্রবন্ধেই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং প্রেক্ষাপট বর্ণনা করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ক্রান্তিকাল নাকি দ্বিগুণ বোঝা

দেশে ডায়রিয়া বা কলেরা এবং বসন্তের মতো সংক্রামক রোগে মানুষের মৃত্যু এখন কমেছে। বসন্তে মৃত্যু প্রায় নেই বললেই চলে। পাশাপাশি শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হারও কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে জনমিতিক কাঠামোয়। মোট প্রজনন হার কমেছে, বেড়েছে গড় আয়ু। বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে ক্যানসার, স্ট্রোক, হৃদ্‌রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, কিডনি রোগ বা এ ধরনের অসংক্রামক রোগে।

জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, বাংলাদেশ এখনও সংক্রামক রোগের বিপদ থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। মৃত্যু না হলেও প্রতিবছর বহু মানুষ ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয় এবং যক্ষ্মায় মৃত্যু ঘটে। এছাড়া, ডেঙ্গুর মতো নতুন রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের একটি অংশ বলছেন যে, বাংলাদেশ সংক্রামক ও অসংক্রামক উভয় ধরনের রোগের চাপে রয়েছে। একটি রোগ কমে অন্য রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, বিষয়টি এমন নয়।

বাংলাদেশে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার বেশি। ভারতে ৬৬ শতাংশ, নেপালে ৬৬ শতাংশ, পাকিস্তানে ৬০ শতাংশ, বৈশ্বিকভাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ৬৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশে এই হার ৭০ শতাংশ। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ১৭ শতাংশ হৃদ্‌রোগ ও স্নায়ুরোগে, ১১ শতাংশ দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগে, ১০ শতাংশ ক্যানসারে এবং ৩ শতাংশ ডায়াবেটিসে। গবেষকেরা ধারণা করছেন, ২০৪০ সাল নাগাদ মোট মৃত্যুর ৮০ শতাংশ হবে অসংক্রামক রোগে।

ঝুঁকি কোথায়

বাংলাদেশে আর্থসামাজিক অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বেড়েছে, কায়িক শ্রম কমেছে, ধূমপায়ীর সংখ্যা বেড়েছে এবং মদ্যপানও বেশি হচ্ছে। এসব কারণে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়েছে।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ অসংক্রামক রোগের বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি বন উজাড়, পানির মানের অবনতি, শব্দদূষণ এবং বায়ুদূষণও এ ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেসব নারীর স্বামী শহরে বা বিদেশে কাজের জন্য গেছেন, তাঁদের ওজন বেশি এবং স্থূল হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এর কারণ, এসব নারীর ক্রয়ক্ষমতা বেশি এবং তাঁরা চাল ও তেলযুক্ত খাবার বেশি কেনেন এবং কাজের জন্য গৃহকর্মী নিয়োগ দেন।

একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিস্থিতি

গারোরা বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, যারা নিজেদের মান্দি বলে পরিচয় দেন। এক গবেষণায় ঢাকা শহরে বাস করা গারোদের খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন পদ্ধতি এবং তাঁদের মধ্যে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রায় দেড় লাখ গারো বাস করেন, যাদের বেশিরভাগই ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর, সিলেট ও গাজীপুরে বাস করেন। ঢাকার গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকায় গারোদের একটি বড় বসতি আছে। ওই এলাকার ৩২ জন গারোর নিবিড় সাক্ষাৎকার এবং দলগত আলোচনা আয়োজন করেন গবেষকেরা। গারোদের বয়স ছিল ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তাঁদের ৫৩ শতাংশ ছিলেন সাক্ষর এবং ২৭ শতাংশের ছিল কমপক্ষে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি। ৩৩ শতাংশ সেবা খাতে কাজ করতেন এবং ৮০ শতাংশই ছিলেন বিবাহিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, ফাস্ট ফুডের বৈশ্বিক প্রসারের ফলে গারোদের মধ্যে অসংক্রামক রোগ বাড়ছে। গারোরা ফাস্ট ফুড সংস্কৃতি থেকে বাদ পড়েননি। ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁরা নিয়মিত হাঁটেন এবং দৈনিক গড়ে ২০ মিনিট হাঁটেন। প্রায় দুই–তৃতীয়াংশ গারো ধূমপান করেন এবং দৈনিক গড়ে ৯টি সিগারেট খান। তাঁদের এই অভ্যাস ১৫ বছরের পুরোনো। গারোদের মধ্যে চু নামক মদ্যপানের প্রথাও রয়েছে, যা তাঁদের সংস্কৃতির অংশ।

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দেখা গেছে, গারোদের মধ্যে কেউই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন। তবে ২১ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ ছিল এবং ২৯ শতাংশের ওজন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। গারো নারীদের মধ্যে স্থূলতা বেশি, কারণ তাঁরা পুরুষের তুলনায় কম কাজ করেন। এটি তাঁদের মাতৃতান্ত্রিক সমাজের বৈশিষ্ট্য।

এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা তাঁদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের কাছে যান না। গারোদের মধ্যে অসংক্রামক রোগ বিষয়ে ধারণা কম। অনেকেই ফাস্ট ফুড বা প্রস্তুত খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। গবেষকদের মতে, প্রান্তিক মানুষরা অসংক্রামক রোগে অসামঞ্জস্যহীনভাবে ভোগেন এবং গারোরাও এর ব্যতিক্রম নন।

শিশুরা সমস্যার বলয়ে

বাংলাদেশের শিশুদের পুষ্টি নিয়ে দুটি বিপরীতধর্মী সমস্যা রয়েছে: কিছু শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে, আর কিছু শিশু অতিপুষ্টির শিকার। গবেষকরা ঢাকা শহর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজারের ৩৫টি স্কুলের ১,৭১৭টি শিশুর পুষ্টি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছেন। এই শিশুদের বয়স ছিল ৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ১০টি স্কুল ছিল ঢাকায়, ১২টি গাজীপুরে এবং ১৩টি স্কুল ছিল মৌলভীবাজারে। গাজীপুরের স্কুলগুলো উপশহর এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্ধেক ছেলে এবং অর্ধেক মেয়ে। ৫০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ৬৭ শতাংশ নিয়মিত হাঁটতে হাঁটতে স্কুলে যায় এবং ৭২ শতাংশ বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের শিক্ষার্থীদের ২৩ শতাংশের ওজন বেশি এবং ১৮ শতাংশ স্থূল। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অতি ওজন এবং স্থূলতার হার যথাক্রমে ৮ শতাংশ এবং ৩ শতাংশ। ইংরেজি মাধ্যম বা ইংরেজি ভার্সনে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থূলতা ও অতি ওজন বেশি। ব্যক্তিগত গাড়ি বা রিকশায় যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও স্থূলতা ও অতি ওজন বেশি। ঢাকার শিক্ষার্থীদের ৫০ শতাংশ জানিয়েছে, তাদের স্কুলে খেলাধুলার সুযোগ নেই, যেখানে গাজীপুর ও মৌলভীবাজারের অধিকাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছে, তাদের স্কুলে খেলাধুলার সুযোগ আছে। ঢাকার শিক্ষার্থীরা বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে।

এই গবেষণায় শিশুকালের স্থূলতার সঙ্গে আচরণের সম্পর্ক খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। গবেষকরা মনে করেন, স্থূলতা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, যা নিম্নমানের খাদ্যাভ্যাস ও ত্রুটিপূর্ণ জীবনযাপন পদ্ধতির ফলে হয়। স্থূলতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

সরকার কী করছে, কোথায় কমতি

১৬টি গবেষণাকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যার শেষ ভাগে অসংক্রামক রোগ নিয়ে সরকারি নীতি বিশ্লেষণবিষয়ক দুটি প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি প্রবন্ধে সরকারের করণীয় বিষয়াবলি এবং অন্যটিতে প্রয়োজনীয় করণীয় বিষয়াবলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, প্রতিকার ও এর ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু কর্মসূচি, পরিকল্পনা ও কৌশলপত্র রয়েছে। এর অধিকাংশ চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। এ কর্মসূচির আওতায় একটি কর্মপরিকল্পনা (অপারেশন প্ল্যান) বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে বিনা মূল্যে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ওষুধ দেওয়া শুরু হয়েছে।

তবে গবেষকরা দেখেছেন, অসংক্রামক রোগের অপারেশন প্ল্যানে প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টি অস্পষ্ট। কমিউনিটিতে রোগ শনাক্তকরণ বা সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এছাড়া অনেক কাজের কথা বলা হলেও সমন্বয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই। জাতীয় ক্রীড়া নীতিতে (২০১৩) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার জন্য উন্মুক্ত স্থান রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়নি। অন্যদিকে, জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি বা জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনায় অসংক্রামক রোগকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। সমস্যা যত বড় হচ্ছে, সমাধানের আয়োজন তত বেশি নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

আপলোডকারীর তথ্য

উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিস বাংলাদেশের জন্য লাল সতর্কতা হয়ে গেছে এখন ঐ

আপডেট সময় : ০২:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

শহর ও গ্রাম উভয় জায়গায় সব বয়সীদের মধ্যে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এই রোগতাত্ত্বিক সংকট নিয়ে কয়েকজন গবেষক গুরুত্বপূর্ণ একটি বই লিখেছেন। বইটির নাম “রেড অ্যালার্ট! নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস, ডায়েটারি হ্যাবিটস অ্যান্ড লাইফস্টাইল ইন বাংলাদেশ”। এতে অসংক্রামক রোগ কেন বাড়ছে, এসব রোগের ঝুঁকি, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অবস্থা, অসংক্রামক রোগ নিয়ে সরকারের ভূমিকা এবং এর মধ্যে কোথায় ঘাটতি রয়েছে তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। বইটি পর্যালোচনা করে এসব বিষয় নিয়ে লিখেছেন শিশির মোড়ল।

বাংলাদেশ বর্তমানে রোগতাত্ত্বিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই বিপদের মাত্রা কতটা বড়, তা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন দেশি-বিদেশি ২২ জন স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও কয়েকজন গবেষক। তাদের মতে, অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেশে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করার মতো জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

এই ২২ জন শিক্ষার্থী কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল রিসোর্স ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত। তারা ‘রিডিউসিং ডায়েটারি রিলেটেড রিস্ক অ্যাসোসিয়েটেড উইথ নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস ইন বাংলাদেশ’ নামক প্রকল্পের অধীনে ১৬টি পৃথক গবেষণা পরিচালনা করেছেন। প্রবন্ধ লেখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করেছেন।

এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে কানাডার ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার। প্রকল্পটি ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়। গবেষণা প্রবন্ধগুলো একত্রিত করে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড ৪১৮ পৃষ্ঠার একটি বই আকারে প্রকাশ করেছে, যার নাম “রেড অ্যালার্ট! নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস, ডায়েটারি হ্যাবিটস অ্যান্ড লাইফস্টাইল ইন বাংলাদেশ।

গবেষণা প্রকল্পে শহর, শহরতলি, উপজেলা সদর ও গ্রামের ২১ হাজার মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে মূলত জোর দেওয়া হয় অসংক্রামক রোগ, খাদ্যাভ্যাস, কায়িক শ্রম এবং জীবনযাপন–সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে। বিশাল পরিমাণ এই তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস মারাত্মকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে অতি ওজন ও স্থূলতার প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের ২১ শতাংশ মানুষের ডায়াবেটিস আছে, ২৪ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, এবং ৫৫ শতাংশের ওজন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রবণতা বা ঝোঁক বাড়তির দিকে। এ জন্যই ‘রেড অ্যালার্ট’।

এই গবেষণাগুলোতে খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন পদ্ধতি, খাদ্যাভ্যাসের নির্ধারক বা চালিকা শক্তি, খাদ্যবৈচিত্র্য, জেন্ডার ও পারিবারিক স্বাস্থ্য, শাকসবজি উৎপাদনে ও পরিবারের জন্য খাদ্য নির্বাচনে নারীর ভূমিকা এবং একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচার নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে অসংক্রামক রোগের সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছেন গবেষকেরা। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা ও অতি ওজনের সম্পর্ক তাঁরা নির্ণয় করেছেন। তাঁরা দেখতে চেয়েছেন, অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিগুলো কী এবং কীভাবে সেই ঝুঁকি বাড়ছে।

স্বাস্থ্যের একটি নির্দিষ্ট সমস্যা নিয়ে এতগুলো প্রবন্ধ একত্রিত করে প্রকাশিত বই সাধারণত দেখা যায় না। প্রতিটি প্রবন্ধেই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং প্রেক্ষাপট বর্ণনা করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ক্রান্তিকাল নাকি দ্বিগুণ বোঝা

দেশে ডায়রিয়া বা কলেরা এবং বসন্তের মতো সংক্রামক রোগে মানুষের মৃত্যু এখন কমেছে। বসন্তে মৃত্যু প্রায় নেই বললেই চলে। পাশাপাশি শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হারও কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে জনমিতিক কাঠামোয়। মোট প্রজনন হার কমেছে, বেড়েছে গড় আয়ু। বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে ক্যানসার, স্ট্রোক, হৃদ্‌রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, কিডনি রোগ বা এ ধরনের অসংক্রামক রোগে।

জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, বাংলাদেশ এখনও সংক্রামক রোগের বিপদ থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। মৃত্যু না হলেও প্রতিবছর বহু মানুষ ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয় এবং যক্ষ্মায় মৃত্যু ঘটে। এছাড়া, ডেঙ্গুর মতো নতুন রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের একটি অংশ বলছেন যে, বাংলাদেশ সংক্রামক ও অসংক্রামক উভয় ধরনের রোগের চাপে রয়েছে। একটি রোগ কমে অন্য রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, বিষয়টি এমন নয়।

বাংলাদেশে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার বেশি। ভারতে ৬৬ শতাংশ, নেপালে ৬৬ শতাংশ, পাকিস্তানে ৬০ শতাংশ, বৈশ্বিকভাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ৬৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশে এই হার ৭০ শতাংশ। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ১৭ শতাংশ হৃদ্‌রোগ ও স্নায়ুরোগে, ১১ শতাংশ দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগে, ১০ শতাংশ ক্যানসারে এবং ৩ শতাংশ ডায়াবেটিসে। গবেষকেরা ধারণা করছেন, ২০৪০ সাল নাগাদ মোট মৃত্যুর ৮০ শতাংশ হবে অসংক্রামক রোগে।

ঝুঁকি কোথায়

বাংলাদেশে আর্থসামাজিক অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বেড়েছে, কায়িক শ্রম কমেছে, ধূমপায়ীর সংখ্যা বেড়েছে এবং মদ্যপানও বেশি হচ্ছে। এসব কারণে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়েছে।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ অসংক্রামক রোগের বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি বন উজাড়, পানির মানের অবনতি, শব্দদূষণ এবং বায়ুদূষণও এ ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেসব নারীর স্বামী শহরে বা বিদেশে কাজের জন্য গেছেন, তাঁদের ওজন বেশি এবং স্থূল হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এর কারণ, এসব নারীর ক্রয়ক্ষমতা বেশি এবং তাঁরা চাল ও তেলযুক্ত খাবার বেশি কেনেন এবং কাজের জন্য গৃহকর্মী নিয়োগ দেন।

একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিস্থিতি

গারোরা বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, যারা নিজেদের মান্দি বলে পরিচয় দেন। এক গবেষণায় ঢাকা শহরে বাস করা গারোদের খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন পদ্ধতি এবং তাঁদের মধ্যে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রায় দেড় লাখ গারো বাস করেন, যাদের বেশিরভাগই ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর, সিলেট ও গাজীপুরে বাস করেন। ঢাকার গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকায় গারোদের একটি বড় বসতি আছে। ওই এলাকার ৩২ জন গারোর নিবিড় সাক্ষাৎকার এবং দলগত আলোচনা আয়োজন করেন গবেষকেরা। গারোদের বয়স ছিল ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তাঁদের ৫৩ শতাংশ ছিলেন সাক্ষর এবং ২৭ শতাংশের ছিল কমপক্ষে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি। ৩৩ শতাংশ সেবা খাতে কাজ করতেন এবং ৮০ শতাংশই ছিলেন বিবাহিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, ফাস্ট ফুডের বৈশ্বিক প্রসারের ফলে গারোদের মধ্যে অসংক্রামক রোগ বাড়ছে। গারোরা ফাস্ট ফুড সংস্কৃতি থেকে বাদ পড়েননি। ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁরা নিয়মিত হাঁটেন এবং দৈনিক গড়ে ২০ মিনিট হাঁটেন। প্রায় দুই–তৃতীয়াংশ গারো ধূমপান করেন এবং দৈনিক গড়ে ৯টি সিগারেট খান। তাঁদের এই অভ্যাস ১৫ বছরের পুরোনো। গারোদের মধ্যে চু নামক মদ্যপানের প্রথাও রয়েছে, যা তাঁদের সংস্কৃতির অংশ।

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দেখা গেছে, গারোদের মধ্যে কেউই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন। তবে ২১ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ ছিল এবং ২৯ শতাংশের ওজন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। গারো নারীদের মধ্যে স্থূলতা বেশি, কারণ তাঁরা পুরুষের তুলনায় কম কাজ করেন। এটি তাঁদের মাতৃতান্ত্রিক সমাজের বৈশিষ্ট্য।

এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা তাঁদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের কাছে যান না। গারোদের মধ্যে অসংক্রামক রোগ বিষয়ে ধারণা কম। অনেকেই ফাস্ট ফুড বা প্রস্তুত খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। গবেষকদের মতে, প্রান্তিক মানুষরা অসংক্রামক রোগে অসামঞ্জস্যহীনভাবে ভোগেন এবং গারোরাও এর ব্যতিক্রম নন।

শিশুরা সমস্যার বলয়ে

বাংলাদেশের শিশুদের পুষ্টি নিয়ে দুটি বিপরীতধর্মী সমস্যা রয়েছে: কিছু শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে, আর কিছু শিশু অতিপুষ্টির শিকার। গবেষকরা ঢাকা শহর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজারের ৩৫টি স্কুলের ১,৭১৭টি শিশুর পুষ্টি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছেন। এই শিশুদের বয়স ছিল ৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ১০টি স্কুল ছিল ঢাকায়, ১২টি গাজীপুরে এবং ১৩টি স্কুল ছিল মৌলভীবাজারে। গাজীপুরের স্কুলগুলো উপশহর এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্ধেক ছেলে এবং অর্ধেক মেয়ে। ৫০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ৬৭ শতাংশ নিয়মিত হাঁটতে হাঁটতে স্কুলে যায় এবং ৭২ শতাংশ বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের শিক্ষার্থীদের ২৩ শতাংশের ওজন বেশি এবং ১৮ শতাংশ স্থূল। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অতি ওজন এবং স্থূলতার হার যথাক্রমে ৮ শতাংশ এবং ৩ শতাংশ। ইংরেজি মাধ্যম বা ইংরেজি ভার্সনে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থূলতা ও অতি ওজন বেশি। ব্যক্তিগত গাড়ি বা রিকশায় যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও স্থূলতা ও অতি ওজন বেশি। ঢাকার শিক্ষার্থীদের ৫০ শতাংশ জানিয়েছে, তাদের স্কুলে খেলাধুলার সুযোগ নেই, যেখানে গাজীপুর ও মৌলভীবাজারের অধিকাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছে, তাদের স্কুলে খেলাধুলার সুযোগ আছে। ঢাকার শিক্ষার্থীরা বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে।

এই গবেষণায় শিশুকালের স্থূলতার সঙ্গে আচরণের সম্পর্ক খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। গবেষকরা মনে করেন, স্থূলতা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, যা নিম্নমানের খাদ্যাভ্যাস ও ত্রুটিপূর্ণ জীবনযাপন পদ্ধতির ফলে হয়। স্থূলতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

সরকার কী করছে, কোথায় কমতি

১৬টি গবেষণাকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যার শেষ ভাগে অসংক্রামক রোগ নিয়ে সরকারি নীতি বিশ্লেষণবিষয়ক দুটি প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি প্রবন্ধে সরকারের করণীয় বিষয়াবলি এবং অন্যটিতে প্রয়োজনীয় করণীয় বিষয়াবলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, প্রতিকার ও এর ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু কর্মসূচি, পরিকল্পনা ও কৌশলপত্র রয়েছে। এর অধিকাংশ চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। এ কর্মসূচির আওতায় একটি কর্মপরিকল্পনা (অপারেশন প্ল্যান) বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে বিনা মূল্যে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ওষুধ দেওয়া শুরু হয়েছে।

তবে গবেষকরা দেখেছেন, অসংক্রামক রোগের অপারেশন প্ল্যানে প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টি অস্পষ্ট। কমিউনিটিতে রোগ শনাক্তকরণ বা সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এছাড়া অনেক কাজের কথা বলা হলেও সমন্বয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই। জাতীয় ক্রীড়া নীতিতে (২০১৩) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার জন্য উন্মুক্ত স্থান রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়নি। অন্যদিকে, জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি বা জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনায় অসংক্রামক রোগকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। সমস্যা যত বড় হচ্ছে, সমাধানের আয়োজন তত বেশি নয়।