আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী কামরান ॥ সিদ্ধান্তহীনতায় বিএনপি সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন মেয়র কাউন্সিলর প্রার্থীদের তোড়জোড়

 
Print This
 

এস.এ শফি, নিউজমিডিয়াবিডি.কম, সিলেট প্রতিনিধি, ৩ মে : তফসিল ঘোষণার পর সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীদের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। কেবল প্রার্থী নয় বসে নেই তাদের কর্মী-সমর্থকরা। বর্তমান মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকেই মেয়র প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামীলীগ। এক্ষেত্রে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি পিছিয়ে রয়েছে। তবে, মেয়র প্রার্থীতার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় শুভাকাঙ্খীদের সাথে বৈঠক আহবান করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর সমর্থকরা।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এজহারুল হক জানিয়েছেন, গত বুধবার থেকে মনোনয়ন পত্র বিতরণ শুরু হবে। ভোট কেন্দ্র নির্ধারণসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যস্তা শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী সিলেট সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের ৪ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আগামী ১৫ জুন শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার মোট ভোটার ২ লাখ ৯১ হাজার ৭৭ জন। গত সিটি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪শ’ ৮০ জন। গত নির্বাচনের তুলনায় এই নির্বাচনে ৩৪ হাজার ৫শ’ ৭৭ জন ভোটার বেড়েছে। গত বুধবার সরকারী ছুটির দিনেই দক্ষিণসুরমার আলমপুরস্থ আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে মনোনয়নপত্র ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। ১২ মে রোববার পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হবে। মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে ১৫ ও ১৬ মে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ মে। গত সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ নির্বাচনের এই তফসিল ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নড়েচড়ে বসেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নগরীর প্রতিটি পাড়া মহল্লায় আসন্ন সিটি নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। সম্ভাব্য মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীর্রাও তাদের সমর্থকদের সাথে নিয়ে বাড়ী-বাড়ী ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ইতোমধ্যে মেয়র পদে দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। গত শুক্রবার রাতে মহানগর আওয়ামীলীগের কর্মী সভায় দলের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এম পি ও সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ঘোষণা দেন বর্তমান মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আওয়ামীলীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী। সভায় দলের মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীর্দের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। একক প্রার্থী থাকায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে এক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয়নি। নানা ইস্যুতে সরকারের শেষ সময়ে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থী দেয়া হলে এবার চমক দেখানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী। জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে মেয়র পদে নির্বাচনে আগ্রহী বিএনপি নেতারা নগরীতে বিলবোর্ড- পোস্টার সাটিয়ে জানান দেন। মেয়র পদে বিএনপির বেশ কয়েক নেতার নাম বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসে। এর ফলে দলটির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয় আসলে কে প্রার্থী হচ্ছেন কিংবা দলীয় হাই কমান্ড কাকে মনোনয়ন দিচ্ছেন। নেতাদের মধ্যে এনিয়ে দ্বিধাবিভক্তি থাকলেও দলের কর্মী-সমর্থকরা চাইছেন ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ‘নিখোঁজ’ এম. ইলিয়াস আলীসহ বিভিন্ন ইস্যু কাজে লাগাতে হলে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দিতে হবে। ঐক্যবদ্ধ না হলে অতীতের ফলাফল আসতে পারে বলেও আশংকা তাদের। এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর সমর্থকরা আগামী শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারে বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকে মেয়র পদে আরিফুল হক চৌধুরীকে প্রার্থী করার ব্যাপারে আলোচনা করা হবে। এছাড়াও বিএনপি নেতা নাসিম হোসাইন, আব্দুল কাইয়ূম জালালী পংকি, কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে মেয়র পদে দেখতে তাদের কর্মী-সমর্থকরা নগরীতে বিলবোর্ড-পোস্টার টানিয়েছেন।
জানা গেছে, এর বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীদের নাম এখনো আলোচনায় আসেনি। যদিও বিগত সিটি নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্য প্রায় সকল দল তাদের প্রার্থী দিয়েছিলেন। এদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ শাখাওয়াত হাসান জীবন বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ৪ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে কিনা এ সিদ্ধান্তের পরই দলের প্রার্থীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এখনো দলীয় হাই কমান্ড এবিষয়ে কোনো আলোচনা করেনি। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, বর্তমান মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানই আওয়ামীলীগের প্রার্থী। ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অতীতেরন্যায় এ নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের প্রার্থী বিজয়ী হবেন। আমরা এ লক্ষ্য নিয়েই কাজ শুরু করেছি। জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট সোমবার সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মেয়র পদে ১৫, কাউন্সিলর পদে ১৯৭ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ঐ নির্বাচনে ১২০টি ভোট কেন্দ্রে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩শ’ ৬২ জন্য ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে কারান্তরীন মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আনারস প্রতীকে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪শ’ ৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ ফ ম কামাল টেলিভিশন প্রতীকে পান ৩২ হাজার ৯৭ ভোট। এছাড়াও মাছ প্রতীকে বিএনপি’র আব্দুল হক (এম এ হক) পেয়েছিলেন ২৩ হাজার ৪শ’ ৮৭ ভোট, রিকসা প্রতীকে বাবরুল হোসেন বাবুল ৩ হাজার ৬শ’ ৯২ ভোট, দোয়াত কমল প্রতীকে মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী ২ হাজার ৫শ’ ৬৫ ভোট, বাঘ প্রতীকে মোঃ কুনু মিয়া ২ হাজার ৩শ’ ৬৯ ভোট, ছাতা প্রতীকে আব্দুল মুকিত খান ২ হাজার ৭৭ ভোট, তালা প্রতীকে আব্দুস সামাদ নজরুল ৯শ’ ৪৭ ভোট, চাকা প্রতীকে সৈয়দ মুহিবুর রহমান ৯শ’ ৪৪ভোট, টেবিল প্রতীকে সৈয়দ আলী আফসার ৮শ’ ৪৮ ভোট, চেয়ার প্রতীকে কাজী কামাল আহমদ ৭শ’ ৩০ ভোট, দেয়ালঘড়ি প্রতীকে ছালাহ উদ্দিন রিমন ৪শ’ ৭০ ভোট, হাঁস প্রতীকে বশির আহমদ ৩শ’ ৯৬ ভোট, চশমা প্রতীকে সৈয়দ হাবিবুর রহমান হিরণ ৩শ’ ৫৪ ভোট ও কাপ পিরিচ প্রতীকে এম কুতুব উদ্দিন আহমদ ২ শ’ ৭ ভোট পেয়েছিলেন।
সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার এজহারুল হক সিলেটের ডাককে বলেন, আজ থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণের পাশাপাশি আনুষাঙ্গিক সকল কাজও পুরোদমে শুরু হবে। ভোট কেন্দ্র নির্ধারণ, প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক, পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণসহ সকল কার্যক্রম কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হবে। নির্বাচনকালীন স্টাইকিং ফোর্স মাঠে থাকবে। অবাধ, সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্নের জন্যে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

নিউজমিডিয়াবিডি.কম  / May 3, 2013 9:52 pm
 
 
 
 
 
 



Hit Counter provided by technology reviews