বোরহানউদ্দিনে থানার সামনে ভাই ভাই গোস্ত বিতান, পথচারীদের চরম দুর্ভোগ
আবদুল মালেক, নিউজমিডিয়াবিডি.কম, বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি, ১০ মে : ভোলার বোরহানউদ্দিন থানা কমপ্লেক্সের সামনে গড়ে উঠেছে ভাই ভাই গোস্ত বিতান। এতে প্রতিনিয়ত পথচারীরা চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই গড়ে উঠে এ গোস্ত বিতানটি। এ ঘটনায় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অপরদিকে এ গোস্ত বিতানটি গড়ে উঠার জন্য থানা স্যানেটারী ইন্সিপেক্টর, পৌর কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন একে অপরকে দুষলেন। কিন্তু গত এক মাসে এ বিরুদ্ধে কোন কার্যকরী ভূমিকা গ্রহন না করায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্রমতে জানা যায়, পৌর শহরটিতে রাত হলেই মাইক নিয়ে রাস্তা নেমে যায় কসাইরা। তারা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য নানা ভাবে তাদের ব্যবসার প্রচার-প্রচারনা করছে। এতে পৌর এলাকাবাসী উচ্চ শব্দে অতিষ্ট হলেও প্রশাসনের তেমন কোন নজর দারী নেই। ভোর রাতেই থানার সামনে, খেয়াঘাট, পৌর বাজার, হাওলাদার মার্কেট, বোরহানগঞ্জ বাজার, কুঞ্জেরহাট, মানিকার হাট সহ উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই তারা পশু জবাই করে মাংস দেদারছে বিক্রি করছে। এক্ষেত্রে থানা স্যানেটারী ইন্সিপেক্টরের তেমন কোন ভূমিকা নেই বললেই চলে। যদিও অভিযোগ রয়েছে অনেক কসাইরা তাদের উচ্চ লাভের জন্য রোগা ও অসুস্থ কম দামে পশু ক্রয় করে এনে কোন প্রকার পরিক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই রাতে আধাঁরে ওই পশু জবাই করছে। ক্রেতারা তাদের চাহিদা মেটানোর জন্য উচ্চ দামে ওই মাংস ক্রয় করে এনে খাচ্ছেন। কিন্তু তারা জানেনা এ পশু’র মাংসটি খাওয়ার উপযোগি কিনা। এদিকে অভিযোগ রয়েছে স্যানেটারী ইন্সিপেক্টর মাসিক মাসোয়ারা নেওয়ার সুবাদে কসাই’রা ইচ্ছে মত কোন রকম প্রশাসনিক ঝামেলা ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও স্যানেটারী ইন্সিপেক্টর তা অস্বীকার করেন। অপরদিকে গত ১ মাস পূর্বে বোরহানউদ্দিন থানার ঠিক সামনে গড়ে উঠেছে আরেকটি ভাই ভাই গোস্ত বিতান। ওই কসাই খানার সামনে প্রধান সড়কের উপর তাদের পশু বেঁধে রাখেন। এতে রাস্তায় ময়লা আর্বজনায় পথচারীরা চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অপরদিকে এ গোস্ত বিতানটি গড়ে উঠার জন্য থানা স্যানেটারী ইন্সিপেক্টর, পৌর কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন সহ সকলেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গরিমসি দেখা যাচ্ছে কি কারনে তা জানা যায় নি।
একাধিক পথচারীরা জানান, আমাদের জন্মের পর এ প্রথম দেখলাম থানার ঠিক সামনে কসাই খানার দোকান। সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের পশু দেখানের জন্য রাস্তার উপর বেঁধে রাখেন। এতে আমাদের চলাফেরায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। কি আর বলবো টাকা দিলে সব জায়গায় যাহা ইচ্ছা তাই করা যায়।
এব্যাপারে থানা স্যানেটারী ইন্সিপেক্টর নাসির আহম্মেদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমার কাছে থানার সামনে ভাই ভাই গোস্ত বিতানের অনুমতি বার বার চাইলেও পরিবেশ গত দিক বিবেচনা করে আমি দেই নি। কারা তাদেরকে অনুমতি দিয়েছে তা আমি জানি না।
এব্যাপারে ভাই ভাই গোস্ত বিতানের মালিক মনিরুল ইসলামের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমরা তিন জন ভাগিদার। প্রকৃত মালিক হুমায়ন। আরেক জন রতন। তাকে থানার সামনে গোস্ত বিতানের অনুমতির কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি পৌর সভা থেকে অনুমতি নেওয়ার কথা বলে ফোনটি কেটে দেন।
